শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা ঈদগাঁওতে শীতমৌসুমে গরম কাপড় কিনতে ক্রেতাদের ভীড় চকরিয়ায় ১০ ইউপিতে আ‘লীগ ৫ স্বতন্ত্র ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা, মহেশখালীর মেয়রসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা পিএমখালীতে ইয়াবা সহ আটক হোসেনের সিন্ডিকেট এখনো অধরা নাফ নদ থেকে ১ কেজি আইসসহ পাচারকারী আটক

শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুলের ভাই মাহমুদুল,রাশেদুল ইয়াবা ও অস্ত্র সহ আটক

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, মে ৪, ২০১৯
  • 273 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজার রিপোর্ট

কক্সবাজারের সীমান্ত শহর টেকনাফের শীলবনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও দেশের ১নং ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল করিমের দুই সহোদরকে বিপুল পরিমান ইয়াবা, অস্ত্র সহ আটক করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তাদেরকে আটক করা হয়। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ২২ হাজার পিস ইয়াবা সহ চট্টগ্রাম কতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল সাইফুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম মুন্না।
টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর নিয়ে শিলবনীয়া পাড়ার ডা. মোহাম্মদ হানিফের বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় ইয়াবা ডন সাইফুল করিমের ভাই মাহমুদুল করিম ও রাশেদুল করিমকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুল করিম মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযান শুরু হলে আত্নগোপনে চলে যান।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর হলে ইয়াবা ডন সাইফুল করিমের দুই সহোদরকে আটক করায় টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি প্রদীপ কুুুুমার দাশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলাবাসি। সীমান্ত থানা টেকনাফের বেশির ভাগ লোক ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। পিছিয়ে নেই টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকেরাও। বিভিন্ন সরকারী সংস্থার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় উঠে এসেছে টেকনাফের ১০ জন সাংবাদিকের নাম। এছাড়াও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্মের আরো ৮ সাংবাদিকেরও ইয়াবা ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইয়াবা ব্যাবসার মুখোশ ঢাকতে বা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই সাংবাদিকতা পেশাটাকেই বেছে নিয়েছেন অনেকে। অনেক বড় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছেন। মূলত আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
দেশের এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম। তিনিসহ তার ৫ ভাই ও পরিবারের ১২ জন সদস্য মিলে তৈরি করেছেন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক। আবার তাদের পরিবারেই রয়েছেন টেকনাফের প্রথম শ্রেণীর ৩ জন সাংবাদিক। এই সাংবাদিকরাই পুরো টেকনাফের সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে্ন। যার ফলে দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে সাইফুল করিমের সংবাদ তেমন প্রকাশ পায় না বললেই চলে। উল্টো দেশের শীর্ষ অনেক গণমাধ্যম সাইফুল করিমের সামাজিক কর্মকান্ডের খবর প্রকাশ করে আসছে।
টেকনাফের সাংবাদিকতার প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমের ছোটভাই রাশেদুল করিম। বৃহস্পতিবার রাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হন রাশেদুল করিম। তিনি নানা কৌশলে ও পৃষ্ঠপোষকতা করে টেকনাফের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র রাশেদুল করিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন তিনি। সার্বক্ষণিক টেকনাফে অবস্থান করে পরিবারের ইয়াবা ব্যবসাকে সাংবাদিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন। রাশেদুল করিম সিটিজিবার্তা২৪.কম নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল পরিচালনার করে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।
সরকারী বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় টেকনাফের কর্মরত কয়েকটি বেসরকারী টেলিভিশন, দেশের প্রথমসারীর কয়েকটি পত্রিকা, কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা এবং অনলাইন ও কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত কয়েকটি স্থানীয় দৈনিকের প্রতিনিধির নাম এসেছে। সরকারী সংস্থার এসব প্রতিবেদনে ওই ১০ সাংবাদিকদের ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে বেসরকারী চ্যানেলে কর্মরত টেকনাফের এক সাংবাদিকও রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়।
এদিকে, গত ২০১৮ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের হাজী সাইফুল করিমের বড় ভাই রেজাউল করিম মুন্নাকে দুই সহযোগী ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছিল পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিমের ভাই রেজাউল করিম মুন্না ও তার সিন্ডিকেটের ২ সদস্যের কাছ থেকে ২২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। রেজাউল করিম মুন্না টেকনাফের শিলবনিয়া পাড়ার হানিফ ডাক্তারের বড় ছেলে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT