লোহাগাড়ার বড় হাতিয়ায় জামাল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
  • 231 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সঃ৭১
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড় হাতিয়ায় প্রভাবশালী জামাল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা এলাকায় দখলবাসী, চাঁদাবাজী, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, পাহাড়ের গাছ সাবাড়, ইভটিজিং সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এতে ওই এলাকার আইনশৃংখলার চরম অবনতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এলাকাবাসী। ভয়ংকর অস্ত্রধারী এই বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না কেউ।
এদিকে এই বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানা সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকলেও এসব পরোয়া না করে বরাবরেই দাপটের সাথে অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে এলাকায়।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, ওই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো: জামাল উদ্দিন প্রকাশ গেজু জামাল ও তার ভাই মো: আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে চলছে এই বিশাল বাহিনী। অস্ত্রধারী এই বাহিনীর লোকজন খুবই ভয়ংকর প্রকৃতির। তারা দিন দিপুরে এলাকায় ত্রাস চালায়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
জামালের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় থাকা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা নং ১৪ জিআর ৪৭৪ তারিখ-২২/১২/১৭, ধারা-৩০২/৩৪ দ:বি:। মামলা নং ১৩ জিআর নং ২২৮-তারিখ-০৯/০৯/২০১৩ ইং, ধারা-১৪৭/১৪৮/৩৬৪/৩০২/৩৪ দ:বি:। মামলা নং ৩৩ জিআর নং ২২০-তারিখ-২৯/০৯/২০১২ ইং, ধারা-১৪৭/১৪৮/৩০৭/৩২৩/৩০২/৩৪ দ:বি:। মামলা নং ০২ জিআর নং ৭১-তারিখ-০৬/০৪/২০১৪ ইং, ধারা-১৪৩/১৪৭/৩৮৫/৩৭৯/৪১১/৫০৬ দ:বি:। মামলা নং ১৮ জিআর নং ২৩৩-তারিখ-১১/০৯/২০১৩ ইং, ধারা-১৪৩/১৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬/ দ:বি:।
মামলা নং ১৪ জিআর নং ৩৪২-তারিখ-০৫/১০/২০১৪ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ দ:বি:। মামলা নং ১৪ জিআর নং ৩৪৩-তারিখ-০৯/০৯/২০১৩ ইং, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ দ:বি: মামলানং-১৩-জিআরনং-১৬৮-তারিখ-০৯/০৮/২০১২ইং,ধারা ১৪৩/৩২৬/৩২৫/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ দ:বি: সহ আরো একাধিক মামলা রয়েছে।
জামালের ভাই মো: আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় থাকা মামলা নং হল-১৪-জিআর নং-৪৭৪-তারিখ-২২/১২/২০১৭ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ দ:বি:।
এই বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার জেল ফেরত জামাল উদ্দিনের বাহিনী খুবই ভয়ংকর। তারা রাতের আঘারে গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এছাড়া স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। এছাড়া এলাকায় কেউ জায়গা ক্রয় অথব নতুন ঘর করলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়। পাহাড়ে কেউ বাগান করতে চাইলেও তাদের চাঁদা দিতে হয়। ইসলাম ফকিরের মোড়া এলাকায় তাদের আস্তানা রয়েছে। যেখান থেকে তারা ডাকাতি সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালায়। তারা যেকোন সময় সশস্ত্র এলাকায় এসে তান্ডব চালিয়ে পূণরায় পাহাড়ে ঢুকে পড়ে।
তারা নানা অপকর্মের পাশাপাশি এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টি করিয়ে দিয়ে সবসময় বিশৃংখলা সৃষ্টি করে রাখে। তারা এলাকার মতবর সরদারকে মান্য করেনা। তাদের কারণে রাত বিরাতে লোকজন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেনা। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা নিরাপদ নয়। তারা এলাকায় তান্ডব চালানোর কারণে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা আতংকিত থাকে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর সোমবার সকালের দিকে দুই সিএনজি (অটোরিক্সা) করে কুমিরাঘোনা বাজারে এই বাহিনীর ৬-৭ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে মহড়া দিতে দিতে পাহাড়ে থাকা আস্তানার দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। দিন দুপুরে এই দৃশ্য দেশে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থী বই-খাতা ও স্কুল ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়।
তাদের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অনেকে মারাত্বকভাবে হামলা শিকার হয়েছে। তাই কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদ জানান, লোহাগাড়া থানায় সদ্য নিয়োগ পাওয়ায় এই বাহিনীর বিরুদ্ধে খুব বেশি অবহিত না হলেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি আরো জানান, কোন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা। এলাকাবাসির শান্তি রক্ষার্থে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃংখলা বাহিনী। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবী এই সন্ত্রাস বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT