শহরের অলিরঘোনা,জিয়ানগর সহ সর্বত্র চলছে পাহাড় কাটা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১
  • 258 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
একদিকে লকডাউন অন্যদিকে বৃষ্টি তাই পাহাড় কর্তনকারীদের জন্য এখন সুমসয়। বৃষ্টি যতবাড়ে ততবেশি পাহাড় কাটে। কক্সবাজারের পাহাড়তলী সহ একাধিক স্থানে চলছে অবিরাম পাহাড় কাটা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। একই সাথে কিছু স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি,আবার কেটে ফেলা সেই জমি দখল,সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা সহ নানান ভাবে দখল হচ্ছে পাহাড়ের জমি। বৃষ্টির পানিতে পাহাড় কাটতে বেশি সুবিধা তাই এখন খুবই আরামে পাহাড় কাটাছে তারা। প্রশাসনের কোন অভিযান না থাকায় তারা আরো বেপরোযা হয়ে উঠেছে বলে দাবী সচেতন মহলের। এমনকি অনেকে পাহাড় কাটতে বাধা দিলে উল্টো সংঘবদ্ধ ভাবে তাদের সাথে মারামারি করতে আসে বলেও জানান ভোক্তভোগীরা।
সরজমিনে শহরের পাহাড়তলী এলাকার কয়েকটি স্পটে গিয়ে দেখা গেছে,বৃষ্টির পানি যত বাড়ে পাহাড় কাটাও ততবাড়ে,এর মধ্যে পাহাড়তলীর,জিয়া নগর, অলি আহামদের ঘোনা,খুনির মাঠ, সিরাজের ঘোনা,ইসলামপুর,শাহনুরনগর,হালিমাপাড়া ,ইসুলুঘোনা সহ বেশ কিছু স্পটে চলছে পাহাড় কাটা। ২৭ জুন বিকালে জিয়া নগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বেবী আকতার নামের এক মহিলার বাড়ির পাশেই বিশাল পাহাড় কাটা,জানতে চাইলে তিনি বলেন,এখন কাটছি না আগে কেটে ছিলাম। সাথে লাগোয়া বাড়ি রোহিঙ্গা ফরিদের সেই পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করেছে,পাহাড় কাটার বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমরা পাহাড় কাটছি না,এখানে জসিম,হামিদ সহ অনেকে পাহাড় কাটছে তাদের কেউ ধরে না। তার পাশেই অলি আহামদের ঘোনায় গিয়ে দেখা গেছে,সেখানে অনেকটা উৎসব মুখর ভাবে চলছে পাহাড় কাটা, সেখানে বর্তমানেও পাহাড় কাটছে রোহিঙ্গা নুরুল ইসলাম,তার স্ত্রীর দাবী নুরুল ইসলাম পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি এই সামান্য আয় দিয়ে কিভাবে দ্বিতল টাইলস ফিটিং করে বাড়ি করেছে তার উত্তরে স্থানীয়রা জানায় ইয়াবাই হচ্ছে মুল ব্যবসা। তবে বৃষ্টির শুরু থেকে দিন রাত পাহাড় কাটছে তারা। এছাড়া পার্শবর্তী,মালয়েশিয়া প্রবাসী রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ,রোহিঙ্গা জাকারিয়া,জয়নাল আবেদীন, শুক্কর,রোহিঙ্গা বাবুল (মাছ ব্যবসায়ি) পাহাড় কেটে আলিশান বিল্ডিং তৈরি করেছে,এছাড়া তারাবনিয়ারছড়া এলাকার ফেরদৌস নামের আরেক ব্যাক্তি পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছে,একই সাথে শাহ আলম,দিল মোহাম্মদ,হাফেজ আহামদ,আবু তাহের ,হামিদ মিয়া, সহ অনেকে পাহাড় কেটে বাড়ি করছে এবং বর্তমানেই পাহাড় কাটছে।
সিরাজের ঘোনা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ছৈয়দ নুর,আবদুল্লাহ সহ কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিক পাহাড় কাটছে সাংবাদিক দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় আলাপ কালে তারা স্বীকার করেন টাকার বিনিময়ে তারা পাহাড় কাটছে,সেখানে নুর হোসেন,শুটকি ব্যবসায়ি শরিয়ত উল্লাহ,রশিদ,জমির,আলাউদ্দিন (সবাই রোহিঙ্গা) তারা সবাই স¤্রতি পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করেছে। এখানে বেশির ভাগই পাহাড় কাটার জন্য রোহিঙ্গাদের নিয়োজিত করেন নুর মোহাম্মদ নামের আরেক রোহিঙ্গা। এদিকে ইসলামপুর,শাহনুর নগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র সেখানে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে চলছে অবিরাম পাহাড় কাটা,্্এর মধ্যে পাহাড়ের জমিতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইট পাথরের দালানঘর তার মধ্যে অন্যতম ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার হওয়া রোহিঙ্গা নারী তাহেরা বেগম সহ অনেকে। এছাড়া জিয়া নগর,হালিমাপাড়াতে পাহাড় কাটছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ। এ সময় বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এখন পাহাড় কাটার ভাল মৌসুম তাই অবিরাম চলছে পাহাড় কাটা,আর সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। পাহাড়ের জমি সমতল করতে পারলে সেগুলো তারা কিনে নেয়, প্রতি ২ শতক এক গন্ডা জমি ১ থেকে ২ লাখ টাকায় কিনে নেয় তারা। পরে সেখানে প্রথমে ঝুপড়িঘর তৈরি করে থাকে পরে সেখানে আধুনীক সেমিপাকাঘর করে। এর বছর ঘুরতেই তাদের ছেলেমেয়ে বিয়ে দিয়ে আরো নতুন করে পাহাড় কেটে তা দখল করে। এখানে শুধু বৃহত্তর পাহাড়তলীতে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গার বসাবাস বলে জানান তারা। নেজাম উদ্দিন নামের একজন স্থানীয় জানান,চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রশাসন এখানে একটি অভিযানও পরিচালনা করেনি,এছাড়া লকডাউনের সুযোগে সবাই বেশি পরিমানে পাহাড় কাটছে। অনেকে ক্যাম্প থেকে তাদের আত্বীয় স্বজন এনে রাতারাতি পাহাড়ের মাটি সহ বিক্রি করে ফেলছে। এদিকে শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার ঘৃত পল্লী থেকে জানা গেছে সেখানে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী (সরকার দলীয়নেতা ) মিলে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ করে পাহাড় কাটছে। এখানে প্রতিজন লেবারকে এক রাতে ৭০০ টাকা বেতন দেয়। আর বৃষ্টির সময় বেশি লেবার নিয়োগ করে তারা। পাহাড় কেটে যে জমি বের হবে তা সেই নেতারাই ভাগ করে বিক্রি দেয়। প্রশাসনিক কোন ঝামেলা হলে সেই নেতারাই ম্যানেজ করে। এছাড়া শহরের ফাতের ঘোনা এলাকা,বাদশাঘোনা,বিজিবি ক্যাম্পের পল্লাইন্যা কাটা সহ সর্বত্র অবিরাম পাহাড় কাটা চলছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT