বন কর্মকর্তারাই বিক্রি করছে ঝাউবাগানের জমি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২০
  • 81 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
রক্ষক যেভাবে ভক্ষক যেখানে কোন হিসাবেই আর কূলধরেনা। এমনটাই ঘটছে কক্সবাজারের ঝাউবাগান রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের খেত্রে। ঝাউবাগান রক্ষায় দায়িত্বে থাকা কর্তব্যাক্তিরাই প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে ঝাউবাগানের জমি। দিনের বেলায় লোকদেখানো বাগান করলেও রাতের বেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল টাকার বিনিময়ে ঝাউবাগানের জমি বিক্রি করছে নিজেরাই। আর এসব জমিতে গড়ে উঠেছে বিপুল সংখ্যাক ঘরবাড়ি। ফলে এক সময় এই বসতি উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে পড়তে হয় বেকায়দায় অন্যদিকে এ সমস্ত এলাকায় বাড়ছে অপরাধ। তাই দ্রুত এসব ধরনের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।
কক্সবাজার শহরের বৃহত্তর কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার পাশ^বর্তি সমুদ্রতীর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঝাউবাগানের জন্য বনায়ন করা জমির ভেতরেই গড়ে উঠছে নতুন নতুন ঘর। নাজিরারটেক এলাকার পাশে ঝাউবাগানের ভেতরে সম্প্রতী ঘর নির্মাণ করার জন্য ঘেরাবেড়া নিয়ে আসা মোহাম্মদ সুলতানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,তার পুরু পরিবার সমিতির পাড়ায় থাকে একযুগের বেশি সময় ধরে কিন্তু অনেক দিন পর একটুকরা জমির মালিক হয়েছি। তিনি ২ গন্ডা জমি কিনেছেন ২০ হাজার টাকা দিয়ে, তিনি স্বিকার করেন বন বিভাগের লোকজনের কাছ থেকেই এই জমি কিনেছে এখন ঘর তৈরি করছে। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সব ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পার্শবর্তি ঝাউবাগানের জমিতে ১ বছর ধরে ঘর করে আছেন বুরি নামের মহিলা থাকেন পরিবার নিয়ে, জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো সব বনবিভাগের জমি মূলত আমরা মোস্তাক থেকে জমি কিনেছি তবে টাকার ভাগ বড় মিয়া সাহেব(বিট কর্মকর্তা) থেকে শুরু করে সবাই নিয়েছে কারন তারা আমার বাড়িতে এসে সব যাচাই বাছাই করে গেছে এবং বাহারছড়া এলাকার একজন সব কিছু ম্যানেজ করে। এ সময় আবদুল হালিম নামের একজন বলেন,মূলত এখানে সব সরকারি বনবিভাগের জমি বহু আগে থেকে এখানে মানুষ ঘরবাড়ি নিয়ে বসাবাস করছে আগে মোস্তাক,কামাল সহ অনেকে এগুলো বিক্রি করতো আর এখন শফি আলম,সেলিম,রমজান আলী,পুতু সহ অনেক নিয়োজিত কর্মচারীরা বিক্রি করে। তবে সব কিছুতে মোটা টাকা নেন বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার। আমরা শুনেছি তিনি শহরের স্থানীয় এক মেয়েকে বিয়ে করে বর্তমানে অনেকটা দাপটের সাথে সব অনিয়ম দূর্নীতি করে। ফলে কোন সাংবাদিক বা অন্যকাউকে পাত্তা দেয়না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান,তারা বন বিভাগের লোকজনের কাছ থেকে দখল বুঝে নিয়েছে এবং গন্ডা প্রতি ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকাও দিয়েছে। তাদের দাবী বন বিভাগের লোক ছাড়া এখানে কোন জমি বিক্রি হয়না। যদি স্থানীয় ভাবে কোন জমির দরদাম ঠিক করতে না পারে তাহলে বাহারছড়ায় শহর বন বিভাগের অফিসে গিয়ে সেখানকার কর্মকর্তা সহ সব কিছু ম্যানেজ করে জমি বিক্রি করে। আপনারা রাতের ১০ টার সময় গেলেও দেখবেন সেই বন বিভাগের অফিস খোলা আছে এবং সেখানে অনেক লোক টাকা নিয়ে ঘুরছে। এছাড়া বন বিভাগকে ম্যানেজ করে এখানে প্লট করে স্থানীয় কতিপয় রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিও বিপুল জমি বিক্রি করছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বন বিভাগের জমি থাকা বাসিন্না পাড়া এলাকার মাথায় বর্তমানে মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছে হাবিবের ছেলে রহিম উল্লাহ এবং আমির উদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন। তাদের বাড়ি প্রকাশ্য দিনে রাতে ইয়াবার আসর বসে এছাড়া রাতে মদ জুয়ার আড্ডার কারনে এলাকা মানুষ থাকতে পারেনা। এভাবে মোস্তাক্য পাড়া,নাজিরার টেক সহ অনেক এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের আখড়া। এদিকে বন বিভাগের জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বিকার করে বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার বলেণ,আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকে এখানে অনেক ঘরবাড়ি ছিল,আমরা বন বিভাগ থেকে ৪৭৫ জনের একটি তালিকা করে জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠিয়েছি তাদের উচ্ছেদের জন্য। আর আমার সময়ে কয়েক হাজার একর নতুন করে ঝাউবাগান সৃজন করা হয়েছে। তাই বন বিভাগের জমি বিক্রি করার অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT