বেওয়ারিশ চান্দের পাড়া ব্রীজ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৯
  • 83 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের চান্দের পাড়া ব্রীজের কাজ যেন শেষ হতে চায়ছেনা। ২ বছরের অধিক সময় পার হলেও ব্রীজের এখনো ছাদ ঢালাই পর্যন্ত হয়নি। এছাড়া সব কাজ কখন শেষ হবে তাও জানেনা কেউ। আর এই ব্রীজ নির্মাণ কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদার এবং প্রকৌশলে কেউ কাজের প্রতি আগ্রহী নয়,ফলে ব্রীজটি লাওয়ারিশ হিসাবে পড়ে আছে। এদিকে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার বিলের জন্য তদবির করে বলে জানান প্রকৌশল অফিস। তবে ব্রীজটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বৃহত্তর পিএমখালী,ঝিলংজা এবং পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের কয়েক লাখ মানুষ চরম অসহায় অবস্থায় থাকলেও তাতে কিছু যায় আসেনা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের। এদিকে সচেতন মহলের দাবী কাজতো হচ্ছেই না আর যার হচ্ছে সেখানেও চরম দূর্নীতি হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে,২০১৭ সালের প্রবল ভারী বর্ষণে চান্দের পাড়ার বড়–য়া পাড়ার ভেতরের পুরাতন ব্রীজটি সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেলে তৎকালীন সময়ে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদের আন্তরিকতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেই ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যায়ে সেই ব্রীজটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই অর্থ বছরে সম্পূর্ন নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলে ২ বছরের অধিক সময় পার হলেও এখনো ব্রীজের ৫০% কাজও শেষ হয়নি। চট্টগ্রামের এক সরকার দলিয় রাজনীতিক এই ব্রীজের টেন্ডার পেলেও স্থানীয় ভাবে কাজ তদারকি করে স্বপন বড়–য়া নামের একজন। স্থানীয়দের দাবী ব্রীজটি কাজ প্রায় ১ বছর ধরে বন্ধ ছিল সম্প্রতী আবার কাজ শুরু করেছে তবে এখনো ছাদও ঢালাই দিতে পারেনি। এবং কখন কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে কাজে নিয়োজিত শ্রমিক এবং দায়িত্বশীলরা স্থানীয়দের সাথে খারাপ ব্যবহার করে অথবা উপজেলা প্রকৌশল অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। এ ব্যপারে স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা চাষী মানুষ ধান,শীত কালিন সবজি সহ সব কিছু উৎপাদন করি। আগে আমরা উৎপাদিত ফসল চান্দের পাড়া হয়ে আল বয়ান সড়ক দিয়ে খরুলিয়া বা লিংক রোড় বাজারে নিয়ে যেতাম এতে আমাদের পরিবহণ খরচ কমতো এবং বাজারে পৌছানোও সহজ হতো। কিন্তু এখন বিজিবি ক্যাম্প এলাকা হয়ে প্রধান সড়ক পার হয়ে তার পর বাজারে নিয়ে যেতে হয় এতে আমাদের খুব অসুবিধা হয় এবং খরচও বেশি পড়ে। স্থানীয় সমাজ সেবক আকতার কামাল বলেন ব্রীজের কাজ শেষ না হওয়াতে এলাকা অসুস্থ্য মানুষদের মারাত্নক অসুবিধা হচ্ছে। কিছুদিন আগে রাতে বেলায় এক মহিলার ডেলিভারী রোগিকে বিজিবি ক্যাম্প হয়ে গাড়ী আসতে আসতে উক্ত মহিলার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যদি ব্রীজটি চালু থাকতো তাহলে ৫ মিনিটের মধ্যে গাড়ী তার বাড়িতে আসতোকারন কাছেই পাকা সড়ক আছে। এদিকে এলাকাবাসীর দাবী ব্রীজ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্বপন বড়–য়া কাজ করছে খুবই নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে। ইতি পূর্বে যে সব কাজ হয়েছে সেখানে যে পরিমান রট সিমেন্টের ব্যবহার করা হয়েছে তার আবারো কোন ভারী পানির স্রােত আসলে ভেঙ্গে যাবে।
এ ব্যপারে স্বপন বড়–য়া বলেন,মাঝ খানে কিছু সমস্যা কারনে কাজ বন্ধ ছিল তাই কিছু সমস্যা হয়েছে এখন পুরুদমে কাজ চলছে আসা করি খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে আর এখানে অনিয়ম দূর্নীতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই কারন সব কিছু উপজেলা প্রকৌশল অফিস তদারকি করে।
এ ব্যপারে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন,চান্দের পাড়া ব্রীজটি নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগে। সে জন্য আমরা ঠিকাদারকে কাজ বাতিল করার জন্য চিঠিও দিয়েছি। তবে এখন কাজ করছে।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন.ঠিকাদার আস্তে আস্তে করছে,আর আমি নতুন এসেছি অনেক কিছুই এখনো ঠিকমত অবগত না,তবে কয়েক দিনের মধ্যে ছাদ ঢালাই হবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT