বল প্রয়োগ করে হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবী স্থানীয়দের

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • 99 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াছমিনের কাছে প্রশ্ন ছিল সাম্প্রাতিক সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষন কি? উত্তরে তিনি দৈনিক কক্সবাজারকে জানান,প্রত্যাবাসনের কথা আসলেই বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা একাধিক দাবী দেয়,এর মধ্যে প্রধান দাবী হচ্ছে মায়ানমারে তাদের পূর্নাঙ্গ নাগরিকত্ব দিতে হবে, এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই দাবীটি তারা বাংলাদেশে থেকে কিভাবে করে ? যেখানে গত ১০০ বছরেও তাদের নিজ দেশ জন্মভূমি মায়ানমারে থেকে সেই দাবী তারা আদায় করতে পারেনি। সেটা বাংলাদেশে থেকে কিভাবে আদায় করা সম্ভব ? আমি মনে করি তাদের দাবী গুলোকে আমলে নিয়ে বার বার প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্থ হওয়া আমাদের দেশে জন্য খুবই অশুভ ইংগিত। কারন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়টি এখন অনেকটা জটিল হয়ে গেছে কারন তারা নিজ ভিটাবাড়িতে নেই। তাই বাংলাদেশে উচিত হবে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে হলেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন,কক্সবাজার রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে এখন ২ বছর পূর্ন হতে চলেছে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গাদের শারিরিক ও মানসিক অবস্থার মধ্যে বিশাল ফারাক হয়েছে সব রোহিঙ্গা এখন বেশ সুস্থ সবল। এখন প্রত্যাবাসন ইস্যূতে বার বার আমরা ব্যার্থ হচ্ছি এটা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আর বার বার রোহিঙ্গারা যে দাবী গুলো দেয় সেগুলো পূরন করা বাংলাদেশের পক্ষে পূরন করা সম্ভবনা। কারন এগুলো আর্ন্তজাতিক বিষয়। বিশেষ করে তাদের পূর্নঙ্গ নাগরিকত্ব দেওয়া আর বাড়িভিটা ফেরত দেওয়া,গণহত্যার বিচার করা এসব বিষয়ে বাংলাদেশের করনীয় অত্যন্ত সীমিত। আর এসব দাবী বাংলাদেশে আশ্রিত ভাবে থেকে আদায় করা কখনো সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। তাই রোহিঙ্গাদের দাবীকে খুব বেশি প্রাধান্য না দিয়ে যে কোন ভাবে তাদের প্রত্যাবাসন করা খুব জরুরী।
জেলা সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেণ,বর্তমানে রোহিঙ্গাদের আচার আচরণ দেখে মনে হয়না তারা আমাদের দেশে আশ্রিত। যদি তারা মিছিল করতে পারে,দাবী আদায়ের জন্য ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে মাঠে নামতে পারে,চাকরী করতে পারে,ভাল বেতন পায়,রেশন পায় তাহলে কিভাবে তারা স্বরণার্থী হলো? আর ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৩ হাজার ৪৫০ জন কে প্রত্যাবাসন করার মধ্যে দিয়ে আমরা একটি শুভ সূচনা দেখতে চায়। রোহিঙ্গাদের যে কোন দাবী সেটা তারা নিজ দেশে গিয়ে করুন সেখানে পাশবর্তি দেশ হিসাবে আমাদের পূর্নঙ্গ সমর্থন থাকবে।
এদিকে মঙ্গলবার কক্সবাজার ঘুরে গেছেন মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে কিভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যবাসন হবে কোথায় রাখা হবে,নিরাপত্তা সহ সব কিছু দেখেন বলে জানান কক্সবাজার স্বরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম। তিনি বলেন, ২২ আগষ্ট রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন শুরু সূচনা করার একটি স্বপ্ন নিয়ে বসে আছি দেখা যাক কোথায় কি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT