প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে অবৈধ বানিজ্যঃ সতর্ক করলেন ডিসি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯
  • 104 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ (লিখিত)পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্টিত হবে। ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষাকে ঘিরে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তৈরি হয়ে গেছে অসংখ্য দালাল। তারা মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে থাকা কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল টাকা। ভূক্তভোগীদের দাবী আগেও একই ভাবে শিক্ষক নিয়োগে টাকার লেনদেন হয়েছে। এবারও প্রার্থীদের সাথে অনেক দালাল যোগাযোগ করছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন বা তদবির না করার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। কেউ চাকুরী দেওয়ার নামে টাকা চাইলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত জানানো এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে ২০১৮ সালে অনুষ্টিত হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ (লিখিত)পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কক্সবাজারের প্রায় ৩০০ প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্টিত হবে চলতি মাসের ১৭ অক্টোবর থেকে। মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে থাকবেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম,জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
এদিকে এই শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে ইতি মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন হচ্ছে হলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অনেক দালাল শ্রেনীর লোকজন মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে মৌখিক পরীক্ষায় পাস নাম্বার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আর্থিক লেনদেন করছে।
ঈদগাঁও এলাকার এক কলেজ শিক্ষক বলেন,ইতি মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী আমাকে জিঙ্গেস করেছে কোথায় টাকা পয়সা দিলে চাকরী নিশ্চিত হবে ? তবে আমি পরামর্শ দিয়েছি কোথাও কোন লেনদেন না করতে। এখানে একজন অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা আছে যিনি এসব কাজ করেন।আমি শুনেছি ইতি মধ্যে অনেকে উনাকে টাকা দিয়েছে এবং তিনিও প্রার্থীদের বিষয়ে চাকুরী নিশ্চিত করতে তদবিরে মাঠে নেমেছে। এর আগেও তিনি এসব কাজ করে বিপুল টাকা আয় করেছে। তবে এসব কাজ করতে বেশির ভাগ টাকা লেনদেন করে শিক্ষা অফিসের কর্মচারীরা। বিশেষ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মচারীর নাম প্রায় সময় শুনা যায়। এবং একজন রাজনীতি বিদের নামও সবার কাছে শুনা যায়।
উখিয়ার সরকারি কর্মচারী জসিম উদ্দিন বলেণ,২ বছর আগে স্থানীয় ভাবে এক শালিশী বৈঠকে এ ধরনের টাকা নিয়ে বিচার করতে গিয়ে দেখা গেছে এক দালাল ৩ প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা করে নিয়েছে সেখান থেকে একজন টিকেছে তার টাকা রেখে বাকিদের টাকা ফেরত দিয়েছে কিন্তু পরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক দাবী করছে তার টাকা কোথাও দেওয়া হয়নি। পরে ১ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিল সেই দালাল। এখনো অনেকে এ ধরনের প্রতারনা মূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু সরকার দলীয় নেতা এবং শিক্ষক নেতা নামধারী কিছু ব্যাক্তি এসব কাজ করে বলে জানা গেছে।
রামু খুনিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ বলেন,আগেও বহুবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের কথা শুনা গেছে এখানে বেশির ভাগই শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেই এ সমস্ত কাজ হয়। তবে উনারা আদৌ সেটা জানেন কিনা এতে সন্দেহ আছে। আমার মতে এসব বিষয়ে প্রশাসনের আরো শক্ত অবস্থান নেওয়া দরকার।
ঝিংলজা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান,সরকারি চাকুরী সোনার হরিণ তাই অনেকে দিশেহারা হয়ে অনেক কাজ করে। তবে আমার মতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নিয়োগ পক্রিয়া যেন শতভাগ সচ্চ হয় যোগ্য এবং মেধাবীরাই নিয়োগ পায় সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন,এটা সত্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেতে অনেকে টাকার লেনদেন করে। এতে বেশির ভাগই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরাই জড়িত বলে দাবী করেন তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ইতি মধ্যে কিছু ব্যাক্তির নাম এসেছে যারা আগে এ সমস্ত অপরাধ মূলক কাজ করেছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এ ব্যপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম বলেন,আমি কক্সবাজারে দায়িত্বপালন কালিন সময়ে এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। তবে বাইরে কোথাও কিছু হলে সেটা আমরা জানিনা। তিনি বলেণ,শিক্ষক নিয়োগ হবে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার গড় ফলাফলের উপর এখানে প্রকৃত মেধাবীরই নিয়োগ পাবে সেখানে কোথাও অন্য কিছু করার সুযোগ নেই সুতরাং যারা কোন ধরনের অন্যায় প্রস্তাব দেবে তাদের তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ড সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,আমি রাজনৈতিক দলের পক্ষে নিয়োগ তাই আমার কাছে দলের নেতারা আসবে সেটা স্বাভাবিক তবে কোন আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই এবং এ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগও করেনি।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন,বিষয়টি আমার নজরে আসার সাথে সাথে একটি সতর্কবানী সমস্ত উপজেলা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতার ব্যবস্থা করেছি। আমি পরিষ্কার বলতে চায় চাকুরী হবে শুধু মাত্র মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে এখানে কোনরুপ আর্থিক লেনদেন কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT