প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রোহিঙ্গা নারী ধর্ষন করে মামলাঃ বাদী শ্রীঘরে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • 124 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে যুবতি মহিলা এনে ধর্ষন করে মামলা দায়ের পূর্বক ২ জনকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি তদন্তে ভয়ংকর সাজানো মামলার বিষয়টি উঠে আসার পর পুলিশ মামলার বাদীকে আদালতের নির্দেশে আটক করে হাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হতবাক হয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটেছে সদরের লিংকরোড মহুরি পাড়া এলাকায়। মনুষ্যত্ববোধ যে দিন দিন তলানিতে পৌছেছে তার জলন্ত প্রমান এ মামলাটি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার মডেল থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং কয়েকজন ভুক্তভোগী সুত্রে জানাযায়, মহুরীপাড়ার মোঃ ইসমাইলের সাথে তারই প্রতিবেশি নাসির উদ্দিন, খালকুজ্জমান, আবদুল্লাহ এবং জাগের আহমদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন। প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে দূর্বল করতে গত ১০ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নয়াপাড়া থেকে মোঃ আল আমিনের মেয়ে ( নাম প্রকাশ করা হলনা) কাজ করার জন্য লিংকরোডে এনে মোঃ ইসমাইলের স্ত্রী রওশন আক্তার তার আত্মীয় নুরুদ্দীনকে দিয়ে ধর্ষন করায়। পরে সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করায়। সেদিনই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোঃ ইসমাইলের স্ত্রী রওশন আক্তার বাদী হয়ে নিজের মেয়েকে ধর্ষন করেছে বলে ৪ জনকে আসামী করে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করে যার নং ২৫/১৯। মামলায় আটক করা হয় আসামি নাসির ও আবদুল্লাহকে। জব্দ করা হয় ধর্ষিতার ব্যবহৃত কাপড়।
মামলার তদন্ত দেয়া হয় অফিসার মোঃ ইয়াসিনকে। তিনি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রকৃত রহস্য উঠে আসে। ধর্ষিতার প্রকৃত পরিচয় জানতে গিয়ে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। ধর্ষিতা টেকনাফ নয়াপাড়া রেজির্স্টাড ক্যাম্পের মোঃ আল আমিন ও ফাতেমা খাতুনের মেয়ে। তার প্রকৃত ঠিকানা ব্লক সি, শেড নং ৮৯৩, কক্ষ নং ২, এমআরসি নং ৬১৯৫৮। ধর্ষিতাকে কাজের মেয়ে হিসাবে এনে চট্টগ্রামের নুরুদ্দীন নামের বাদীর আত্মীয়ের মাধ্যমে ধর্ষন করিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে উক্ত মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় বাদী রওশন আক্তার ,তার ছেলে সরওয়ার , নুর হোসেন ও মোর্তজা নামের মহিলার যোগসাজস রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান। ধর্ষিতাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তার জবানবন্দী গ্রহন করে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের হওয়ার পর আদালত উক্ত মামলার বাদী রওশন আক্তারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার বাদী কারাগারে রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতে জঘন্য কাজের আশ্রয় নেয়া রওশন আক্তার উল্টো ফাঁদে পড়ে জেলখানায় কাঁদছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা পালিয়ে রয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ ইয়াসিন।
কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান কবির জানান, বিষয়টি খুবই জটিল। ধর্ষনের ঘটনার পর আমরা বাদীর কথা অনুযায়ি ২ জনকে আটকও করেছি। পরে তদন্ত কর্মকর্তার তৎপরতা এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বের করে বিষয়টি সন্দেহ হলে বাদীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা তরুনি এনে তার আত্মীয়কে দিয়ে ধর্ষন করিয়ে প্রতিপক্ষ কে আসামী করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বিকার করে বাদী। র্তমানে পারিবারিক শত্রুতা, জমি বিরোধ, সীমানা বিরোধ, পূর্ব শত্রুতার জন্য এমনকি সামান্য কারনে মানুষ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ সন্তানকে হত্যা করতে ও দ্বিধা করছেনা। মিথ্যা মামলায় আটকদের মুক্তির দাবি করছেন পরিবার। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মেয়ে এনে ধর্ষন করিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলাকারিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT