স্কুল কলেজে ক্লাস না হলেও বেতন-পরীক্ষার ফি মাফ নাই

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১
  • 258 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
স্কুল বন্ধ ক্লাসও হচ্ছে না তবুও নিয়মিত স্কুলের কলেজের বেতন দিতে হচ্ছে অভিবাবকদের। বিশেষ করে কেজি স্কুল গুলোতে কোন ছাড় নেই। আবার কিছু স্কুলে অর্ধেক বেতন নিলেও মার্চ মাস থেকে সম্পূর্ন বেতন দিতে হবে বলে জানিয়েদিয়েছে অভিবাবকদের। এতে চরম সাধারণ শিক্ষার্থী সহ অভিবাবকদের মাঝে চরম ক্ষোবের সঞ্চার হলে কাউকে কিছুই বলতে পারছেনা। আর প্রশাসনও নিশ্চুপ তাই মারাত্বক ক্ষতির মুখে পড়ছে অভিবাবকরা। তাই এ ব্যপারে দ্রæত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের অভিবাবকরা।
শহরের ঘোনারপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি সাইফুল ইসলাম জানান,আমার ৩ মেয়ের মধ্যে ১ জন কলেজে এবং বাকি ২ জন স্কুলে পড়ে করোনা কালীন সময়ে আমার আয়রোজগার অর্ধেকের চেয়ে কমে গেছে। এর মধ্যে ঘরে যে অল্প টাকা জমানো ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে কোন গত এক বছরে স্কুল কলেজ না খুললেও প্রতি নিয়ত বেতনের জন্য ফোন করে এবং বাধ্য হয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। গতকালকেও তিন জনের বেতন বাবদ প্রায় ২৫০০ টাকা দিয়েছি। আপনারা বিশ^াষ করেন সব টাকা কর্জ করে দিয়েছি। একই এলাকার নাজমা আক্তার নামের আরেক অভিবাবক বলেন,২০২০ সালে মার্চ মাস থেকে স্কুল কলেজ বন্ধ। তবে কোন স্কুলের বেতন বা পরীক্ষার ফি বন্ধ নাই,বিশেষ করে কেজি স্কুল গুলোতে মাসের শেষ না হতেই ফোন করে বেতন দেওয়ার জন্য। একই সাথে পরীক্ষার ফি,আমরা জানতে চাইলে তারা বলে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে আপনারা সেখানে লেখাপড়া করান,তবে এ পর্যন্ত তাদের অনলাইন ক্লাস আমার ছেলেমেয়েরা একটাও পায়নি। মাঝে মধ্যে দেখলেও নেটওয়ার্ক সমস্যা বা অন্যান্য জটিলতার কারনে দেখা হয় না। তাছাড়া অনলাইনে একই ক্লাব কয়েক বার করে করায়। মোট কথা কাজের কাজ কিছুই হয়না। কিন্তু বেতন নিতে ঠিকই নেয়। তিনি জানান,জানুয়ারী মাসে বার্ষিক পরীক্ষার ফি নেওয়ার পরে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণীতে উঠার পরে নতুন করে ফি গুলো কম নেওয়ার জন্য বল্লে ৩ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৫০০ টাকা কম নিয়েছি বাকি সব টাকা দিতে হয়েছে। এদিকে কর্মাস কলেজ,রামু কলেজ,সিটি কলেজ,ডুলাহাজারা কলেজ,উখিয়া কলেজ,হার্ভাট কলেজ সহ বিভিন্ন কলেজে পড়–য়া অসংখ্য শিক্ষার্থী বলেন,আমাদের কোন ক্লাস এখনো হচ্ছে না কিন্তু বেতন ঠিকই দিতে হচ্ছে। যারা বড়লোক বা টাকাপয়সা আছে তাদের সমস্যা না হলেও আমাদের মত গরীব বা মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েদের জন্য মারাত্বক সমস্যা হচ্ছে। আর কলেজে সামান্য বেতন কম নেওয়ার জন্য বললে দরখাস্ত কর,অমুক টেবিলে যাও তমুকের সাথে কথা বল যে ঝক্কি ঝামেলা করে তা বলার মত না। তাই আমাদের মতে সরকার একটি সিদ্ধান্ত দিলে ভায়। এদিকে মহেশখালী,কুতুবদিয়া,চকরিয়া,টেকনাফ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও স্কুল কলেজ গুলোতে একই চিত্র বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এদিকে,রেশমী প্রভা দাশ,অনিকা পাল,হ্যাপি,নাসরিক আক্তার সহ কয়েকজন কয়েকজন কেজি স্কুলের শিক্ষক জানান,করোনাকালীন সময়ে কোন মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়নি তখনো স্কুলের পরিচালক বা প্রধানরা আমাদের দিয়ে বলদের মত কাজ করিয়েছে। অনলাইন ক্লাসের না যা যা করার দরকার সব করেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নিয়েছে কিন্তু আমাদের বেতন পারলে আরো কমিয়ে দিয়েছে। অথচ পরিচালকরা স্কুলের টাকায় ঘর সংসার চালিয়েছে। কোন অভিবাবক যখন প্রতিবাদ করে ক্লাস না করে কেন বেতন দেব তখন সব পরিচালকরা বলে শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে কিন্তু বাস্তুবে শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে বেশির ভাগই নিজেদের আখের গুছিয়েছে এখনো সেই অবস্থা চলছে। কোন শিক্ষককে সামান্য বেতন বাড়িয়ে দেওয়াতো দূরের কথা অনেককে চাকরীচ্যূত করেছে। এ ব্যপারে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব হোসাইনুল ইসলাম মাতবর জানান,করোনাকালে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষকরা। যারা সরকারি চাকরী করে বা এমপিও ভুক্ত তারা কিছুটা সস্তিতে থাকলেও যে সব স্কুল কলেজের শিক্ষকদের বেতন প্রতিষ্টানিক বেতনে হয় তাদের চরম খারাপ সময় কেটেছে। কিন্তু আমার জানতে পেরেছি ঠিকই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নিয়েছে তবে শিক্ষকদের বেতন দেয়নি। বিশেষ করে কেজি স্কুল গুলোতে চরম নৈরাজ্য চলেছে এবং এখনো চলছে। এ ব্যপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল আজম বলেন,কেজি স্কুল গুলো নিজস্ব কিছু ব্যাক্তিদ্বারা পরিচালিত হয় তাই সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রন খুব কম। তবু ও কোন অভিবাবক যদি বেতন বেশি নিচ্ছে বা অন্য কোন ভাবে হয়রানী হচ্ছে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবো। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন,করোনাকালীন সময়ে কোন অভিবাবক বা শিক্ষার্থী যাতে কোন প্রকার ভোগান্তিতে না পড়ে সে জন্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। সেটা কেউ না মানলে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT