শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

লোকসানের ভয়ে চামড়ার ব্যবসায় রাজি হচ্ছে না কেউ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২০
  • 152 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
মাত্র ২ বছর আগেও ঈদুল আযহার সময় কুরবানীর পশুর চামড়া কিনার জন্য কয়েক দিন আগে থেকে পাড়া মহল্লা ভিত্তিক গ্রæপ তৈরি হতো। অনেকে অল্প পূজি খাটিয়ে কুরবানী চামড়ার ব্যবসা করে লাভ করতো কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই পাইকারী থেকে খুচরা পর্যন্ত কেউ আর গরুর চামড়া কিনতে বা ব্যবসা করতে আগ্রহী নয়। ঝিলংজা হাজী পাড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ি বদিউল আমল জানান,গত বছর চামড়া কিনে নগদ ১৫ লাখ টাকা লোকসা নিয়েছি এখন আর সেই ভুল করতে চায়না। আমি দরকার বলে মানুষেল বাড়িতে কাজ করে খাব তবুও আর চামড়ার ব্যবসা করার ইচ্ছা নেই। তার দাবী আমরা চামড়া কিনলে কি হবে সেটাতো ঢাকা চট্টগ্রামে বিক্রি করতে হবে। এটাতো আর রান্নার জিনিস না খেয়ে ফেলতাম। এখন পাইকারী পর্যায়ে চামড়া না কিনলে আমার কি করবো। তিনি দাবী করেন ২ বছর আগেও একটি মাঝারি গরুর চামনা কমপক্ষে ১ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে এখন সেই চামড়া আমরা ৩০০ টাকা বিক্রি করতে পারিনা। তাহলে আমরা কুরবানী দাতার কাছ থেকে কি দরে কিনবো। উখিয়ার এলাকার চামড়া ব্যবসায়ি আবদুল জলিল জানান,আমি বহু বছর ধরে কুরবানীর সময় চামড়া কিনে পাইকারী দরে চট্টগ্রাম এবং ঢাকাতে বিক্রি করতাম তবে গত ২ বছর ধরে এত বেশি লোকসান দিচ্ছি যা ভাষায় প্রকশ করতে পারবো না। আমি গত বছর ১০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছি। স্থানীয় ভাবে বেশি দরে চামড়া কিনেছি এখন ডিলাররা আমাদের কাছ থেকে কিনতে চায়না। পরে মনে করেছিলাম দেরি হলে দাম বাড়বে তাই লবণ দিয়ে কয়েক মাস রেখেছি তার পরও দাম বাড়েনি পরে লোকসান দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছি। এদিকে শহরের টেকপাড়া,পেশকারপাড়া,বাহারছড়া থেকে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে আগে কুরানীর সময় আসলে কয়েকজন বন্ধ বান্ধব মিলে পূজি খাটিয়ে এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে তা আবার ভ্রাম্যমান পাইকারী বাজারে বিক্রি করে অল্প করতাম কিন্তু এখন চামড়া দাম একেবারে নেই তাই চামড়ার ব্যবসা করতে কেউ আগ্রহি হচ্ছে না। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের রহমানিয়া মাদ্রাসা একজন শিক্ষক জানান,আমাদের মাদ্রাসায় প্রায় ৩০০ এতিশ শিশু লেখাপড়া করে এছাড়া আরো যারা আছে বেশির ভাগই গরীব।তাই প্রতি বছর কুরবানীর সময় আসলে চামড়া সংগ্রহকরে সেই চামড়া আমরা বিক্রি করে মাদ্রাসা ফান্ডে জমা করতাম এতে বছরের কয়েক মাসের খরচ চলে যেত। এমনকি আগে ৬/৭ লাখ টাকা জমা হতো। কিন্তু এখন চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারনে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি কারন মানুষ চামড়া দিলেও সেটা বিক্রি করে ১ লাখ টাকাও পাওয়া যায় না। শুধু আমরা নয় জেলার অসংখ্য মাদ্রাসা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমাদের মতে চামড়ার দাম যাতে না করে সে দিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার।
এদিকে চট্টগ্রামের ট্যানারী মালিক সমিতির সহ সম্পাদক আতিক চৌধুরী জানান,আমাদের জানা মতে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বাংলাদেশের চামড়ার বাজার ধংস করা হচ্ছে। কারন বাংলাদেশের চামড়ার মান ভাল কয়েক বছর আগেও চামড়া খাতে আমাদের বৈদেশি মুদ্রা আয় হতো কিন্তু এখন উল্টো সেই চামড়া এখন নদীতে ফেলে দিতে দেখেছি আমরা । কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক আবদুল খালেক বলেন,আমাদের স্বণির্ভর খাত গুলো কেন দিন দিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সে দিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার। ২ বছর আগে যে চামড়া ছিল একটি শিল্প পন্য হঠাৎ এমন কি হতো সেটা পানির দরে হয়ে গেছে ? প্রকৃত কারন অনুসন্ধান করে তা আবার আগের অবস্থার আনার দাবী জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT