বাজার নিয়ন্ত্রন কার হাতে ?

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২০
  • 308 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১

কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই। নেই খরা, মন্দা, মারী, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি বা বন্যা। তবু বাজারে নিত্যপণ্যের অভাব। দাম লাগাম ছাড়া। কেন?বিশেষ করে কাঁচাবাজারের অবস্থা বর্ণানাতীত। নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে। দফায় দফায় বেড়ে চলেছে কাঁচা শাক-সবজির দাম। এক মাসের ব্যবধানে আলু, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।একমাস আগেও যে আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ২৮ টাকা কেজি, এখন তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫-৫৫ টাকায়। আলুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেগুনের দামও। একমাসের ব্যবধানে বেগুণের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। এখন প্রতিকেজি বেগুনের দাম ঠেকেছে ৮০ টাকায়। এছাড়াও বাড়ছে সব ধরনের সবজির দামও। কাঁচা মরিচ, মাছ, মাংসের দামও ঊর্ধমুখী।সুনিশ্চিত যে, বেশি দামের অংশ উৎপাদনকারী কৃষক পাচ্ছেন না। তারা বহু আগেই জমির ফসল নিম্নমূল্যে ফড়িয়া, পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পণ্য সামগ্রী এখন বড় বড় ব্যবসায়ী, মজুদদারদের গুদামে। সেখান থেকে বেশি দামে ছাড়া হচ্ছে পণ্যসমূহ। এরাই নিয়ন্ত্রণ করছে বাজার। যাদেরকে সিন্ডিকেট নামেও অভিহিত করা হয়।এই সিন্ডিকেটের কবলে নিপতিত হয়ে নানা দ্রব্যের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পায়। আমদানি বন্ধ, উৎপাদন ব্যাহত, সরবরাহের বিঘ্ন ইত্যাদির সামান্যতম সমস্যা হলেই সিন্ডিকেট তাদের গুদামে মজুদকৃত মালামালের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, কৃত্রিম চাপ ও সঙ্কট তৈরি করে এবং হু হু করে দাম বাড়াতে থাকে।বিভিন্ন সময়ে আদা, রসুন, পেয়াজ, কাঁচা মরিচ, এমনকি লবণ নিয়েও মূল্যবৃদ্ধির অসৎ তৎপরতা চালিয়েছে এই অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের সিন্ডিকেট। মনে হয়, সরকার বা উৎপাদনকারী কৃষক নয়, বাজার ও পণ্যের মূল নিয়ন্ত্রক এই অর্থ-লোলুপ সিন্ডিকেট।সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথা সরকার ও জনতা সবাই জানে। কোথায় কোথায় মালামাল গুদামজাত করা হয়েছে, সেই তথ্যও অজানা নয়। মাঝেমাঝে সরকারি হানায় অনেক গুদাম জব্দ করে প্রচুর মালামাল উদ্ধারও করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট নামক অক্টোপাসকে নির্মূল করা যাচ্ছে না। সুযোগ পেলেও দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে এই অসাধু চক্র।
বিশেষ করে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি চরম অমানবিক ও মানুষের সহ্যের বাইরে। কারণ, করোনার কারণে বহু লোক কর্মহীন। অনেকেই জীবন কাটাচ্ছেন অর্ধেক বেতনে। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, দিন এনে দিনে খাওয়া শ্রেণির কাজ নেই। এমন চরম অবস্থায় ডাল-ভাত-আলু ভর্তার মতো এক পেট সাধারণ খাবার খাওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, চরম অমানবিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT