২৬ টাকায় ধান, ৩৫ টাকায় চাল কিনছে সরকার

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯
  • 305 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে সরকারি ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান চাল কেনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২৩ মে সকালে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ধান চাল কেনা কর্মসূচী উদ্বোধন কালে জেলা প্রশাসক বলেন,বর্তমান সরকার কৃষকদের পাশে আছে,ভয়ের কোন কারন নেই আর বর্তমান সরকারের চেয়ে কৃষি বান্ধব সরকার আর হতে পারেনা। অতীতের সরকারের সময় কৃষকরা সারের দাবীতে আন্দোলন করতে গিয়ে গুলি খেলে নিহত হয়েছে আর বর্তমান সরকার কৃষকদের সব কিছুতে ভূর্তকি দিচ্ছে। এছাড়া কৃষি কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্নয় থাকার কারনে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ন হতে পেরেছে দেশ। তিনি বলেণ,সরকারি ভাবে ধানচাল কেনার যে কর্মসূচী শুরু হয়েছে এখানে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না,কোন কৃষক যাতে হয়রানী না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তিনি। অনুষ্টানে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেণ,কৃষকরাই হচ্ছে দেশের প্রাণ,কৃষি এবং কৃষক বাচঁলেই দেশ বাঁচবে।তাই কৃষকদের জন্য সব কিছুতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং সামনে আরো হবে। তিনি বলেণ,বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য সব সময় আন্তরিক ছিল এখনো আছে তাই ভয়ের বা সংকার কোন কারন নেই। আপনাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ন্যায্য মূল্য অবশ্যই পাবেন। এখানে কোন মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ভিড়তে না দেওয়ার জন্য তিনি আহবান করেন। সভায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেব দাশ চাকমা বলেণ,সরকার ২৬ টাকা কেজী দরে ধান এবং ৩৫ টাকা কেজী দলে চাল কিনবে। জেলায় এ বছর ১৬৩৯ মেট্রিক টন ধান এবং ৫৩৩৯ মেট্রিক টন চাল কিনবে বলেও জানান তিনি। আর প্রতিটি উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল কেনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এবং ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ছালাউদ্দিন বলেণ, কক্সবাজার সদর উপজেলাতে চলতি বছর ২০৩ মেট্রিক টন ধান(২৬ টাকা)কেজী দরে এবং ৫৪৫ মেট্রিকটন চাল(৩৫টাকা) কেজী দলে কিনতে। তবে ধানের মান ভাল থাকবে হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম মাহফুজুর রহমান, খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন,উপজেলা কৃষি অফিসার জিবাংশু দাশ,খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন।
এদিকে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেণ,চকরিয়া উপজেলায় ইতি মধ্যে ১০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়ে গেছে। এবং সরকারি ভাবে এই কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তিনি বলেণ,বাংলাদেশের কৃষকরা অত্যন্ত উৎপাদন মুখি এবং সফল কৃষক। আগের চেয়ে জমি কমলেও ফসল উৎপাদন বেড়েছে। আগে প্রতি কানিতে যে পরিমান ধান হতো এখন তার চেয়ে ডাবল হয়। আর সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল কেনার ফলে সাধারণ কৃষকরা খুবই খুশি। অনেক কৃষক আবেগে কান্না করছে। তাদের উৎপাদিত ফসলের ভাল দাম পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
এদিকে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে প্রান্তিক কৃষকরা এ ব্যপারে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়া পাড়ার শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেণ,আমার কাছে প্রায় ১২০০ আরি ধান মজুদ আছে,কয়েকদিন আগেও ধানে দাম ছিল আরি(১০কেজী) ১৪০ টাকা সে জন্য ধান বিক্রি না করে রেখে দিয়েছিলাম। তবে ধান রাখতে খুবই সমস্যা হচ্ছিল। সে প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারে যে কৃষকদের কাছ থেকে আরিতে ২৬০ টাকা করে ধান কিনছে এই খবর শুনে আমরা খুবই আনন্দিত। এতে আমাদের খরচ বাদে কিছু লাভ থাকবে এবং সামনে আরো উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে ধান চাষ করতে পারবো। এ সময় আরেক কৃষক নুরুল হুদা বলেণ,এখানে একটি সমস্য আছে সেটা হচ্ছে ধান বিক্রি করতে গেলে কর্মকর্তারা বলে ধানের মান ঠিকনেই ধানে চিকা বেশি তাই এই ধান কেনা যাবেনা। পরে দেখা যাচ্ছে তারা কিছু বাড়তি টাকা পয়সা দাবী করে সেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে ধান কিনে।
এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হেসেন বলেণ,কৃষকাদের কাছ থেকে ধান চাল কেনা এটা একটি বড় সফলতা এবং ভাল সরকারের ভাল উদ্দোগ এখানে কোথাও সামান্যতম অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোন কর্মকর্তা কর্মচারী কোন অন্যায় করলে সাথে সাথে আমাকে জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT