শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে দূর্গা পূজায় হামলা প্রতীমা ভাংচুরের প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন বিদেশে যেতে চায় মুহিবুল্লাহ‘র পরিবার পাহাড়তলীতে বেলালের গ্যারেজে আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা কাপ্তাইয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না সৌদিতে বিনা শুল্কে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীর নির্দেশ দিলেন অতিরিক্ত বানিজ্য সচিব পাহাড়তলীতে গ্যারেজের আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াবা নিয়ে সহযোগি সহ ঢাকায় আটক পাঁচ কেজি আইসসহ টেকনাফ সিন্ডিকেট প্রধান ঢাকায় আটক পেকুয়ায় ত্রিভূজ প্রেমের বলি দুই প্রেমিক-প্রেমিকা

বর্হি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে ভোগান্তির শেষ নেই :রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে সবাই তৎপর

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জুন ১৩, ২০২১
  • 177 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কলাতলীস্থ ঝরঝরি পাড়া এলাকার নাছিমা আক্তার(৪৫) পেশায় গৃহীনি স্বামী টমটম চালক নাছিমা আক্তারের বেশ কয়েকদিন ধরে পেটে ব্যাথা অনুভব হচ্ছে তাই সকাল ৮ টায় এসেছেন সদর হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ১০ টার দিকে বর্হি বিভাগের টিকিট নিয়ে ডাক্তার দেখাতে নতুন ভবনের সামনে আবার লাইনে দাড়িয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ১১ টা ১০ মিনিটে ডাক্তারের দেখা পেয়েছেন, তবে সেই ডাক্তার বলেছেন আপনার সমস্য জটিল,বেশ কিছু পরীক্ষা করতে হবে,তাই মূল ভবনের দুতলায় গিয়ে কনসালটেন্ট ডাক্তার দেখান। পরে আবার সেখানে এসে লাইনে দাড়াতে আর শরীর স্থির রাখতে না পেরে হেলান দিয়ে বসে আছেন দেয়ালে, তবে কনসালটেন্ট ডাক্তারের দেখা পেয়েছেন দুপুর ১ টার পরে। তিনি কিছু ঔষধ দিয়েছেন বটে সাথে দিয়েছেন বেশ কিছু পরীক্ষা,হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা বিষয়ে নাছিমা বলেন,এরকম জানলে হাসপাতালে না এসে ঘরে মরে যেতাম। একই ভাবে ৯ জুন সকালে কানের সমস্যা নিয়ে ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন শহরের টেকপাড়ার শামিমা আক্তার,তিনি জানান কয়েকদিন ধরে ছেলের কান দিয়ে পানি পড়ছে তাই ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এসে মনে হচ্ছে যে হয়রানীও ভোগান্তির শিকার হয়েছি তা ভাষায় বর্ণনা করতে পারবো না। প্রথমে টিকেট নেওয়ার সময় বলেছি নাক,কান,গলার ডাক্তার দেখাবো তারা আমাকে নতুন ভবনে পাঠিয়েছে আমি মনে করেছি সেখানে নাক,কান,গলার ডাক্তার বসে দীর্ঘ দেড় ঘন্টা যুদ্ধ করে সেখানে গিয়ে দেখি তিনি অন্য বিভাগের ডাক্তার,তিনি আবার আমাকে রেফার করেছেন নাক,কান,গলা বিভাগের ডাক্তারের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে প্রথমে দিলে অুসবিধা কি ছিল। আর নাক,কান,গলা বিভাগে এসে সেখানেও দীর্ঘ লাইন আর স্টাফদের গালাগালি শুনে প্রায় ১ বাজে ডাক্তার দেখিয়েছি। তিনি বলেন সেখানে দেখেছি কিছু রোহিঙ্গা প্রতিনিধি এনজিওতে চাকরীরতরা আমাদের লাইনে দাড় করিয়ে রোহিঙ্গাদের ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালের বর্হি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে এরক অসংখ্য হয়রানী এবং দূর্ভোগের কথা। তারা দাবী করেন,মূলত এখানে আসা বেশির ভাগ গরীব অসহায় মানুষ,তারা টাকা থাকলে নিশ্চই এখানে আসতো না। তাই এখানে পদে পদে হয়রানীর স্বীকার হয়েও ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। একজন ডাক্তার দেখাতে কয়েক দফা লাইনে দাড়িয়ে কর্মচারীদের গালমন্দ শুনে সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়াতে হয়। এর পরেও ডাক্তারের চেম্বারে গেলে সেখানে ডাক্তার ভাল করে কথাই বলেনা,কি সমস্যা শুনে মাত্র একটু না দেখেই মুখস্ত ঔষধ লিখে দেয়। কিছু বুঝাতে চাইলে উল্টো গালমন্দ করে,সেখানে থাকা কর্মচারীরা টেনে হিচড়ে নিয়ে আসে। সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কনসালটেন্ট ডাক্তাররা চেম্বারে আসেন প্রায় ১২ টার পরে এসে খুবই তাড়াহুড়া করে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই্ আবার চলে যান। পরে অবশ্য ঠিকই প্রাইভেট চেম্বারে বা হাসপাতালে সময় দেন। এদিকে আরে ভোগান্তির কথা জানালেন হাসপাতালের নীচ তলায় পরীক্ষা করাতে আসা লোকজন। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে আসা খুরুশকুলের আজিজুল হাকিম বলেন, আমি ৮জুন অনেক কষ্ট করে ডাক্তার দেখিয়েছিল,তখন ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিয়েছে। সেদিন বেলা ২ টার সময় আসাতে উনারা রক্ত পরীক্ষা সহ আরো পরীক্ষা গুলো করায়নি তাই ৯ জুন আজকে এসেছি। টাকা জমা দিয়েছি দেড় ঘন্টামত হবে এখনো সেম্পল জমা দিতে পারিনি। লাইনে দাড়িয়ে আছি এখানে অনেকে ভেতর থেকে এসে দিয়ে যাচ্ছে সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রোহিঙ্গারা আমাদের আগে এসে লাইনে না দাড়িয়েও সব কিছু সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে এখানে দেখলাম তাদের কিছু প্রতিনিধি আছে যারা বলা মাত্র এখানকার কর্মচারীরা আগে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করছে মনে হচ্ছে আমরা এখন মায়ানমারে আছি সেখানে চিকিৎসা নিতে আসছি। একই অবস্থা আলট্রাসনোগ্রাফি,এক্সরে বিভাগেও সেখানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা সদর হাসপাতালের সিনিয়র এক কর্মচারী বলেন,এখানে সব কিছু রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রি কারন এখন এখানে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট চলছে রোহিঙ্গাদের জন্য। তাদের কাজ করলে সবাই অতিরিক্ত টাকা পাবে,হাসপাতালের সুপার থেকে শুরু করে ওয়ার্ড বয় পর্যন্ত সব কিছুতে তাদের টাকা। তাহলে সরকার কি করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সরকারের সব সুযোগ সুবিধা আছে তবে এখনে নগদ টাকার জন্য সব এনজিওর হয়ে গেছে। সুষ্ট তদন্ত করে দেখেন কত কিছু বেরিয়ে আসবে। এ ব্যপারে জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সুমন বড়–য়া বলেন,কনসালটেন্ট ডাক্তাররা হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগি দেখার বর্হি বিভাগে রোগি দেখে তাই উনাদের চেম্বারে আসতে দেরি হয়। আর হাসপাতাল সবার জন্য উন্মোক্ত এখানে রোহিঙ্গা বা বিদেশী এবং স্থানীয় সবার জন্য একই নিয়ম। তবে ক্যাম্পে থেকে আসা আনরেজিস্ট্রাট রোহিঙ্গারা হাসপাতালে আসলে তাদের দেখাশুনার জন্য তাদের কিছু লোকজন আছে। যেহেতু তারা আমাকের অনেক লোকবল,যন্ত্রপাতি,ঔষধ পত্র দিচ্ছে তাই রোহিঙ্গা বা এনজিওদের সহায়তা করা হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী দেশে রোহিঙ্গা এসেছে ৩ বছর আগে। এর আগে কি দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিলনা। যখন কি সরকার ঔষধ যন্ত্রপাতী,লোকবল দেয়নি ? এখন রোহিঙ্গারা সব কিছু দখল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। হাসপাতাল সহ যাবতীয় সরকারি সুবিধা থেকে এভাবে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। আর কর্মকর্তারা বাড়তি সুবিধা এবং লুটপাটের জন্য রোহিঙ্গাদের প্রাধ্যান্য দিয়ে স্থানীয়দের নাগরিক সেবা দিচ্ছেনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT