শিরোনাম :
টেকনাফে পুলিশের উপর হামলাকরে আসামী ছিনতাই : ইউপি সদস্য আটক ফের অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা প্রযোজক রাজের বাসায় র‍্যাবের অভিযান ঘর নদীতে পড়ে যাওয়ার চিন্তায় ঘুমাতে পারছেনা চাকমারকুল ইউপির ৩ গ্রামের মানুষ রামুতে অসহায়দের মানবিক সহায়তা দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ দর্জি দোকানের কর্মচারীথেকে নেতা মনির : ৪ দিনের রিমান্ডে পরীমনির বাসায় অভিযান সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে : র‌্যাব বৌভাতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ১৭ বরযাত্রীর মৃত্যু প্রসাধনীর আড়ালে চকরিয়া কুরিয়ারে মিলল ৭০ লক্ষ টাকার ইয়াবা, পাচারকারী আটক সুজন জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বন্যাদূর্গতদের মাঝে অর্থ সহায়তা প্রদান

যথা সময়ে টেন্ডার না হওয়ার ফেরত গেছে চকরিয়া হাসপাতালের ১ কোটি টাকা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২০
  • 169 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির অবহেলায়বরাদ্দের প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। সঠিক সময়ে ওই কমিটিটেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় এ টাকা ফেরত গেছে বলে জানা গেছে।যার কারণে চলতি বছর চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দারুণভাবে সংকট সৃষ্টি হবে।ফলে জরুরী সেবা থেকে বঞ্চিত হবে চকরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার
অন্তত ২০ লাখ মানুষ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ শাহবাজ ২০২০ সালের ২১ এপ্রিল প্রথম টেন্ডার আহবান করে। এরপর ২০২০ সালের মে মাসের ১১ তারিখ ঠিকাদাররা টেন্ডার ড্রপ করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও স্থানীয় মিলে ১০জন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু কাগজপত্র সঠিক না থাকার অজুহাতে ওই টেন্ডার বাতিল করে হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি।পরে ২০২০ সালের ২৯ মে আবারও দ্বিতীয় বারের মতো দরপত্র আহবান করা হয়।চলতি বছরের ১৪ জুন আবারও টেন্ডার ড্রপ করেন ঠিকাদাররা। ওই টেন্ডার
প্রক্রিয়ায় চারটি ঠিকাদারি কোম্পানী অংশ নেন। কিন্তু ওই টেন্ডারও নানা অজুহাতে বাতিল করে দেন হাসপাতাল টেন্ডার কমিটি।
ঠিকাদারেরা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি ঠিকাদারদের কঠিন শর্ত দেয়। এতে কোন ঠিকাদারই সেই শর্তওপূরণ করতে পারেনি।দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জন্য হাসপাতালে জরুরী
ভিত্তিতে ছয়টি গ্রুপে ৬টি সরঞ্জামের উপর ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৬’শ ৩০ টাকারটেন্ডার আহবান করেন। এর মধ্যে এশেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানী লিমিটেড (ইডিসিএল) বর্হিভূত ওষুধের জন্য ৩১লাখ ২৬ হাজার ২’শ ৪৬ টাকা, যন্ত্রপাতিবাবদ ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৪’শ ১০ টাকা, গজ-ব্যান্ডেজ বাবদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ২’শ৫টাকা, লিলেন বাবদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ২’শ ৫ টাকা, ক্যামিকেল বাবদ ৩লাখ ৫৭ হাজার ২’শ ৮২ টাকা, মেরামত বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২’শ ৮২ টাকা এবংআসবাবপত্র বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২’শ ২ টাকা মূল্য নির্ধারন করা হয়।অপর দিকে, হাসপাতালের জন্য ৯৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬’শ ৫২ টাকার ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়। তার বিপরীতে ৭০ লাখ টাকার ওষুধ দেয়া হয়। বাকি ২৩ লাখ ৭৮হাজার ৬’শ ৫২ টাকার ওষুধ সংগ্রহ করতে না পারায় সেই টাকাও ফেরত চলেযায়।সূত্র জানায়, ইডিসিএলর হলো সরকারি প্রতিষ্টান। মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশতারা সরবরাহ করে থাকে। বাকি ২৫ শতাংশ কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারেরাসরবরাহ করেন। ইডিসিএল বর্হিভূত ওষুধসহ ছয়টি গ্রুপের সরঞ্জাম বাবদ ৭৪
লাখ ১৩ হাজার ৬’শ ৩০ টাকাসহ সরকারি ওষুধ বরাদ্দে ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬’শ ৫২টাকাও ফেরত গেছে। এতে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়।টেন্ডার প্রক্রিয়ার অংশ নেয়া মেসার্স শাহিন ফার্মেসীর প্রতিনিধি আবদুলহামিদ বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায়অংশ নিলেও হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি তা বাতিল করে দেন।’
এ রকম আরো বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, দুই দুইবার সব ধরনেরপ্রক্রিয়া মেনে টেন্ডারে অংশ নিলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে টেন্ডারমূল্যায়ন কমিটি প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছে। যার কারণে ২০১৯-২০২০অর্থ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১কোটি টাকা ফেরতগেছে। জন্য দরকার হয় গজ-ব্যান্ডেজসহ নানা সরঞ্জাম। কিন্তু ২০১৯ -২০২০
অর্থবছরের এসব সরঞ্জাম কেনার টাকা ফেরত যাওয়ায় কষ্টে পড়বে জরুরীবিভাগের এসব রোগীরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির অবহেলায় এতো বিশাল অংকের টাকাটা ফেরত গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনাকর্মকর্তা ও টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি সভাপতি ডা: মোহাম্মদ শাহবাজেরমুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য
নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতাল সূত্রে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
কক্সবাজা-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম এমপি বলেন, ‘আমি সভাপতি হলেও
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আলাদা মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। এটা পুরোপুরি
নিয়ন্ত্রণ করে হাসপাতাল টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি। এতো বড় অংকের টাকা
ফেরত যাওয়ায় চকরিয়াবাসীর জন্য চরম ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজে সিভিল সার্জন ও টিএইচও’কে বলেছি যাতে
প্রকল্পের টাকা ফেরত না যায়। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলো টাকা ফেরত
যাবেনা। পরে শুনলাম প্রকল্পের টাকা ফেরত গেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT