মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ঃ দ্রুত নির্বাচনের দাবী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯
  • 201 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান কমিটি মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। সে হিসাবে ২ মাসের অধিক সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জেলার গুরুত্বপূর্ন এই প্রতিষ্টান। তবে কতৃপক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রক্রিয়াও শুরু করেছে তবে অদৃশ্য কারনে হচ্ছে না নির্বাচন। এদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অসংখ্য ভোটারদের নিয়ে বিরুপ প্রক্রিয়া আছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। সেটা যাই হউক দ্রুত জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন দাবী করেছে জেলার সাধারণ ক্রীড়ামুদিরা।
কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ৪ বছরের জন্য বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়। সে হিসাবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর উক্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় এবং চুডান্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মেয়াদ ২ মাস ১০ দিনের মত অতিবাহিত হলেও নির্বাচনের কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। সে কারনে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছে সাধারণ পরিষদের সদস্যরা। তবে বেশির ভাগ শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করত্ইে আগ্রহি।
এদিকে বেশ কয়েকজন সাধারণ পরিষদের সদস্য বলেন,বর্তমানে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় কোন প্রকৃত খেলোয়াড় বা ক্রীড়া অনুরাগি এমনকি ত্যাগি সংগঠকও নিবার্চন করার সাহস করবে না। কারন সেখানে ১৩৫ জন ভোটারের মধ্যে ১০০ জন ভোটার একটি পক্ষের নিয়ন্ত্রনে। তারা ক্ষমতায় অপব্যবহার করে বিভিন্ন ইনডোর খেলা দেখিয়ে এত বিপুল সংখ্যাক ভোটার করেছে। এখন যদি ১০০ জন ভোটার এক পক্ষে থাকে তাহলে কিভাবে সেখানে অন্যরা ভোট করবে ? যদিও সেটা বর্তমান কমিটির নয় এর আগের কমিটির সময় হয়েছে, কিন্তু সেটা এখনো ধারাবাহিক হিসাবে আছে। এখানে সমস্যা হচ্ছে যদি বর্তমান কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা থাকতো তাহলে নামে বেনামে যে সমস্ত ইনডোর খেলাগুলো হয়েছে সেখানে কিছুটা পরিবর্তন করে মাঠের প্রকৃত খেলোয়াড় বা জেলার সুনামধন্য সংগঠকদের ভোটার হিসাবে ব্যবস্থা করা যেত। এখন বেশির ভাগ ভোটারদের অনেকে চিনেনা কারন তারা বর্তমান কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে দূরের আত্বীয় স্বজন যারা কোন দিন খেলাধুলাতো দূরের কথা ক্রীড়াঙ্গনের ধারে কাছেও ছিলনা তারাই এখন ভোটার। তাছাড়া একটি ফুটবল টিম চালাতে এক লীগে কমপক্ষে ২/৩ লাখ টাকা খরচ করতে হয়,আর একটি ক্রিকেট টিম দিয়ে লীগে খেলতে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা খরচ হয়,এখন বছরের পর বছর এত টাকা খরচকরে একটি ক্লাব একজন ভোটার পাবে আর অন্যদিকে লুডু খেলে বা কেরাম খেলে বা পানি নাই সেখানে সাতাঁর কেটে তারাও যদি ভোটার হয় তাহলে কে আর খেলাধুলার জন্য টাকা খরচ করবে। মোট কথা ২০০ টাকা খরচ করে সেও ভোটার হয়েছে। তার পরও আমরা চাইছি একটি নির্বাচন কারন দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ার কারনে কক্সবাজারের অনেক সুনামধন্য প্রতিষ্টান এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। যেমন পাবলিক লাইব্রেরী,শিল্পকলা একাডেমী যদিও বহু বছর পর এখন কিছুটা সচল হয়েছে।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দিন বলেন, নির্বাচন খুবই জরুরী কারনএটা গনতান্ত্রিক পদ্ধতি তাই আমরা দ্রুত নির্বাচন হউক সেটাই প্রত্যাশা করি।
সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন,নির্বাচন করার জন্য আমরা যথা সময়ে সব ধরনের প্রকৃয়া অনুসরণ করেছি। তবে এখন কেন নির্বাচন হচ্ছেনা সেটা আমরা জানিনা,আর ইনডোর খেলায় যারা ভোটার হয়েছে তাদের বিষয়ে গত বারে আদালত থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে হিসাবেই উনারা ভোটার হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু বলেন, ৩০ ডিসেম্বর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সে হিসাবে ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে সে হিসাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু জাতিয় নির্বাচন ছিল আর নিয়ম অনুযায়ী জাতিয় নির্বাচন থাকলে অন্যকোন নির্বাচন হয় না। সে জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। আর বর্তমান ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩৫। এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, যথা সময়ে নির্বাচন করতে না পারলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করতে হবে। জেলা প্রশাসক সেই এডহক কমিটি গঠন করে জাতিয় ক্রীড়া পরিষদের পাঠানোর নিয়ম আছে। তবে এখন কোন তফসিল দিয়ে নির্বাচন হওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু কমিটি বিহীন ভাবে দীর্ঘ দিন থাকলেও নির্বাচন ও হচ্ছে না এডহক কমিটিও হচ্ছেনা কেন সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।
এ ব্যপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও নির্বাচন কমিশনার মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন,আমি নতুন যোগদান করেছি,তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের বিষয়ে আমি জানি,যেহেতু বর্তমানে উপজেলা নির্বাচন চলছে সেখানেও আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাই সব কিছু মিলিয়ে দ্রুত জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন করার উদ্দ্যেগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT