শিরোনাম :
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জেলা আনসারও ভিডিপি’র বর্ণাঢ্য পতাকা র‌্যালী অনুষ্ঠিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াতে ইসলামপুরে তরুনীর আত্মহত্যা ঈদগাঁও রাবার ড্রাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিবার্চন সম্পন্ন সড়ক দূর্ঘটনায় মহেশখালী থানার পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু গণপরিবহনে হাফ ভাড়া চান চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা

প্রজননকর্মী আশিকের কাছে জিম্মি পেকুয়া সরকারি পশু হাসপাতাল

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯
  • 116 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ

কক্সবাজার জেলার অন্যতম শিল্প এলাকা পেকুয়া উপজেলাটি বর্তমানে সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় রূপ নিয়েছে। পেকুয়া ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। যেখানে বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু লালন-পালন করা হয়। সম্প্রতি এখানে গড়ে উঠেছে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম। এ ছাড়া পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকায় লালন-পালন করা হয় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি । দুর্ঘটনায় আহত ও নানা রোগে আক্রান্ত গবাদি পশুপাখির একমাত্র সরকারি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এটি। অথচ এই হাসপাতালটি এখন সহকারি পদে থাকা আশিকুর রহমানের কাছে জিম্মি।

জানা গেছে, তার দায়িত্ব হাসপাতালে ডিউটি করা এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অসুস্থ পশুকে ওষুধ প্রয়োগ করা ও হাসপাতালে প্রজননের সময় ডাক্তারকে সহযোগিতা করা। কিন্তু তার অবস্থান এখন নিয়মের বাইরে।

অভিযোগ ওঠেছে, হাসপাতাল চলাকালিন সময়ে টাকা ছাড়া কোন সেবা দিতে প্রস্তুত নন সে। যে কেউ পশু নিয়ে হাসপাতালে আসলেই টাকার কন্টাক্ট করেই শুরু করেন পশুর চিকিৎসা। প্রজনন ফি ৫০ টাকা সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকলেও সে আদায় করে ৫০০-৬০০ টাকা। এমনকি সে গ্রাম গঞ্জে গিয়ে সরকারি পশু ডাক্তার পরিচয় দিয়ে টাকার বিনিময়ে করেন পশুর চিকিৎসা। অনেক ক্ষেত্রে নামে বেনামে পশুকে ইনজেকশন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে। তার প্রয়োজন হয়না কোন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা পরামর্শ। এ কাজ করতে গিয়ে তার অপচিকিৎসায় একাধিক প্রাণী মারা যাওয়ারও অভিযোগ ওঠে। যদিও তার অফিসের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা বা পরামর্শ দেওয়ার নিয়ম নেই। তবুও এসব নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি যেখান থেকেই খবর আসে সেখানেই চিকিৎসা দিতে ছুটে যান। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা।

অভিযোগে জানা যায়, গত কয়েকদিনে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে পেলে কয়েক প্রজাতির পশু।

রাসেল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, গরু প্রজনন করতে সরকারি পশু হাসপাতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে প্রজননকর্মী আশিককে একটি ভালো জাতের প্রজনন দিতে বলি। সে ইনজেকশন দেওয়ার পরে আমার কাছ থেকে পাঁচ’শ টাকা দাবি করে বসে। সরকারি হাসপাতালে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা আছে প্রজনের ক্ষেত্রে এমন কথা বলা মাত্র সে নিজেকে বড় সার্টিফিকেটধারী ডাক্তার দাবি করে বলেন ফ্রিতে চিকিৎসার ইনজেকশনটি দেওয়া হয়নি এটি দামি ইনজেকশন। টাকা না দিতে অপারগতা দেখালে সে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। পরে পকেটে থাকা ২৫০ দিয়ে বাকি টাকা স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে দেওয়া হবে ন বললে সে বলে এমন কথা বলে অনেকে না দিয়ে চলে গেছে চিটিংবাজি করার সুযোগ নেই। অনেক কথা কাটাকাটির পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি।

ভুক্তভোগী তাওহিদ হলেন, প্রতিদিন আয়ের কিছু অংশে থেকে জমিয়ে একটি গরু কিনেছি। গরুটি বাচ্ছা দেয় একটি। হঠাৎ একদিন আমার বাড়িতে এসে বলে সরকারি হাসপাতাল থেকে এসেছি আপনার ঘরকে প্রজনন দেওয়ার জন্য। এই বলে প্রথমবার প্রজনন দিয়ে আমার কাছ থেকে নেয় সাত’শ টাকা কিন্তু এটি ঠিকেনি। পরের বার ফোন করে জানা হলে সে দ্বিতীয়বার এসে আরেকটি প্রজননের ইনজেকশন দেয়। সে সময় গাভীটির ছোট বাচ্ছাটার হালকা পায়খানা হচ্ছিল। এমন সময় তাকে বাচুরটির চিকিৎসা করতে না বললেও সে বলে আমি একটি ইনজেকশন দিলে ভালো হয়ে যাবে। তা বলে ইনজেকশনটি দিয়ে দেয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর বাচ্ছাটি অসুখ আরো বেড়ে যায়। দুইদিন পর বাচ্ছাটি মারা যায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া সরকারি পশু হাসপাতালের (এআফআই) কৃত্রিম প্রজননকর্মী আশিকুর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।

এবিষয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT