সিএনজি চালক তার বন্ধু খরুলিয়ার চম্পাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, মে ৮, ২০২০
  • 61 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১
কক্সবাজার গত ০৬ মে, ২০২০ খ্রিঃ তরিখে আনুমানিক রাত ১১.০০ ঘটিকায় জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার আসার সময় চকরিয়া থানাধীন পেকুয়া-চকরিয়া-কক্সবাজার হাইওয়ে এর জঙ্গলকাটা মৌলভী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ভিকটিম চম্পা বেগম (১৮), পিতাঃ রুহুল আমিন, সাংঃ খুরলিয়া, কক্সবাজার সদরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে যায়। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে এবং ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পারে ভিকটিম চম্পা বেগম একাকী তার ফুফুর বাসা চট্টগ্রাম হতে তার নিজ বাসা কক্সবাজার পেকুয়া-চকরিয়া-কক্সবাজার হাইওয়ে হয়ে আসতেছিল। যাত্রাপথে ভিকটিম চম্পা বেগম একটি রিক্সা ও দুইটি সিএনজিতে ভ্রমণ করে বলে জানা যায়। র‌্যাব-১৫ এর অনুসন্ধানকারী দলের নিকট উক্ত হত্যাকান্ডের শুধুমাত্র একজন সিএনজি ড্রাইভারের ফোন নাম্বার ছাড়া আর কোন তথ্য ছিল না। এই মোবাইল নাম্বার এর সূূত্র ধরেই প্রথম সিএনজি চালক মিজানকে খুঁজে বের করা হয়। সিএনজি চালক মিজান তথ্য দেয় যে, ভিকটিম চম্পা বেগম পেকুয়া চৌমুহনি থেকে দ্বিতীয় সিএনজিযোগে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরই মধ্যে র‌্যাব-১৫ ময়না তদন্ত এর মাধ্যমে জানতে পারে হত্যাকান্ডের পূর্বে ভিকটিম চম্পা বেগমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। এরই ধারবাহিকতায় র‌্যাব-১৫ ঘটনার পূর্ববর্তী সিএনজি চালক মিজান, পেকুয়া সিএনজি স্টেশনের লাইনম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরবর্তী বা দ্বিতীয় সিএনজি চালক অর্থাৎ উক্ত ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত মোঃ জয়নাল আবেদীন (১৮) এর অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১৫ এর চৌকস আভিযানিক দল উক্ত চাঞ্চল্যকর-বর্বরোচিত ধর্ষণ ও খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ জয়নাল আবেদীন (১৮) (সর্বশেষ সিএনজি ড্রাইভার), পিতাঃ মোহাম্মদ আলী, সাংঃ মেহেরনামা নন্দীরপাড়া, থানাঃ পেকুয়া, জেলাঃ কক্সবাজারকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযানে অভিযুক্তকে ধৃত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ জয়নাল আবেদীন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে এবং তার সহযোগী পলাতক অভিযুক্ত মোঃ সাজ্জাদ হোছাইন (৩০), পিতাঃ আব্দুল হোছাইন, সাংঃ শেখের কিল্লা ঘোনা, থানাঃ পেকুয়া, জেলাঃ কক্সবাজারসহ ভিকটিম চম্পা বেগমকে গত ০৬ মে, ২০২০ খ্রিঃ অনুমান সন্ধ্যা ০৭.১০ ঘটিকায় তার সিএনজিতে রিজার্ভ যাত্রী হিসেবে পেকুয়া চৌমুহনি থেকে চকরিয়া নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথিমধ্যে কিছুদূর আসার পর তারা সিএনজিকে বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে আবার পেকুয়ার দিকে আসতে থাকে এবং একপর্যায়ে পেকুয়ার মৌলভীপাড়া ব্রীজের এক পাশে সিএনজিটি থামিয়ে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সিএনজি চালক জয়নাল ও সহযোগী পলাতক অভিযুক্ত সাজ্জাদ উভয়ে মিলে ভিকটিম চম্পা বেগমকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চালক জয়নাল আরও জানায়- জোরপূর্বক ধর্ষন শেষে তারা ভিকটিমকে নিয়ে পুনরায় সিএনজি যোগে চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং কিছুদূর যাওয়ার পর তারা চকরিয়ার জঙ্গলকাটায় পেকুয়া-চকরিয়া-কক্সবাজার হাইওয়েতে রাত অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকায় চলন্ত সিএনজি থেকে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশেপাশে জনসাধারণ ঘটনাস্থলে ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চকরিয়া থানার পুলিশকে অবগতি করলে পুলিশ ভিকটিমের মৃতদেহ ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রস্ততের নিমিত্তে মর্গে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। পলাতক অভিযুক্ত মোঃ সাজ্জাদ হোছাইন (৩০)কে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন অধিনায়কের পক্ষে সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT