শিরোনাম :

সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে গেছেন শিল্পী প্রবীর বড়ুয়া স্মরণ অনুষ্ঠানে কমল এমপি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২০
  • 229 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

খালেদ শহীদ, রামু
‘সুখের বাসরে দ্বীপ নিভে যায়, সাথী হারা মন আজ কাঁদে বেদনায়’ আবেগআপ্লুত ভরাটকন্ঠ সংগীত শিল্পী প্রবীর বড়–য়ার। প্রয়াত শিল্পীর সুর ও কন্ঠে, কবি আশীষ কুমারের লেখা গানটি যখন বেজে উঠে স্মরণ অনুষ্ঠানে, উপস্থিত সুধীজনের কন্ঠ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। অশ্রæবিন্দু উদ্বেলিত হয়, চোখের কোণে। এমন পরিবেশে সোমবার রাতে মঙ্গলপ্রদীপ জ¦ালিয়ে রামু-কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও সংগীত শিল্পী প্রবীর বড়–য়ার স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি’র বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টায় রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আলহাজ¦ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংস্কৃতিকর্মী মাষ্টার মোহাম্মদ আলম।প্রধান অথিতি সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, সংস্কৃতির শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে। যার মধ্যে সাহিত্য নাই, যারা সাহিত্য রচনা, চর্চা করে না, তারা শব্দকোষ থেকে বঞ্চিত হন। শব্দ উচ্চারণ-আবিষ্কার থেকে বঞ্চিত হন। তাদের কথাবার্তায় ঘাটতি থাকতে পারে। প্রবীর বড়–য়া সবকিছুতেই এটার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। প্রবীর বড়–য়া সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ছিলেন, ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ ছিলেন। তিনি কখনও তার সৃজনশীলতা থেকে, সংগীতের মুলধারা থেকে অন্যধারা যায় নাই। রামু’র সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলাম, ন্যাপ নেতা সৈকত বড়–য়া, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাপস রক্ষিত, কবি ও প্রাবন্ধিক এম সুলতান আহমদ মনিরী, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা অনিল শর্মা, মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা রনধীর বড়–য়া, রামু বৌদ্ধ কল্যাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়–য়া, রাজনীতিক গোলাম কবির মেম্বার, প্রবীন শিক্ষক ফরিদ আহমদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রামু উপজেলার সভাপতি হাফেজ আহমদ, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. নবু আলম, সংস্কৃতিকর্মী পুলক বড়–য়া, প্রয়াত প্রবীর বড়–য়ার স্ত্রী মৌসুমী বড়–য়া, ছোট ভাই রামু ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুবীর বড়–য়া বুলু ও ভাইপো রামু সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পলক বড়–য়া আপ্পু প্রমুখ।সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, যে মানুষের মাঝে ধর্ম চর্চা নেই, মূল্যবোধ নেই। তাকে পা লোভ হিংসা বিদ্বেষ ঘিরে থাকে। সে মানুষ হতে পারে না। যার কাছে সংগীত-সংস্কৃতি, সংবেদনশীলতা নাই। সুর, লয়, তাল কোন কিছুই নাই, সেই মানুষের হাঁটাচলাও ঠিক থাকে না। কখন কিভাবে হাঁটতে হবে, দাঁড়াতে হবে, বলতে হবে সে জানে না। প্রবীর বড়–য়া আমাদের শিখিয়ে গেছেন, কিভাবে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, সংস্কৃতির মূলধারাকে ধরে রাখা যায়। ৬৭ বছর বয়সের মধ্যে ৫০ বছর তিনি সংস্কৃতির মশাল জ¦ালিয়ে রামু-কক্সবাজারে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে গেছেন। আজ প্রবীর বড়–য়া নেই, তার প্রতি আমি সম্মান জানাচ্ছি। নাট্য নিদের্শক স্বপন ভট্টচার্য্য বলেন, প্রবীরদা চলে যাওয়া, আমাদের জন্য বেদনার, কষ্টের। কর্মজীবন তাঁকে সংগীত থেকে দূরে টেলে দেয়নি। প্রবীরদা সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু কখনও তাঁর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার অহংবোধ দেখিনি। প্রজন্ম’র চর্চার মাধ্যমে সংগীত শিল্পী প্রবীর বড়–য়কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।সংস্কৃতিকর্মী অধ্যাপক নীলোৎপল বড়–য়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রবীর বড়–য়া স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ বেতারের সংগীত প্রযোজক বশীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে লেখা গান গেয়ে প্রয়াত সংগীত শিল্পী প্রবীর বড়–য়াকে শ্রদ্ধা জানান, চট্টগ্রাম বেতার শিল্পী রায়হান উদ্দিন। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ প্রয়াত শিল্পীর প্রিয়গানটি সমবেত কন্ঠে গেয়ে সংগীত শিল্পী প্রবীর বড়–য়াকে স্মরণ করেন, সংগীত শিল্পী উৎপলা বড়–য়া, তপন মল্লিক, মানসী বড়–য়া, সংগীত বড়–য়া, মীনা মল্লিক, জয়শ্রী বড়–য়া, ইসকান্দর মির্জা, কাকলী বড়–য়া, অসীম বড়–য়া, স্বতি বড়–য়া, মনস্বীতা বড়–য়া কুইন, মো. শরীফ, রেজাউল করিম রেজু, নীলোৎপল বড়–য়া।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT