১০ হোটেল রুমে ৩০ দালালদের চেম্বার

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৯
  • 197 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রুম নিয়ে নিয়মিত অফিস করে জমি অধিগ্রহনের কাজ করছে অসংখ্য দালাল। মহেশখালী সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে জমির ক্ষতিপূরন নিতে আসা লোকজন জেলা প্রশাসকের এল এ শাখার বদলে বিভিন্ন হোটেলের রুমে দালালদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ সব হোটেল রুমে এলএ শাখার গুরুত্বপূর্ন নথি এবং সার্ভেয়ার কাননগোর রিপোর্ট এমনকি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষক করা কাগজ পত্র দেখা গেছে। এবং সন্ধ্যা বা মাঝ রাতে অনেক সার্ভেয়ার এসব হোটেল রুমে এসে কাগজ পত্র দেখা সহ আর্থিক লেনদেন করে বলে ও জানা গেছে। সচেতন মহলের দাবী মূলত দালালদের কারনে জেলা ভুমি হুকুম দখল অফিসের বদনাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। এর এসব মধ্যসত্বভোগীরা সাধারণ মানুষকে অনেক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই দ্রুত এসব দালালদের আটকের জন্য হোটেল গুলোতে অভিযান চালানোর দাবী জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মহেশখালী থেকে আসা ৪/৫ জন মুরব্বি গোছের মানুষ নুর এ ছকিনা হোটেল কোথায় জানতে চাইলে উনাদের হোটেলের ঠিকানা বলার পর কৌতহল বসত উনাদের সাথে গিয়ে দেখা গেছে সদর থানার পেছনে অবস্থিত নুর এ ছকিনা হোটেলে আছে দালাল জাকারিয়া(কালারমারছড়া),রমজান ও মমতাজের অফিস তারা দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে সাধারণ মানুষের কাগজপত্র নিয়ে এলএ অফিস থেকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার কাজ করছে। হোটেল ম্যানেজার বলেন,২০৮,২১৮ নাম্বার রুমে অনেক দিন ধরে দালালরা অফিস নিয়ে এই কাজ করছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সিনেমা হলের পাশে গার্ডেন হোটেলে রুম নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে জমি অধিগ্রহনের কাজ করেআসছে জসিম উদ্দিন হোয়ানক,আমান উল্লাহ হোয়ানক এবং ইব্রাহিম(ইতি মধ্যে আটক হয়েছে) তারা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে এলএ ও ভুমি অফিসের বিভিন্ন কাজ করে। তার পার্শ বর্তি হোটেল সৌদিয়াতে ৫ নাম্বার রুমে বিশাল অফিস করে বিপুল পরিমান ফাইল নিয়ে রিতিমত চেম্বার খুলে বসেছে তাজুল ইসলাম নামের শীর্ষ দালাল। জানা গেছে ইনানী এলাকার সব চেয়ে বড় দালাল হোসন এখন চেম্বার খুলে বসেছে আসাদ কমপ্লেক্সের পাশে বিহারী ডাক্তারের অফিস সংলগ্ন,এছাড়া শহরের উপজেলা গেইট সংলগ্ন নাপ্পনজা পাড়া জাহাঙ্গির,আলী,উপজেলার আমিন সব চেয়ে বড় দালাল হিসাবে কাজ করে। এছাড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার এবং এজাহার মিয়ার ছেলে হামিদ অন্তত শতাধিক চেক করিয়ে অর্ধ কোটি টাকা আত্বসাৎ করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। গতকাল সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে মহেশখালী কালারমারছড়া নজির আহাম্মদ বলেণ,আমার বেশ কিছু জমি সরকার অধিগ্রহন করেছে। আমার ভাইরাও তাজুলের কাছে কাজ করেছে সে জন্য আমি ও এখানে এসেছি। তিনি বলেন,২৫% থেকে ৩০% ছাড়া কথাও বলেনা। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাজসেবা হোটেলের পাশে হায়দার বিল্ডিংএর নীচে অফিস নিয়ে বসে এলএ অফিসের কাজ করে দোলোয়ার হোসেন,ও শহিদুল্লাহ এবং পৌরসভা রেষ্ট হাউজের পাশের বিল্ডিং এ জালাল উদ্দিন অফিস খুলে বসে কাজ করে। এছাড়া বদরমোকাম মসজিদের পাশে বিশাল অফিস নিয়ে কাজ করে মাতারবাড়ির বাবর চৌধুরী। এছাড়া হোটেল আল আমিনে আমানউল্লাহ,মামুন,হান্নান, সমিতির পাড়ার মৌলবী জাকারিয়া,পেশকার পাড়া এলাকার মুবিন,ঢাকা হোটেলের নীচে অসংখ্য দালাল নিজস্ব চেম্বার খুলে বসেছে। এছাড়া মৌসুমি হোটেলে বসে দালালদের আখড়া সেখানে আশপাশের কম্পিউটার দোকান গুলোতে দিনে রাতে দেখা মিলে এলএ শাখার বেশির ভাগ কাগজ পত্র। এমনকি সার্ভেয়ার কাননগো দের স্বাক্ষর করা রিপোর্ট ও পাওয়া যায়। হোটেল নিরিবিলিতে নীচ তলায় এক আইনজীবির চেম্বারের সাইনবোর্ড দিয়ে ভেতরে চলে এলএ শাখার দালালির কাজ,এছাড় ৪র্থ তলায় শহরের সব চেয়ে বড় ছালাউদ্দিনের চেম্বার রয়েছে বলে জানান অনেকে। এদিকে বিভিন্ন হোটেলের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মুলত মাসিক ভাড়ায় এসব রুম নিয়েছে এবং অনেকে যে কোন একজন আইনজীবির নাম ব্যবহার করে কিন্তু এখানে কোন আইনজীবি আসেনা। বরং এলএ অফিসের দালালরাই এখানে বসে কাজ করে এবং মাঝে মধ্যে অনেক সার্ভেয়াররা এখানে আসে বলে জানান তারা। প্রায় ১০ টি হোটেলে অন্তত ৩০ জন শীর্ষ দালাল রুম নিয়ে বসে কাজ করে বলেও জানান তারা।
এ ব্যপারে স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ বড়–য়া অপু বলেন,খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হলেও অনেক মুরব্বি মানুষকে দেখি হাতে ফাইল নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে। এবং রাতে বাড়ি ফেরার সময়ও দেখি অনেক মানুষ বিভিন্ন হোটেলের সামনে ফাইল নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি এরা সবাই জমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত কাজে আসে। আমি মনে করি দালালরা তাদের নিজস্ব লাভের জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে কোথায় একটাকা খরচ হলে তারা সেখানে ৫ টাকার হিসাব দিয়ে সাধারণ মানুষ কে হয়রানী করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়।
মহেশখালী কুতুবজোম এলাকার ভুক্তভোগী উজির আলী,নজিবুল আলম সহ অনেকে বলেন,মূলত আমরা নিরুপায় হয়ে দালালের কাছে আসি। কেউ খুশি হয়ে দালালের কাছে আসেনা। আমরা কাগজ পত্র নিয়ে অনেক দিন ডিসি অফিসে ঘুরেছি কেউ আমাদের কথা শুনেনা। সব সময় ব্যাস্ত দেখায় সার্ভেয়াররা। অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে ঠিকই সব কাজ হয়। তাছাড়া অনেকে নামে বেনামে অভিযোগ নিয়ে হয়রানী করে তাই বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে করে কোন মতে শেষ করতে চাই। পরে আমাদের চেয়ারম্যান বলেছে এসব দালালের সাথে যোগাযোগ করার জন্য শুনেছি তিনিও নাকি এখানে আসে, তাদের দাবী দালালরাও অফিস খরচ বাদে প্রায় ৫% রেখে দেয়। মোট কথা চারিদিকে আমরাই ক্ষতিগ্রস্থ। এছাড়া মহেশখালী কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান এবং তার নিকট আত্বীয় সজনও বড় দালাল হিসাবে কাজ করে বলে জানান অনেক ভুক্তভোগী।
এ ব্যপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফুল আফসার বলেন,দালালের কারনে অনেক খেত্রে বদনাম বাড়ছে কোন দালালকে ছাড় দেওয়া হবেনা। ইতিমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন হোটেল বা অন্য যেখানে এসব কাজ করছে সেখানেও প্রয়োজন হলে অভিযান চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT