রেল লাইন প্রকল্পে পূর্ণবাসন সহায়তার নামে লুটপাট

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, মার্চ ১, ২০২০
  • 124 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে চলমান রেল লাইন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহন পরবর্তী পূর্নবাসন এবং বসতবাড়ির ক্ষতিপূরনের টাকা নিতে বিপুল টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। চকরিয়ায় অবস্থিত এই পূর্নবাসন অফিসে ঘুষদূর্নীতির মহোৎসব এখন প্রকাশ্য হলেও এখনো পর্যন্ত কারো নজরে আসেনি। তাই দ্রুত এই পূর্ণবাসন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার দাবী জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদেরদাবী এখানে ক্ষতিগ্রস্থদের চেক দেওয়ার আগেই ভাগভাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে টাকা। সম্প্রতী কক্সবাজার এল এ শাখায় র‌্যাবের অভিযানে ৩ সার্ভেয়ারের বাসা থেকে ৯৩ লাখ টাকা উদ্ধার এবং ৩০ কর্মকর্তাকে একসাথে বদলীর ঘটনা কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি এই দপ্তরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজার এলাকার বেশ কয়েকজন জমির মালিক জানান,বর্তমান সরকার কক্সবাজারে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চালাচ্ছে। এর মধ্যে কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের রেল লাইন প্রকল্প বেশ আলোচিত একটি প্রকল্প। সেই রেল লাইনের জন্য অধিগ্রহন হওয়া জমিতে আমাদের অসংখ্য জমি পড়েছে সেই জমির ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়েছি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভুমি হুকুম দখল কার্যালয় থেকে। তবে সেখানে দিতে হয়েছে নির্দিষ্ট কমিশন। পরে এখানে চকরিয়াতে ডরপ-পাথমার্ক নামের একটি অফিস আছে যেখানে রেল লাইনে জমি পড়া মালিকদের বসতবাড়ি বা ফসলী জমি পড়লে তাদের পূর্ণবাসনের জন্য ক্ষতিপূরন দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পটি অনেকটা লুটপাটের প্রকল্প বলে মনে করছে সবাই। কারন আমরা যারা জমি দিয়েছি তাদের ফাইল সেখানে জমা দিলে সেই অফিস থেকে লোকজন এসে আমাদের বাড়িঘর দেখে যায়। তখন তারা আমাদের প্রস্তাব দেয় আপনারা সরকারি ভাবে যেই টাকা ন্যায্য ক্ষতিপূরন পাবেন সেই টাকার চেয়ে বেশি টাকা আমরা প্রস্তাব করবো। কিন্তু বাড়তি টাকা আসলে সেটা আমাদের দিয়ে দিতে হবে। সেই চুক্তিতে রাজি হলে তার কাছ থেকে অগ্রিম চেক নিয়ে ফেলছে কর্মকর্তারা। এভাবে এই রেল লাইন প্রকল্পের পূর্নবাসণ প্রকল্প থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই অফিসে কর্মরত কর্মচারীরা। আর যারা বাড়তি টাকা দিতে রাজি হচ্ছেনা তাদের ফাইলে সমস্যা আছে বলে বছরের পর বছর ঘুরাচ্ছে টাকা দিচ্ছেনা। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাউল হক বলেন,আমার কাছে অনেক ভোক্তভোগী এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে। পরে বিষয়টি আমি জানার জন্য সেই প্রকল্প অফিসে গিয়ে কাগজ পত্র দেখে যা মনে হয়েছে এটা সম্পূর্ন একটি লুটপাটের প্রকল্প। এখানে যা হচ্ছে তা কক্সবাজার এল এ শাখায়ও হচ্ছেনা। মূলত যদি কোন ব্যাক্তি এখানে পূর্নবাসণ ক্ষতিপূরনের টাকা পাওয়ার জন্য ফাইল জমা করলে সেই ব্যাক্তির সাথে রেল অফিসের কর্মকর্তারা চুক্তি করে যে ফাইল সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করলে যে টাকা পাওয়া যাবে সেখানে বাড়তি টাকা প্রস্তাব করা হবে। সেখেত্রে বাড়তি সব টাকা কর্মকর্তাদের দিয়ে দিতে হবে। এমনকি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরনের মধ্যে ৭ লাখ টাকা কর্মকর্তাদের দিয়েছে এমন লোকও আছে। মূলত উপজেলাতে হওয়ায় এই অফিসের চরম অনিয়ম দূর্নীতি বিষয়ে তেমন আলোচনায় আসেনি।
এ ব্যপারে চকরিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন,বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে অনেক বেশি কাজ করছে। তবে মাঠ পর্যায়ে দূর্নীতির কারনে মানুষ সুফল পাচ্ছেনা। সরকার রেল লাইনে যাদের জমি পড়েছে যাদের জমির ক্ষতিপূরন দেওয়ার পরে আবার সেই ব্যাক্তি বাড়িঘর বা ফসলী জমির ক্ষতিপূরনের জন্য পূর্ণবাসন সহায়তা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প তৈরি করেছে। কিন্তু এখানে মানুষ সরকার কর্তৃক দেওয়া সেই সহায়তার পেতে ৪০% থেকে ৫০% ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। আমার কাছে কয়েকজনের রেকডিং আছে। আর সম্প্রতী কক্সবাজার এল এ শাখায় র‌্যাবের অভিযানে সার্ভেয়ার আটক,কোটি টাকা উদ্ধার এবং পরবর্তিতে ৩০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী বদলীর ঘটনা এই অফিসে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি এখানকার কর্মকর্তাদের তাই এই রেল লাইন প্রকল্প অফিসে অভিযানের দাবী জানিয়েছে ভোক্তভোগীরা।
এ ব্যপারে উক্ত পর্ণবাসন সহায়তা প্রকল্পের কর্মকর্তা শামীম জানান,আমি নতুন যোগদান করেছি তাই অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবো না। তবে প্রকল্প কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, মূলত যারা কক্সবাজার এল এ অফিস থেকে ক্ষতিপূরনের টাকা পাবে তারাই এখানে পূর্ণবাসন সহায়তা পাবে। ফাইল জমার পরে মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ করি কিন্তু চেক বা টাকা দেয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা এখানে আমাদের কোন হাত নেই। এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যাক্তিকে পূর্ণবাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশন বা ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেন।
এ ব্যপারে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেণ,রেল লাইনে কাজ করা এবং ক্ষতিপূরন দেওয়া বিষয়ে মানুষের অভিযোগ বেশি। তাই এসব বিষয়ে সুষ্ট তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT