শিরোনাম :
৩ বছর ধরে কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার : পড়ে আছে প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন কক্সবাজার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন কলাতলী মোড়ে বসবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য কোথায় হারালেন সেই ইমরান এইচ সরকার ? রামুতে সুফল প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন পরিকল্পিত, নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার মাদক মামলা নিষ্পত্তিতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল হবে : জেলা জজ উখিয়ায় রোহিঙ্গা মাঝিকে গুলি করে,কুপিয়ে হত্যা করেছে রোহিঙ্গারা ভিসা দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দূতাবাসের ২ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করল সৌদি

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আসছেন  : উৎসবের নগরী এখন কক্সবাজার

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২
  • 121 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান,
চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন উন্নয়নের উপহার নিয়ে সমুদ্র শহর কক্সবাজারে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কক্সবাজার উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ২৮ টি দেশের নৌ শক্তি মহড়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী পরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
জনসভাকে কেন্দ্র করে পাল্টে গেছে সমুদ্র নগরীর চিত্র, পুরো শহরজুড়ে করা হয়েছে সাজসজ্জা, রাতে করা হচ্ছে লাইটিং। উৎসবের আমেজ শহরের প্রতিটি প্রান্তে। কারণ, দীর্ঘ ছয় বছর পর আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শহর ও উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক কর্মযজ্ঞ চলছে, এখন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী। সমাবেশ সফল করতে গত ১০ দিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজারের আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা।
তারা বলছেন, এই জনসভায় স্মরণকালের জনসমাগম ঘটবে।শহর ও জনসভাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সংস্কার হচ্ছে রাস্তা
-ঘাট। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেওয়াল লেখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। চলছে মাইকিংসহ প্রচার-প্রচারণাও। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছেন কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী- ৮৫৮.০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শেষ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রামুতে বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কক্সবাজারে ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম উন্নয়ন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুতুবদিয়ায় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ও বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ এবং কলাতলী উদ্যান নির্মাণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের আওতায় জোয়ারিনালা শেখ হাসিনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন নির্মাণ, আব্দুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতায় ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ৩ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক বহি:বিভাগ ভবন নির্মাণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালযয়ের আওতায় কক্সবাজার জেলার লিংক রোড-লাবনী মোড় সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীরদ্বীপ অংশ পুন:নির্মাণ, প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ।
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে নগরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, জনসভা মঞ্চ ঘিরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠের চারপাশে এবং ভেতরে টহল দিচ্ছেন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ আকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইন প্রায় দৃশ্যমান, এছাড়াও যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে কক্সবাজারসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে।
এ ব্যপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারের মানুষ না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী সব কিছু দিয়েছেন। বর্তমানে কক্সবাজার আর্র্ন্তজাতিক বিমান বন্দর, রেল লাইন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, সাবরাং এক্সক্লোসিভ ট্যুরিজম জোন, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, মেডিকেল কলেজ, সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল স্টেডিয়াম, বিকেএসপি, খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, শেখ হাসিনা নৌ ঘাটি, হাই-টেক পার্ক, জাতীয় সমুদ্র গবেষনা ইনন্সিটিটিউট, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কক্সবাজার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে নতুন করে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সংযুক্তিকরণ, কক্সবাজারের সাথে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাঁকখালী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া মগনামার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুকরণ, কক্সবাজার পর্যটন গবেষনা ইনস্টিটিউট, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ছয় লেনের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়ক, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারিকরণের দাবি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত ১০ দিন ধরে এই কর্মযজ্ঞ চলছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের মানুষের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কক্সবাজার জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভা উপলক্ষে শহরে নতুন সাজে সেজেছে। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর আসার অপেক্ষায় রয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে কর্মী সমর্থকরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন।
কক্সবাজার সদর আসনে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন,গত ১৪ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে যে উন্নয়ন করেছেন বিএনপি সরকারের আমলে সারা দেশের বাজেট ছিল তার চেয়ে কম। অনেক প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন হয়ে গেছে তার সুফল পাচ্ছে মানুষ। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে,বিশেষ করে রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের অপার পযটন সম্ভবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে কক্সবাজারের স্বরণ কালের অতৈহাসিক সভা। ইতি মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশ স্থলের পাশে পৌছে গেছে। কয়েক লাখ মানুষ সকালের মধ্যে চলে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT