শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোরাই পণ্যের ব্যবসা জমজমাট কক্সবাজারের দুই পৌরসভা ও ১৪ ইউপিতে ভোট ২০ সেপ্টেম্বর রামু উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দোকান বরাদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ঈদগাঁও বটতলী-ইসলামপুর বাজার সড়কের বেহাল দশা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা পৌর কাউন্সিলার জামশেদের স্ত্রী‘র ইন্তেকাল : সকাল ১০ টায় জানাযা উখিয়ায় বিদ্যুৎ পৃষ্টে একজনের মৃত্যু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মদপানে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু টেকনাফে নৌকা বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে; সাবরাং পথসভায় মেয়র মুজিব ৮ হাজার পিস ইয়াবা, যৌন উত্তেজক সিরাপ নগদ টাকা সহ আটক ১

বিপুল টাকা মেরে লাপাত্তা ট্রাস্ট ইন্স্যুরেন্স

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২০
  • 336 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম. বেদারুল আলম
আমি ২ বছরে ৭২ হাজার টাকা দিয়েছি। বছরে ২০ হাজার টাকা লাভ, ইচ্ছে করলে লাভসহ পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রæতি, গ্রাহক আনতে পারলে ২০ শতাংশ কমিশন দেবে বলেছিল। আমি টিউশনি করে অনেক কষ্টে টাকা গুলো দিয়েছিলাম। এখন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচেছনা। অফিস ও বন্ধ। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা। তারা আমাকে কোন ফরম কিম্বা কাগজপত্র পর্যন্ত দেয়নি। কথাগুলো বলছিলেন সদরের পিএমখালীর মাইজপাড়ার সাইফুল ইসলামের।
আরো গুরতর অভিযোগ ঝিলংজার খরুলিয়ার চেয়ারম্যানপাড়ার হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র এহেসানের। বীমার নানা প্রলোভন, বছরে ডাবল মুনাফা, যখন ইচ্ছে তখন লোন সুবিধাসহ নানা প্রতিশ্রæতির কারণে তিনিও বীমা করেছিলেন। কিন্তু বছর পরে তারা লাপাত্তা, শহরের কালুর দোকানে আগের জায়গায় তালা। কাউকে খুঁজে পাচ্ছেনা। মোবাইল বন্ধ কর্মকর্তাদের। মোবাইল খুলা থাকলেও কল রিসিভ করেননা তারা। ছাত্র অবস্থায় কিছু টাকা সঞ্চয়ের আশায় বীমা করে এখন বিপাকে ।
সাইফুল ও এহেসানের মত শত শত গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড নামের একটি অখ্যাত অপরিচিত বীমা কোম্পানীর কারণে। টাকা খুইয়ে পথে থাকা অন্তত ৭ জনের বক্তব্য এসেছে দৈনিক কক্সবাজারে। বীমার নাম করে শত শত মানুষের টাকা আত্মসাতের নেপথ্যে রয়েছে সদরের ঈদগাও নাপিত খালীর আবু হুরাইরা নামের এক ব্যক্তি। আনোয়ার হোসেন নামের একজন গ্রাহক জানান, আবু হুরাইরা নামের ডিসি পদবীধারী লোক মাঠ থেকে গ্রামের সহজ সরল ছাত্র, ছাত্রী, প্রবাসির স্ত্রী, বিশেষ করে স্বল্প পূঁজির মহিলাদের টার্গেট করে বীমার নামে মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ৮ জন গ্রাহকের অভিযোগ। রামুর নন্দাখালীর আরিফ উল্লাহ নামের গ্রাহক জানান, আবু হুরাইরা আমাদের অনেকের টাকা কিস্তি জমা দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেছে।রামুর মিঠাছড়ির উমখালীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদ্য বিবাহিতা মহিলা জানান, আবু হুরাইরা স্যারের কথামত আমি ১ লাখ টাকার বীমা করেছি। আমার বাবা প্রবাসি হওয়ার কারণে আমি সব লেনদেন করেছি কিন্তু এখন তাদের খোঁজ পাচ্ছিনা। এমনকি মোবাইল ও রিসিভ করেননা। আমার বিয়ের আগে টাকার প্রয়োজন হলেও আমি ও আমার মা তাদের অনেক খোঁজার পর না পেয়ে বিয়ের ব্যায় সামলাতে অনেক কষ্ট হয়েছে।হয়রাণীর শিকার পারভিন, আনোয়ার, আরিফ জানান, তারা জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে টার্গেট করে ইসলামের নামে সুদমুক্ত বীমা করার নানা প্রলোভন দেয় পরে টাকা দিয়ে পলাতক হয়। কক্সবাজারের অফিস প্রধান পরিচয়ে উখিয়ার আবু সাইদ নামের একব্যাক্তি এ চক্রের মুলহোতা বলে জানা গেছে।এদিকে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর অফিস প্রধান পরিচয়দানকারি লাবু সাইদের ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৮৪৩৫১৪৪৯৫ এবং মুলহোতা প্রতারক চক্রের অন্যতম ডিসি পদবীধারী আবু হুরাইরার ব্যবহৃত ০১৮৪৬৯৯৯৫৯৬ নম্বরে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তারা মোবাইল রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ট্রাস্টবীমার নাম করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ ও নানা হয়রানী গরীব অসহায়দের টাকা মেরে লাপাত্তাসহ এন্তার অভিযোগ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারকে জানানো হলে তিনি বলেন- বীমার অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। বিশেষ করে যারা হয়রানীর শিকার বা টাকা হারিয়েছে তারা অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT