রেশন কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, মে ১৭, ২০২০
  • 79 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী ভাবে প্রদত্ত রেশন কার্ড ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা করে উপহার বিতরণে সর্বত্র ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ এলাকা থেকে সরকারী এই সুবিধা প্রকৃত অসচ্ছল মানুষের কাছে পৌছানোর বদলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছের মানুষের কাছে পৌছাচ্ছে। আবার অতীতে যারা ভোট দিয়েছিল এবং সামনে যারা ভোট দেবে তাদের এই তালিকায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেক প্রকৃত অসচ্ছলরা। এদিকে শুধু কক্সবাজার নয় সারা দেশেই রেশন কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে তবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতন ভাবে কাজ করছে বলে জানান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে পৌর এলাকায় ওএমএস বা রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে ৯৬০০ টি সে হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে রেশন কার্ড পাবে ৮০০ জন। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে ২৫০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে পৌর এলাকায় ৭৫৪৯ টি। সে হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে এই নগদ অর্থ পাবে ৬২৯ জন। তবে স্থানীয় জনগনের অভিযোগ প্রকৃত অসচ্ছল ব্যাক্তিরা সরকারি এই সুবিধা পাচ্ছেনা বরং জনপ্রতিনিধিদের আত্বীয় স্বজন এবং তাদের কর্মীরাই পাচ্ছে এই সুবিধা। ১২ নং ওয়ার্ডের আবু আহামদ বলেণ,আমাদের এলাকায় সরকারি রেশন কার্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকা কে করেছে কিভাবে করেছে তা কেউ জানেনা। পরে শুনা গেছে এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট আত্বীয় স্বজন এবং কর্মী বাহিনিরাই এই তালিকায় বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বাহারছড়া এলাকার জসিম উদ্দিন বলেণ,আমান জানা মতে জনপ্রতিনিধির আত্বীয় ২ তলা বাড়ি সেই ২৫০০ টাকার অনুদানের তালিকায় আছে অথচ তার পাশেই গরীব দিনমজুর তাদের নাম নেই। আবার তালিকা করা হয়েছে অতীতের নির্বাচনে কারা ভোট দিয়েছিল এবং সামনে কারা ভোট দেবে সে চিন্তা করে। ৪ নং ওয়ার্ডের নেজাম উদ্দিন বলেণ,আমাদের এলাকার কাউন্সিলার পেশকার পাড়ার মানুষকে ৯০% দিয়ে বাকি কিছু থাকলে টেকপাড়া সহ অন্য এলাকায় দিয়েছে সে হিসাবে এখানে কি পেয়েছে সেটা প্রশাসন তদন্ত করলেই জানা যাবে। এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান বলেণ,একটি বড় কাজ করতে গেলে কিছু ভুল ত্রæটি হয়। আবার এটাও আমি অস্বিকার করিনা জনপ্রতিনিধিরা কিছু স্বজন প্রীতি করেছে। তবে তালিকায় একেবারে বড় আকারে অনিয়ম হয়েছে এটা সঠিক নয়। এছাড়া তালিকা যাচাই বাছাই করার জন্য সরকার আলাদা তদন্ত করছে। সুতরাং এটা নিয়ে বেশি বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।এদিকে রামুর ফতেখারকুল ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেণ,করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে যারা ত্রান পাচ্ছে তারা পেয়েই যাচ্ছে আর যারা ঘরে আছে তারা কেউ পাচ্ছেনা। রেশন কার্ড এবং সরকারি অনুদান নিতে ও একই অবস্থা। তবে এখানে সরকারি দলের লোক না হলে কেউ ত্রান পায়না আবার সুবিধা ওপায় না। মেম্বার চেয়ারম্যানরা তাদের ভবিষ্যত চিন্তা করেই কার্ড বা টাকার তালিকা করছে। এদিকে চকরিয়া,পেকুয়া,উখিয়া,টেকনাফ,মহেশখালী সহ সব জায়গা থেকে রেশন কার্ড এবং সরকারি অনুদানের তালিকা প্রণয়নের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার কারো হাতে নয় মোবাইলের নগদ একাউন্টে দেওয়া হবে তাই কেন্দ্রীয় ভাবে এগুলো ভাল ভাবে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তবে আমার মতে অনিয়মের সংখ্যা কম বৃহৎ অংশের প্রকৃত গরীব অসচ্ছল মানুষ সরকারি সুবিধা পেয়েছে। তবুও কোথাও অনিয়ম হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT