রামুতে ছাতফা জাদি শশ্মান বনায়নে দূর্বৃত্তের আগুন

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, মার্চ ২৭, ২০২১
  • 159 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
রামুতে বৌদ্ধ জাদি শশ্মান বনায়নে দূর্বৃত্তের আগুন। এ আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দুই শতাধিক গাছ। শত্রুতামূলক নাশকতা ছড়াতেই শশ্মানের বনায়নে দূর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বৌদ্ধরা। পুলিশের জানিয়েছে, মাদকসেবীদের কারণেই এ আগুনের সুত্রপাত। শুক্রবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের পাশে লট উখিয়ার ঘোনা এলাকায় ‘ছাতফা জাদি’ পাহাড় শশ্মান বনায়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রামু থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন, ছাতফা জাদি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি উথোই চি রাখাইন।
রামু ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, নির্জন পাহাড়ে কেন আগুন ধরেছে, এটা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। বিড়ি-সিগারেট থেকেই হয়তো এ আগুন ধরতে পারে। খবর পাওয়া মাত্রই রামু ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ছুটে যায়, ওই স্থানের আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগেছে এ আগুন নেভাতে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ‘ছাতফা জাদি’ পাহাড় শশ্মান বনায়নের দক্ষিণ অংশে গিয়ে দেখা যায়, জাদি পাহাড় বনায়নের মধ্যবর্তী স্থানের একটি অংশের আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। দুই শতাধিক একাশিয়াম গাছ ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। গাছের নিচের অংশে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষত চিহ্ন। এক সপ্তাহ আগে ওই পাহাড়ের পশ্চিম অংশেও দুর্বুত্তারা আগুন দিলে, প্রায় অর্ধশত একাশিয়াম গাছ আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান, ছাতফা জাদি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি উথোই চি রাখাইন।
ওই দিনের আগুন গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় নিভানো গেলোও, শুক্রবার সন্ধ্যায় দূর্বৃত্তের দেয়া আগুন গ্রামবাসিরা নেভাতে পারেনি বলে জাদিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিবু বড়ুয়া, অধীর বড়ুয়া, দিপু বড়ুয়া, সুমথ বড়ুয়া, নিবারণ বড়ুয়া ও নুনু বড়ুয়া সহ আরো অনেকের বরাতদিয়ে জানান, উথোই চি রাখাইন। গ্রামবাসিরা তাকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ জাদি পাহাড় শশ্মানে আগুন দেখে, জাদিপাড়ার মানুষ ছুটে যায়। মুহুর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ায়, গ্রামবাসিরা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। গ্রামবাসিদের অভিযোগ শত্রুতামূলক নাশকতা ছড়াতেই শশ্মানের বনায়নে দূর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
গ্রামবাসিরা জানায়, জায়গাটি নির্জন বলে, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধ বিচরণ এই পাহাড়ে। সন্ধ্যা হলেই প্রায় সময় আসরে বসে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। জাদি পাহাড়ের পশ্চিম পাশে, পাহাড়ের ঢালু এলাকায় মাদকসেবীদের একটি আস্তানাও রয়েছে।
ছাতফা জাদি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি উথোই চি রাখাইন, সাধারণ সম্পাদক মং মং রাখাইন জানান, পাহাড়ের উচ্চ স্থানে নির্মিত ‘ছাতফা জাদি’ প্রায় তিনশত বছরের পুরনো। প্রায় পাঁচশত ফুট উঁ”ু পাহাড়ে উপর ‘ছাতফা জাদি’তে মাঝে মাঝে বৌদ্ধরা পূঁজা দিতে যায়। বৌদ্ধদের জন্য এটি একটি পবিত্র জায়গা। জাদি পাহাড়টি সংরক্ষণ করতে ও পাহাড় ধ্বস থেকে রক্ষা করার জন্য ছাতফা জাদি সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে পাহাড়টি বনায়ন করা হয়। বর্তমানের বনানয়টি আট বছর আগের। বর্তমানে প্রতিটি গাছ ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। বারে বারে বনায়ন ও জাদিতে দূর্বৃত্তরা নাশকতা চালায়। গত এক সপ্তাহ আগে ২১ মার্চ, রবিবার জাদি পাহাড়ের পশ্চিম পাশে আগুন লাগিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। ওই সময় আগুন জাদিপাড়া গ্রামবাসিদের প্রচেষ্টায় নেভাতে সক্ষম হয়। কিন্তু গত শুক্রবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় দেয় আগুন স্থানীয় গ্রামবাসীরা নেভাতে ব্যর্থ হলে, ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। রামু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
উথোই চি রাখাইন আরও জানান, নাশকতা ছাড়াতেই শশ্মানের বনায়নে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ ব্যপারে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দৃষ্টি নন্দন স্থাপত্যশৈলী ‘ছাতফা জাদি’র ৫-৬ অংশে ভাঙচুর চালিয়েছিলো দূর্বৃত্তরা। সম্ভবত গুপ্তধনের আশায় কে বা কারা প্রায় তিনশত বছরের পুরনো ছাতফা জাদিতে (বৌদ্ধদের প্যাগোডা) এ ভাঙচুর চালানো হয়ে ছিলো। প্রতিহিংসামূলক ভাবে পাহাড়টি দখল করার জন্য এ ভাঙচুর হতে পারে। এখনও পর্যন্ত কি কারণে ওই সময়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিলো, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধদের ছাতফা জাদি শশ্মানের বনায়নে শুক্রবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। গাছের ঝরে পড়া শুকনো পাতার কারণে মুহুর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন জাদি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। রামু ফায়ার সার্ভিস টিম এসে পানি ছিটিয়ে আগুন নিভিয়ে দেয়। তিনি খবর পাওয়ার সাথে সাথে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বলে জানান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন সর্তকাবস্থায় আছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পিছনে কে বা কারা রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রামু থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, মাদকসেবীদের কারও অসর্তকার কারণেই, জাদি পাহাড়ের শুকনো পাতায় আগুন ধরেছে। অন্যকোন কারণে নয়। এ বিষয়ে বৌদ্ধের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগও দায়ের করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT