শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

প্রশিক্ষণের জন্য লবণ চাষী পাচ্ছে না বিসিক : উৎপাদিত অধিকাংশ লবণ বিক্রি হয়নি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০
  • 226 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১
কক্সবাজারে প্রশিক্ষণের জন্য লবণ চাষী পাচ্ছে না বিসিক। এছাড়া লবণের মুল্য না বাড়ায় কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকায় লবণ চাষ না হওয়ার আশংকা করছেন লবণ সংশ্লিষ্টরা। গত মৌসুমে উৎপাদিত অধিকাংশ লবণ এখনো অবিক্রিত থাকায় লবণ চাষে ্আগ্রহী নয় চাষীরা। গতকাল ২৭ অক্টোবর জুম কনফারেন্সে লবণ শিল্পের উন্নয়ন স্থানীয় কমিটির সভায় বিসিক কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আশেক উল্লাহ রফিক এমপি। তিনি বলেন, লবণের ন্যায্যমুল্য না পাওয়ায় চাষীরা লবণ বিক্রি করতে পারেনি। বর্তমান দরে লবণ বিক্রি করলে চাষীদের অর্ধেকেরও বেশী পুঁজি লোকসান যাবে। এখনো বিপুল পরিমান লবণ অবিক্রিত রয়েছে গেছে। এতে লবণ চাষে চাষীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। বিষয়টি তীক্ষèভাবে খতিয়ে দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুনরায় অবহিত করা প্রয়োজন। লবণ চাষে
কক্সবাজারের বিপুল জনগোষ্টী জড়িত। এই স্বয়ংসম্পুর্ণ খাতটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বিষয়টি নিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সোডিয়াম সালফেটের নামে আমদানি করা হচ্ছে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ। আমদানি
নিষিদ্ধ হলেও বন্ড সুবিধার আওতায় আনা সোডিয়াম ক্লোরাইড সরাসরি বাজারজাত করছে অসাধু চক্র। এ কারণে হুমকিতে পড়েছে দেশিয় লবণ শিল্প। তাই শিল্প খাতের কাঁচামাল হিসেবে এবং বন্ড ওয়্যার হাউস সুবিধায় সোডিয়াম জাতীয় পণ্য আমদানি ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। বিসিক’র দেয়া তথ্যমতে চাহিদা মেটানোর লবণ বাংলাদেশেই উৎপাদন হয়। এ কারণে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ চায় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া খাবার লবণ হিসেবে ব্যবহৃত সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানিতে কর হার ৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে, শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানিতে কর হার ৩৭ শতাংশ। এ সুযোগে বাজারে চাহিদা এবং আমদানিতে করের সুবিধায় থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সোডিয়াম সালফেট, বিট লবণ, কসটিক সোডার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত লবণ আমদানির ঘোষণা দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে। পরিশোধিত হয়ে আসা এসব লবণ ওয়্যার হাউসে না রেখে, শিল্প- কারখানায় ব্যবহার না করে ভোজ্য লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে। ফলে দেশে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হচ্ছে না এবং লবণ চাষিরাও নায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে লবণের চাহিদা ১৬.৫৭ লাখ মেট্রিকটন এবং উৎপাদন
লক্ষমাত্রা ছিল ১৮ মেট্রিকটন। চাহিদার বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লবণ মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থাৎ ১৮.২৪ লাখ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন হয়েছে। বিসিক এর মহাপরিচালক সরোয়ার হোসেন জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে বর্তমানে প্রশিক্ষণের জন্য চাষী পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের হতাশ করেছে। লবণের ন্যায্যমুল্য না পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের কোন লবণের ঘাটতি নাই। নভেম্বর মাসেই শুরু হবে নতুন মৌসুম। বর্তমানে যে পরিমাণ লবণ উদ্ধৃত রয়েছে এতে লবণ ঘাটতির কোন সম্ভবনা নেই।
কক্সবাজার বিসিক’র উপ-মহাব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গত মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী লবণ উৎপাদন হয়েছে। তারপরও নানা কৌশলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি অপ্রয়োজনীয় সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে এই শিল্পকে ধংস করার ষড়যন্ত্র করছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, লবণ শিল্প কক্সবাজারের অর্থনীতির জন্য চালিকা শক্তি। এ শিল্প ধংস হলে অন্তত ৫০ হাজার পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ লবণ পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এতে চাষীর অভাবে লবণ চাষ ব্যহত হতে পারে। কোন জমির মালিক এখনো চাষী জোগাড় করতে পারেনি। যারা প্রকৃত লবণ চাষী তাদের অধিকাংশই এখন অন্য পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের অগ্রীম টাকা দিলেও লবণ চাষে আনা যাচ্ছে না। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাসেম, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। জেলা লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদসহ কমিটির সদস্য বৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT