রামুতে মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিনতাই করায় পিতার একমাসের জেল

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২০
  • 70 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নীতিশ বড়ুয়া, রামু
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিনতাই করে পরীক্ষা বন্ধ করতে চেয়ে এক মাসের জন্য জেলে গেল পরীক্ষার্থীর পিতা। এ প্রতিহিংসা পরায়ন ঘটনাটি ঘটেছে রামু জোয়ারিয়ানালা এইচ.এম. সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ভাগ্যে। অন্যান্য পরীক্ষার্থীর মতো ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীও ৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু মেয়ের পরীক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বয়ং জন্মদাতা পিতা। পিতা আব্দুল জলিল (৪৫) চাননা মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করুক। তাই মেয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ঠেকাতে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিনতাই করেছেন পিতা নামের এই ব্যক্তি।
অভিযোগ পেয়ে গতকাল রোববার (২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাকে ওই পরীক্ষার্থীর পিতা আব্দুল জলিলকে একমাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা। পাশাপাশি ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহন নিশ্চিত করার যাবতীয় ব্যবস্থাও নেন ইউএনও।
সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্ব নোনাছড়ি গ্রামের মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে। জলিল পেশায় দিন মজুর। ওই ছাত্রীর মা খতিজা বেগম (৩৫) জানান, পারিবারিক অশান্তির কারণে আব্দুল জলিলকে তিনি পাঁচ বছর আগে তালাক দেন। তাদের রয়েছে তিন ছেলে, আর দুই মেয়ে। এরমধ্যে এক ছেলে এক মেয়ে বাবার ঘরে, আর বাকি তিন সন্তান তার সঙ্গে মামার বাড়িতে থাকে। তিনি জানান, তালাক দেওয়ার পরেও জলিল তাকে নানাভাবে উক্তত্ব্য এবং হুমকী দিয়ে আসছিল।
এ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার রাতে জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসা গেইট বাজার থেকে কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ঘরে ফেরার পরে ছুরি দেখিয়ে মেয়ের প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জামা কাপড়, বিকাশ এজেন্ট থেকে উত্তোলন করা ২০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন সেটসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তার হস্তক্ষেপে কাপড়-চোপড় ফেরত দিলেও প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অন্যান্য জিনিস পত্র ফেরত না দিলে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে জলিল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সে চায়না তার সন্তানেরা শিক্ষিত হউক।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রণয় চাকমা জানান, একজন শিক্ষার্থী সারা বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে। একই কারণে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ না করে সেজন্যই ওই শিক্ষার্থীর পিতা আব্দুল জলিলকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। ওই ছাত্রী মানসিক চাপে যেন না ভুগে সেজন্য তাকে আশ্বস্থ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়েই আব্দুল জলিল এ ঘটনা ঘটিয়েছে

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT