শহরের বৈদ্যঘোনাতেই অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ি,রয়েছে নারী সিন্ডিকেট

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১
  • 291 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১
কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা নামক একটি ওয়ার্ডে’ই অন্তত্য অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয়। ওই এলাকা ইতিমধ্যে মাদকের রেড জোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আছে নারী সিন্ডিকেট।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মাছ বিক্রি, পানের দোকান, মুদির দোকান আর খাবার হোটেলের অড়ালে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। এছাড়া পাড়ার গলিগুলোতে মোটর সাইকেল, সিএনজি নিয়ে রাতবিরাতে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা রয়েছে সক্রিয়।
এছাড়া খবর নিয়ে জানা যায়, মাদকসহ প্রশাসনের হাতে আটক হয়ে জেল ফেরত মাদক ব্যবসায়ীরা পুনরায় সক্রিয় একই অপকর্মে। এছাড়া সক্রিয় রয়েছে শহরের চিহ্নিত মাদক কারবারি ক্রসফায়ার রফিকের স্বজনরা। এদিকে বৈদ্যঘোনা এলাকাটি মাদকের রেড জোনে পরিণত হওয়ায় আতংকে রয়েছে ওখানকার সচেতন লোকজন। তারা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য তারা আইনশৃংখলার অবহেলাকেই দায়ী করছেন।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে এবং এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছে কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনার জাদির পাহাড় এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে আবুল হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার প্রকাশ বাবুল। তিনি মাছ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের সাথে জড়িত। মনির আহম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম বাপ্পি প্রকাশ বাপ্পিয়া, নুরুল ইসলামের স্ত্রী খুরশিদা। খুরশিদা এলাকায় নারী গড়মাদার হিসেবে পরিচিত। গোলাম মোক্তারের ছেলে গোলাম মোস্তাফা প্রকাশ মোস্তাফা। তিনি খুবই বিচক্ষনতার সাথে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে। তার ঘরে ইয়াবার আসর বসানো হয় এবং রাত্রী যাপনের ব্যবস্তা রাখে। মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের ছেলে কাদের ও তাম্মিয়া। বৈদ্যঘোনার বায়তুল ইজ্জত মসজিদ পাড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মোঃ হিরু প্রকাশ হিরু আলম। তিনি এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। মোহাম্মদ হাসেমের ছেলে আবু তাহের, মৃত আব্বাস উদ্দিানের ছেলে নুরুল আবছার প্রকাশ আক্কাস। আক্কাস চায়ের দোকানের আড়ালে শিল্পী নামে এক নারী পাটনারকে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে। তারা মাদক ব্যবসায়ী ক্রসফায়ার রফিকের আস্থাভাজন। নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী শাকিলা আক্তার। তিনি রীতিমত ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করে, তার বর্তমান অবস্থান ডা: ছলিমুল্লার ভাড়া বাসা। আব্দুর গণি’র স্ত্রী শামীমা আক্তার। তিনি পানের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউছুফের স্ত্রী ছৈয়াদা বেগম প্রকাশ বুড়িনি। মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ করিম। তিনি মুদির দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মীর কাশেমের স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন। তিনি ক্রস ফায়ার রফিকের আপন ভাবী। বদু বাবুর্চির ছেরে মমতাজি। তিনি ডুবাই ফেরত গাম্বু’র ভাড়া বাসায় থাকেন। নাছির খান প্রকাশ ডুবাই নাছিরের ছেলে ইমরান। তিনি ভ্রাম্যমান ইয়াবা বিক্রেতা। বদু বাবুর্চির ছেলে রহিম বাবুর্চি। তিনি খুবই বিচক্ষনতার সাথে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ফজল করিমের ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রকাশ ডিস হাসান। আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল মোতালেব প্রকাশ লালু। তিনি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালায়। তার বিশ^স্থ সহযোগি হিসেবে রয়েছে কুমিল্লার অধিবাসী জনৈক স্বপন। স্বপন হলেন মৃত ক্রসফায়ার রফিকের আপন ছোট বোনের জামাতা। হাজী রমজান আলীর ছেলে মোহাম্মদ রাসেল। রাসেল গত ১৯ মার্চ ২০১৯ সালে আড়াই হাজার ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। পরে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে জামিনে বের হয়। সে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈদ্যঘোনার খাঁজা মঞ্জিল এলাকার সুলতান আহম্মদের ছেলে হামিদা বেগম প্রকাশ হামিদানী। তিনি মিয়ানমারের বাসিন্দা। নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল। তিনি ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে জামিনে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। তিনি মোটরসাইকেল যোগে ইয়াবা বিক্রি করে। মোজাহেদ আহম্মদের ছেলে জসিম প্রকাশ দাঁড়ি জসিম। তিনি বাস টার্মিনালে চাকরির আড়ালে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। পরিবহণ লাইনে থাকায় তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা প্রচার করে। তিনি খাঁজামঞ্জিলস্থ আমির হোসেন বহদ্দারের পাশের বাসায় অবস্থান করে। মোহাম্মদ আজিজের স্ত্রী শাকেরা আক্তার। তিনি সুফিয়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করে। আব্দুর শুক্কুর প্রকাশ বুতাইয়া’র স্ত্রী শিমুল। মোহাম্মদ কালু’র ছেলে মো: গিয়াস উদ্দিন। তিনিও জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা করছে। আদালত খাঁনের ছেলে মোহাম্মদ খোকন। বৈদ্যঘোনার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে মো: ফরিদুল আলম। তার স্ত্রী পারভীন আক্তার। তার সন্তান বাবুয়া। বাবুয়া ক্রসফায়ার রফিকের আপন ভাগিনা। বৈদ্যঘোনার জাব্বার গলি’র মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ হালিমের স্ত্রী নাছরিন সুলতানা আছু। তিনি ক্রসফায়ারে নিহত রফিকের বড় বোন। মোহাম্মদ করিম উল্লাহ প্রকাশ লম্বা করিমের ছেলে পাঁখি আক্তার। ইউসুফের স্ত্রী শিল্পি আক্তার প্রকাশ শিল্পি। মৃত আব্দুল জাব্বারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম প্রকাশ মনু। তিন দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে নবাব মিয়া। তিনি পানের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রসফায়ার নিহত রফিকের আপন ভাগিনা। মোহাম্মদ নবী’র ছেলে মোঃ কাজল। মোহাম্মদ সুলতান আহম্মদের স্ত্রী কহিনুর বেগম প্রকাশ মনু। তিনি ক্রস ফায়ার নিহত রফিকের আপন বড় বোন। আব্দুল করিমের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, মোহাম্মদ কাজলের স্ত্রী শাহানা আক্তার, মোহাম্মদ আমিনের স্ত্রী মোমেনা আক্তার প্রকাশ মুন্নী, মোঃ ইউনুছের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল। হাফেজ আহম্মদের ছেলে পাঁখি। তিনি নকল টাকার ব্যবসার সাথে ইয়াবা ব্যবসাও পরিচালনা করে। কাজল ধরের স্ত্রী বুলবুল ধর বেবী। তিনি সু-কৌশলে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে এছাড়া ওই এলাকার মো: ইউনুসের ছেলে রাসেল প্রকাশ হিজড়া রাসেল সহ অন্তত্য ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন মহলের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, দুঃখ্য জনক হলেও বৈদ্যঘোনা এলাকাটি মাদকের রেড জোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে অনেক আগেই। যেখানে রাত-দিন মাদক বিক্রি চলে। নানা কৌশলে দিন দুপুরেও চলে মাদক বিক্রি। মাদক বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট বড় হওয়ায় তারা কাউকে পাত্তা দেয়না। এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ির কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া গতিবিধির কারণে সাধারণ লোকজন আতংকিত।
সচেতন মহলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যঘোনা এলাকায় এই অবস্থা চলতে থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা তেমন সক্রিয় নয়। এটি প্রশাসনের অবহেলা ছাড়া কিছুই নয়।এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কক্সবাজার পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের তথ্য পাওয়া মাত্র’ই পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া যেসব জায়গা মাদকের স্পর্ট হিসেবে চিহ্নিত হবে ওখানেই পুলিশের অভিযান চলছে এবং চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT