বিএফডিসি বরফ কলে লুটপাটের মহোৎসব

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
  • 487 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে বিএফডিসির সরকারি বরফ কলে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন বরফ বিক্রির টাকা,মেরামত এবং কর্মচারীদের টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চলে আসছে সরকারি এই বরফ কলে। সরকার মৎস ব্যবসায়িদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য এই বরফকল করলেও বর্তমানে বিএফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বার্থইবেশির রক্ষা করছে এই বরফ কলটি। আর বরফ বিক্রির নামে এখানে প্রতিদিন বিপুল টাকা দূর্নীতি হয় বলে জানান খোদ সেখানকার জুনিয়র কর্মচারীরা।
কক্সবাজারে একটি সরকারি বরফ কল আছে এটা অনেকে জানেইনা,ফলে বিএফডিসির এই বরফ কলের দিকে নজর নেই কারো। সম্প্রতী কক্সবাজারে বরফ সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনায় আসলে বেরিয়ে আসে নানান অজানা তথ্য,সরজমিনে কক্সবাজারে মৎস অবতরণ কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত সরকারি বিএফডিসির বরফকলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে প্রতিদিন ৬০০ পিস বরফ উৎপাদন হলেও এ পর্যন্ত ৩০০ পিসের উপরে কোন সময় বিক্রি দেখানো হয়নি।সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান,এখানে মৌসুমের সময় দৈনিক ৩০০ পিসের অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে আবার শীত মৌসুমে অনেক সময় ৩০ পিস বা ৫০ পিসও বিক্রি হয়েছে। আর দাম নির্ধারণ করে উর্ধতন কর্মকর্তারা। আর দৈনিক হিসাবে রাখে তারা আমরা শুধু বিক্রি করি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিএফডিসি বরফ কলের উপ সহকারী প্রকৌশলী পদ মর্যাদার একজন জানান,১৯৯৯-২০০০ সালে সরকার এই বরফ কল প্রতিষ্টা করেছিল। এখানে দৈনিক ৬০০ পিস বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা আছে তবে আমরা দৈনিক ৩০০ পিসের বেশি বিক্রি করিনা। আর বাকি ৩০০ পিস সব সময় মজুদ রাখি,এতে বরফকলের তাপমাত্রা ঠিক থাকে আর কিছু বরফ মজুদও থাকে। আর দৈনিক বিক্রি হওয়ার বরফের টাকা দৈনিক অফিসে জমা করা হয় গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৬৭ লাখ টাকার উপরে বরফ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।আর দাম নির্ধারনের খেত্রে বাইরের বরফ মিলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে তিনি মনে করেন কক্সবাজারে প্রচুর বরফের চাহিদা আছে সেখেত্রে এই বরফকল অপ্রতুল, এখানে আরো একটি মেশিন সহকারে যদি ভাল মানের যন্ত্রপাতি সহ আধুনীক বরফ কল করা দরকার। এদিকে কক্সবাজার মৎস অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ি আবদুল গফুর,আবছার কামাল সহ অনেকে বলেন,এটা সরকার লুটপাটের জন্য তাদের দিয়েছে মনে হচ্ছে। কারন তারা দৈনিক ২০০ থেকে আড়াইশত বরফ বিক্রির হিসাবে দেখায় আর কমপক্ষে ১০০ পিস বরফ বিক্রির হিসাব দেখায় না। আর বরফ গুলোও খুব নি¤œমানের যেহেতু এটা আমাদের কাছে পরিবহণ খরচ পড়েনা তাই আমরা এই বরফ ব্যবহার করি। এটা আরো আধুনীক এবং বাস্তবে ব্যবসায়ি বান্ধব করা প্রয়োজন। তাদের দাবী বরফকলে সরকারি চাকরীজীবিরা উপর থেকে কাজ করে, বাকি সব কাজ করে কমিশন ভিত্তিতে কাজ করা লেবাররা। কিন্তু সরকারি টাকা লুট করছে সরকারি কর্মকর্তারা। তারা প্রতিদিন এই বরফকল থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে দাবী করেন তারা, বিশেষ করে গরমের মৌসুমে অর্থাৎ এখন দৈনিক কমপক্ষে ৫০০ পিস বরফ বিক্রি করে কিন্তু সরকারি খাতায় হিসাবে দেখায় ৩০০ পিসের কম। আবার যন্ত্রপাতী মেরামত সহ অন্যান্য খাতে বিপুল টাকা খরচ দেখিয়ে টাকা আত্বসাৎ করে। এব্যপারে বিএফডিসির মার্কেটিং অফিসার দোলোয়ার হোসেন বলেন,আমার জানা মতে দৈনিক যা বিক্রি হয় সেটাই হিসাবে দেখানো হয় এখানে অনিয়ম দূর্নীতি হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT