শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে দূর্গা পূজায় হামলা প্রতীমা ভাংচুরের প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন বিদেশে যেতে চায় মুহিবুল্লাহ‘র পরিবার পাহাড়তলীতে বেলালের গ্যারেজে আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা কাপ্তাইয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না সৌদিতে বিনা শুল্কে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীর নির্দেশ দিলেন অতিরিক্ত বানিজ্য সচিব পাহাড়তলীতে গ্যারেজের আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াবা নিয়ে সহযোগি সহ ঢাকায় আটক পাঁচ কেজি আইসসহ টেকনাফ সিন্ডিকেট প্রধান ঢাকায় আটক পেকুয়ায় ত্রিভূজ প্রেমের বলি দুই প্রেমিক-প্রেমিকা

লকডাউনের দোহাই দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ৬, ২০২১
  • 111 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
টানা কয়েক দিন লকডাউনের প্রভাবে জেলা শহর সহ সর্বত্র দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। শাক সবজি থেকে শুরু করে তরিতরকারী,মাছ মাংস, মসলা সহ সব কিছুর বাড়তি দাম রাখছে দোকানিরা। কোন প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই ক্রেতাদের। দোকানদারের এক কথা গাড়ি ভাড়া বেশি জিনিস পত্র পাচ্ছেন সেটাই অনেক বেশি। তবে ভিন্ন চিত্র মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের বক্তব্যে তাদের দাবী লকডাউনের কথা বলে উল্টো আগের দামের চেয়ে কয়েক গুণ কম দামে সবজি সহ তরিতরকারী নিয়ে যাচ্ছে পাইকারী ক্রেতারা।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার জসিম উদ্দিন জানান,লকডাউনে আয়রোজগার নাই বললেই চলে সোমবার স্থানীয় বৌবাজারে কলমি শাঁক কিনেছি ১৫ টাকা দিয়ে অথবা দুই দিন আগেও সেই শাঁক বিক্রি করেছে ৫ টাকা বা সর্বোচ্চ ১০ টাকা দিয়ে। এছাড়া প্রত্যেকটা তরিতরকারীর দাম দ্বিগুন দামে বিক্রি করছে। এগুলো বলার কেউ নেই দেখারও কেই নেই। মাঝখানে আমরা নি¤œবিত্ত¡রা মরে যাচ্ছি। একই এলাকার হাবিবুর রহমান বলেন,আমরা দিনমজুর মানুষ সারাদিন কাজ করে অল্প টাকা পায় সেই টাকা বাজারেই চলে যায়। আগে যে মাছ ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো সেই মাছ এখন ২০০ টাকার কমে দিচ্ছে না। এছাড়া প্রতিটি মসলার দামও অনেক বাড়তি। দোকানদারদের কাছে বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন,দেশে লকডাউন চলছে খবর নাই। সব কিছু অনেক টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে এছাড়া গাড়ীভাড়া যাচ্ছে কয়েকগুণ বেশি তাই জিনিস পত্রের দাম বাড়তি দিতে হবে। টেকপাড়া এলাকার আরিফ হোসেন বলেন,আমি স্যালসম্যান হিসাবে চাকরী করি। লকডাউনে সব কাজ বন্ধ তবে সীমিত আকারে আমাদের চাকরী চলছে এর মধ্যে কোম্পানী নানান অজুহাতে বেতন কেটে নেয়। তবে বর্তমানে বাজারে গেলে হুস হারিয়ে ফেলি,ভাল মাছ মাংস খাওয়ার মত সামর্থ আমাদের নেই তবে আগে যা খেতাম এখন তাই খেতে পারছিনা। গতকাল বাধ্য হয়ে ডাল,আর আলু কিনে নিয়ে গেছি। আমার মতে সরকারের উচিত চালের দামটা কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা। মানুষ যে কি পরিমান কষ্টে আছে সেটা বুঝা উচিত। এদিকে বাহারছড়া বাজারে গিয়ে কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এখানে কিছু তাজা মাছ উঠে কিন্তু প্রত্যেকটা মাছের দাম আগে চেয়ে প্রায় ১৫০ টাকা বেশি দাম বলছে। এতে ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছিনা। অথবা চাহিদার চেয়ে কম কিনতে হচ্ছে। এছাড়া সামনে কোরবানীর ঈদ আসছে তাই মরিচ,ধনিয়া,হলুদ,গরম মসলা সহ সব কিছুর দাম আগে চেয়ে কয়েকজন বাড়তি বলছে দোকানদাররা। কিন্তু না কিনেও উপায় নাই। কারন এসব কিছু প্রয়োজন। এদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা বলছে ভিন্ন কথা তাদের দাবী লকডাউনের কথা বলে আগের চেয়ে কম মূলেও জিনিস পত্র কিনছে পাইকারী ক্রেতারা। এ ব্যপারে রামুর গর্জনিয়া এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ জানান,আমি গতকাল ২ মন শুকনা মরিচ বিক্রি করেছি ১৪০ টাকা দরে। সেই মরিচ আগে বিক্রি করতাম ১৮০ টাকায়। কিন্তু এখন বাজার বসছেনা ক্রেতা নাই বলে পাইকারী ক্রেতারা নিতে চাইছেনা। তাছাড়া এত মরিচ থেকে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে তাই কমদামে বিক্রি করে দিয়েছি। খুরুশকুল ডেইলপাড়া এলাকার আবুল হোসেন বলেন,আমার নিজের উৎপাদিত কলমি শাঁক,পালংশাঁক,কলাশাঁক বিক্রি করেছি পানির দামে আমাদের কাছ থেকে যে শাঁক তারা ৫ টাকায় কিনে নেয় সেই শাঁক তারা বাজারে ২০ টাকার কমে বিক্রি করে না।এছাড়া কাকরল বিক্রি করেছি কেজীতে ১২ টাকা কিন্তু তারা বাজারে বিক্রি করে৩০ টাকা। তবে ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে বাজারের ব্যবসায়িরা তাদের দাবী লকডাইনের ফলে গাড়ী ভাড়া এখন ৩ গুণ দিতে হচ্ছে এছাড়া ক্রেতাও কম অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে ফেলে দিতে হয়। তাই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT