শিরোনাম :
উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর হাতে অপহৃত ৩ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব নাফ নদীতে অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার ১০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ২ আইনজীবি হলেন স্বামী স্ত্রী জসিম উদ্দিন ও মর্জিনা আক্তার

বাড়তি দামের কারনে গরু কিনতে না পারায় হতাশ ক্রেতারা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জুলাই ১৮, ২০২১
  • 143 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ারছড়ার জসিম উদ্দিন দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে থাকেন প্রবাসী তবে করোনা সংকটের কারনে গত ২ বছর দেশেই ঈদ এবং কোরবানী পালন করছেন। তিনি ১৭ জুলাই গিয়েছিলেন গরু কিনতে। কিন্তু বাড়তি দামের কারনে গরু কিনতে না পেরে চরম হতাশ হয়ে তিনি। এক প্রতিকৃয়ায় তিনি বলেন,গত বছর যে গরু ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম সেই গরু এখন দাম বলছে এক লাখ ১০ হাজার। আর যারা কিনছে তারাই দেখছি গত বারের চেয়ে প্রতি গরুর প্রতি অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে গরু কিনছে। কিন্তু বিদেশে প্রতিটি পশুর দাম নির্ধারণ করত হবে তার মাংস দেখে। সেখানে কোরাবানী বা অন্যান্য সময় পশু কিনতে ডাক্তারের সার্টিফাইড সহ নির্দিস্ট দামের বাইরে বিক্রি করতে পারে না। কিন্তু এখন দাম নির্ধারণ করে ব্যবসায়িরা। শহরের বাহারছড়া থেকে রামু বাজারে শনি বার গরু কিনতে গিয়েছিলেন প্রভাষক জসিম উদ্দিন তিনি বলেন,আমি শনি বার কয়েকটি বাজার ঘুরেছি প্রত্যেক বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি বিশেষ করে ছোট সাইজের গরুর দাম অনেক বেশি। এমনিতেই লকডাউনের কারনে আয়রোজগার নেই। তার উপর কোরবানী একটি ইবাদত এখন কোরাবানীকে ব্যবসায়িরা টাকা কামানের মৌসুমে রুপান্তর করেছে। ২ মন ওজনের গরুর দাম বলছে ৯০ হাজার টাকা। মানুষ কিভাবে কিনবে ? সবারতো আর কালো টাকা নাই। এছাড়া বিদেশ থেকে গরু না আসায় স্থানীয় পশুর দাম আরো বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে পিএমখালী চেরাংঘাটা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে হাজার খানেক গরু বাজারে উঠলেও শনিবার বিক্রি খুবই কম। কিন্তু প্রতিটি গরুর দাম অনেক বাড়তি। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদা জানান,বাজারে প্রত্যেক বিক্রেতা গরুর দাম ছাড়ছে না। ২০২১ সালে শেষ বাজারের দিন হঠাৎ করে গরুর দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আমার এখনো মনে আছে ছোট গরুও ৮০/৯০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে মানুষ। এবারে সেরকম কিছু একটা হবে এমন করছে অনেকে। তাই গরুর দাম ছাড়ছে না। তবে এটা সত্য অন্যান্য বছরের চেয়ে গরুর দাম অনেক বেশি। চেরাংঘাটা বাজারে গরু কিনতে আসা ঝিলংজা মহুরী পাড়ার আবদুল হক বলেন,ভেবেছিলাম গ্রামের বাজার এখানে দাম একটু কম হতে পারে তবে এখানে দাম আরো বেশি। ছোট গরুর দাম বলছে লাখ টাকা। বাজার মূল্যে চাইলেও বিক্রেতারা গরু ছাড়ছেনা। জানিনা কি হবে। আর সত্যি কথা হচ্ছে মধ্যবিত্ব পরিবারে সব কিছু চলতে হয় বাজেট করে। এখন দেখছি বাজাট ফেল করবে। শুধু আমি না এখানে আসা বেশির ভাগ ক্রেতা গরুর দাম নিয়ে হতাশ। এদিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে এক লাখ ২২ হাজার টাকায় গরু কিনে ফিরে আসা টেকপাড়ার আমিন জানান,আমরা ভাইরা মিলে কোরবানী দিচ্ছি গত কয়েক বছর একই সাইজের গরু কিনছি এবার সর্বোচ্চ দাম দিয়ে কিনলাম। কি করবো বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। আগে এই সাইজের গরু কিনেছিলাম ৭৫ হাজার বা ৮০ হাজার টাকায়। ঈদগাঁও এলাকার ব্যবসায়ি মনজুর আলম বলেন,শনিবার বাজারে কয়েক হাজার গরু উঠেছে কিন্তু বাড়তি দামের কারনে অনেক ক্রেতাই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। আমি নিজেও অস্বাভাবিক দামের কারনে গরু কিনতে পারিনি। এদিকে জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ অসীম বরণ সেন বলেন,কোরবানী একটি বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে গরু বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হওয়ার জন্য বেশির ভাগ খামারীরাই অধির আগ্রহে বসে থাকে। অনেকে বেশ কয়েক মাস আগে থেকে মোটাতাজা করে। তাকে প্রচুর টাকা ও খরচ হয়। তবে আমি একটা বিষয় একমত কিছু ব্যবসায়ি আছি অতিরিক্ত দাম বলে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে। এর মধ্যে একটি কারনও আছে। অনেক ব্যবসায়ি আছি যারা প্রকৃত গরুর মালিক থেকে কম দামে গরু কিনে নিয়ে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT