সিনহা হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য ও ৩ স্বাক্ষীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০
  • 228 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ৪ পুলিশ সদস্য ৭ জনের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এই সাতজন হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আইয়াস। র‌্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ১১ টায় শুনানির পর রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ।রিমান্ড শুনানী শেষে আসামী পক্ষের আইনজীবী মো. জাকারিয়া বলেন, র‌্যাব ৪ পুলিশ সদস্যের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। একইসাথে পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন স্বাক্ষীরও ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তিনি বলেন, তিন স্বাক্ষীকে রিমান্ডে নেওয়ার মত কোন যুক্তি ছিল না। আদালতের কাছে র‌্যাবের দাবী ছিল, ঘটনার দিন তারা চিৎকার চেঁচামেচি করেছিল। তাদের (র‌্যাব) সন্দেহ তারা (তিন স্বাক্ষী) ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। অধিকতর তথ্য এবং রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।অ্যাডভোকেট জাকারিয়া বলেন, তদন্তাধিন মামলা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। তারপরও এতটুকু বলবো, মামলাটি যথাযথভাবে ফরোয়ার্ডিং হয়নি। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করি ন্যায় বিচার হবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে।এর আগে চার পুলিশ সদস্যকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ দ্বিতীয় দফায় তাঁদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে র‌্যাব। আদালত এই চার পুলিশ সদস্যকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।গত ৩ জুলাই সিনহার সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিন কক্সবাজার যান ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় হয় টেকনাফ থানায়। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলার আসামি করা হয় সিফাতকে। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় আসামি করা হয় শিপ্রা দেবনাথকে।এদিকে ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন বাদী হয়ে একই আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরের দিন বিকেলে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।একই আদালত র‌্যাবের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতকে সাত দিনের রিমান্ড এবং অপর চার আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও এসআই লিটনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। অপর দুই আসামি এসআই টুটুল ও মো. মোস্তফা আদালতে হাজির হননি। পুলিশের দাবি, এই নামে জেলা পুলিশে কেউ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT