শিরোনাম :

শহর জুড়ে চলছে অতিরিক্ত ভাড়া নৈরাজ্য, বিপাকে পর্যটক ও স্থানীরা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯
  • 224 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

সাকিবুর রহমান সাকিব:
পযটন রাজধানী শহর কক্সবাজার প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কের নাজুক অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে টমটম ও রিক্সার যাত্রীদের কাছ থেকে পৌরসভার নির্ধারিত মূল্য তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নৈরাজ্য।
এ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত চালক ও যাত্রী দু’পক্ষের মধ্যে ঘটছে প্রতি নিয়ত তর্কবিতকি ও মারামারির মত ঘটনা এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
তবে এই বিষয়ে পৌর-কর্তৃপক্ষ বলছে, পৌর- এলাকার মধ্যে চলাচলকারি রিক্সা ও টমটম গাড়ীর জন্য একটি সু-নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা রয়েছে। চালকদের যাত্রীদের কাছ সেই মূল্য তালিকা অনুযায়ী ভাড়া আদায় করার নির্দেশনা আছে। কিন্তু টমটম ও রিক্সা চালকরা কেউ তা মানছে না।
এদিকে পৌরসভার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও উপ-সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এসব সড়কের অধিকাংশস্থানে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়া যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় এসব সড়কে পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তে পড়ে ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা। এতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের ফলে লাগামহীন যানজটকে আরো ভাবিয়ে তুলেছে সড়কের এ নাজুক অবকে।
একে পুঁজি করে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে রিক্সা ও টমটম গাড়ীর চালকরা আদায় করছে পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া। এতে দীর্ঘ যানজটের দুর্ভোগের পাশাপাশি যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হয়রানিরও শিকার হচ্ছে।
এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ছে।
সচেতন মহল বলছে, পর্যটন শহর কক্সবাজার প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার হলেও নাগরিকরা যথার্থ সেবা হতে বঞ্চিত। প্রধান সড়কসহ শহরে অধিকাংশ সড়ক ও উপসড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরপুর এসব সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ এখন পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী। এদিকে যানজটের পাশাপাশি সড়কের নাজুক আবস্থাকে কাজে লাগিয়ে রিক্সা ও টমটম চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম।

তিনি আরো বলেন, শহরের কালুর দোকান থেকে পৌরসভা কার্যালয় পর্যন্ত পৌরসভার নির্ধারিত তালিকা মতে ভাড়া রিক্সার ২০ টাকা এবং টমটমের ৫ টাকা। কিন্তু চালকরা আদায় করছে রিক্সার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং টমটমের ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা।
এ চিত্র শুধুমাত্র কালুর দোকান থেকে লালদিঘীর পাড়ের নয়; শহরের অন্যান্য দূরত্বে যাতায়তের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখন নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা পরিনত হয়েছে। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে রিক্সা ও টমটম চালকরা পৌরসভার নির্ধারিত মূল্য তালিকায় নির্দেশনা মানছে না।
ফলে পৌর এলাকার বাসিন্দারা সহ দূর-দূরান্ত থেকেু শহরে আগত যাত্রীরা এখন রিক্সা ও টমটম চালকদের হাতে এক প্রকার জিন্মি হয়ে পড়েছে। শহরে অল্প দূরত্বের এলাকায় আর কোন গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য হয়ে এসব যানবাহনে চলাচল করতে হয়। এতে যাত্রীদের প্রতিনিয়িত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ।
পর্যটন শহর কক্সবাজারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে এর বিরূপ প্রভাব পর্যটন শিল্পের উপর পড়বে বলে মন্তব্য করেন ।
এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিয়ত তদারকি করা উচিত বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা নিয়ে কথা হয়, মনছুর আলম ও সোহাগ নামের কয়েকজন রিক্সা চালকের সঙ্গে।

তারা বলেন, শহরে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। তীব্র যানজটে পড়ে সড়কে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে হয়। এছাড়া প্রধান সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়কগুলো এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সড়ক খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরপুর। এতে গাড়ী চলানো তাদের জন্য খুবই কষ্টকর।
তাই পৌরসভার নির্ধারিত তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে তাদেয় পোষায় না বলে মন্তব্য করেন এসব রিক্সা চালক।

একই বক্তব্য টমটম চালক গুরা মিয়া তিনি বলেন, শহরের প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ রাস্থাঘাট খানাখন্দ আর গর্তে পরিণত হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে গাড়ী চালকরা। এতে প্রতিনিয়ত গাড়ী যন্ত্রাংশ বিকল ও নষ্ট হচ্ছে। যানজটে দীর্ঘ সময়ক্ষেপন আর দুর্ভোগের কারণে ভাড়া একটু বাড়িয়ে না নিলে মালিকের চাহিদা মিটিয়ে পরিবারে চাহিদা মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয়।

সড়কের বেহাল দশা আর অতিরিক্ত আদায়ের ব্যাপারে কথা হয় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, প্রধান সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ডের দায় নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষে পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের কয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যার কোন ধরণের সমাধান হচ্ছে না।
এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হবে বলে জানান কক্সবাজার পৌর মেয়র।
তবে পৌরসভার নির্ধারিত ভাড়া তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত আদায়কে নির্দেশনা অমান্য করে চালকরা গর্হিত কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT