বৈদ্যঘোনার মাদক ব্যবসায়ি নাহিদা আটক

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০
  • 170 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনায় রয়েছে পারিবারিক মাদক ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট। গডফাদার রফিক নিহতের পর হাল ধরেছে বোন পারভীন ও ভাগ্নি নাহিদা, কইতুরী ও ভাগ্নি জামাই হাসান।
বিপুল পরিমাণ চোলাই মদসহ এই পারিবারিক সিন্ডিকেটের সদস্য কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নাহিদ আলম (২৭) ওরফে নাহিদাকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। করেছে রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে বৈদ্যঘোনাস্থ নিজ বাড়ি ফরিদ আলমের বিল্ডিং থেকে মদসহ এই নাহিদাকে আটক করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।আটক মাদক ব্যবসায়ী নাহিদাকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি (অপারেশন) মাসুম খাঁন। নাহিদা ওই এলাকার মৃত মোহাম্মদ রুবেলের স্ত্রী।
সর্বশেষ রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে নাহিদার বাড়িতে চোলাই মদ মজুদের খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) মো. মাসুম খাঁন ও পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স) মোহাম্মদ মহিদুল আলমসহ একদল পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তার বাড়িতে থেকে বিপুল পরিমান চোলাই মদ উদ্ধার করেন।
মদ উদ্ধারের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে (মামলা নং নং-০৯(০৪)২০২০ ইং ধারা-২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬ (১) এর ২৪ (গ)/৪১) মামলা দায়ের করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, নাহিদার পুরো পরিবার মাদক কারবারী।
মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদার মা পারভিন ও বোন হয়তুরীও শীর্ষ মাদক কারবারী।
আটক নাহিদা মাদক ব্যবসা করে ভগ্নিপতি হাসানের তিনতলা পাকা দালানের পাশে দুই তলা পাকা দালান নির্মাণ করেছে। নাহিদার মা পারভীনও নির্মাণ করেছে তিনতলা ভবন। ওই ভবনে মাদকের পাশাপাশি পতিতাবৃত্তি চালিয়ে আসছে।
শহরের বৈদ্যঘোনার তিনতলার ভবনে ১০/১২ জন ব্যাচেলর পতিতা মজুদ করে শহরের হোটেল মোটেল জোনে সাপ্লাই দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাহিদার বড় বোন হয়তুরী ও হয়তুরীর স্বামী মো. হাসান তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। হাসান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
বর্তমানে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে ফের চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। হাসান মাদক ব্যবসা করে হাসান ডিসের দোকান, হাসান গ্যাসের দোকান, বৈদ্যঘোনায় তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করেছে। এছাড়াও সুদি ব্যবসা রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে। তারা পুরো পরিবার মাদক ব্যবসা করে বর্তমানে কোটিপতি।
মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদার মামা রফিকুল ইসলাম ছিলেন কক্সবাজারের আরেক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ডজনাধিক মামলা ছিল। কয়েক মাস আগে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও- ঈদগড় সড়কের পাশে জঙ্গল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী রফিকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় লাশের পাশ থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
মাদক ও পতিতা সম্রাজ্ঞী নাহিদার অন্যতম পার্টনার খাজামঞ্জিল এলাকার তাহেরা। তাহেরা তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT