পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২০
  • 63 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১

কক্সবাজার পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর পল্যানিয়া পাড়া এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ জনবহুল এলাকা। উক্ত এলাকায় শান্তি,পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মিলেমিশে বসবাস করে যাচ্ছে মুসলিম-হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সম্প্রতি সারা বিশ্বে চলমান ক্রান্তিলগ্নে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রবল থাবায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো উক্ত এলাকাতেও নেমে এসেছে জনজীবনে স্থবিরতা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উক্ত এলকায় সরকারি-বেসরকারি যে কোন সাহার্য্য সহযোগিতা বা ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রমের পরিধি অন্যান্য এলাকার চাইতেও নগন্য। যা দেয়া হয়, তাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অতি আপনজন বা দলীয় লোকদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের ত্রাণ বিতরনের কার্যক্রম। যার প্রমাণ ওই এলাকায় জনসাধারণের মুখে মুখে বলতে শুনা যায়, স্থানীয় পৌরকাউন্সিলার ওমর ছিদ্দিক লালু শুধুমাত্র আবদুল আমিন ও ফজলের মেয়ে মিনা তাদের উভয়ের পরিবার -আত্মীয় স্বজনের লোকজনকে চিনে, সব ধরনের সাহার্য্য তাদের দু’ পরিবারের পছন্দের লোকেরাই পায়, বাকীরা পায় আশ্বাসের ফুলঝুরি। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৫ এপ্রিল UNDP অর্থায়নে পৌরসভার স্ব স্ব ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর পল্যানিয়া পাড়া এলাকায়ও বিতরণ করা হয় স্যানিটাইজার সামগ্রি”সাবান”। পরিবার প্রতি ৪টা করে সাবান পাবে যা তাদের ফরম্যাটে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ৬নং ওয়ার্ডের মাননীয় কাউন্সিলর ওই এলাকার স্থানীয় শিক্ষিত- সুশিল সমাজের লোকদের কোনরূপ পরামর্শ বা মতামতের তোয়াক্ষা না করে স্ব- পছন্দের লোকদের দিয়ে ত্রাণ বিতরণের যাবতীয় টোকেন বা কার্ড বিতরণ করে থাকে। যাদের কোন নূন্যতম শিক্ষার ধারণা নাই। ফলে এলাকায় সৃস্টি হয় বিশৃঙ্খলা, মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মতো বিরুপ প্রভাব। কিন্তু বিতরণকারিদের কি আসে যায়! হ্যাঁ তাদের কয়েকটা লাভ হয়, যেমন – তাদের একটা আদিপাত্য বিস্তার ঘঠাতে পারে, অ ঘোষিত নেতা বনে যেতে পারে, পারে “আমিত্ব” প্রকাশ করতে। অন্যথায়, কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত টোকেন বা কার্ড যে জনগন পাবে না! মাননীয় কাউন্সিলর মহোদয় কথিত ওই দুই রতি-মহারতিকে এলাকায় যে কোন লিস্ট করতে দায়িত্ব দেয়। ফলে তারা নিজেদের কাউন্সিলরের চেয়ে বেশি ক্ষমতাপ্রাপ্ত মনে করে। মনে করাটা স্বাভাবিক। কারণ, নাম লিস্ট করার ক্ষমতা যে তাদের হাতে! ভয়ে মুখ খুলেনা কেউ। খুললে কবে যে নামটা বাদ পড়ে যায় অজান্তে! এই মৃদু ভয়ে মুখ বুঝে সয়ে যায় এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ।
তারই প্রমাণ, গতকাল মিনা নামের জনৈক মহিলা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সাবান বিতরণের নির্দিষ্ট ফরমে সব কটি নামই তার(মিনার) আত্বীয় স্বজনের কাছে বিতরণ করেছে। বেনিফিশিয়ারির নাম ও দস্তখত নিজেই (মিনা) সম্পাদন করেছে দুই তৃতীয়াংশ। মোবাইল নং হাতে গুনা কয়েকজনের টা মিল থাকলেও অধিকাংশ নং ই অমিল। গোপনে ধারণকৃত প্রদত্ত সুবিধাভোগীদের নামীয় তালিকায় একজনের নাম ঘুরেফিরে বারবার লেখা হয়েছে। কৌশলে পরিবর্তন করেছে মোবাইল নম্বরটা। বিষয়টা কি মাননীয় কাউন্সিলর সাহেবের নজনে আসেনি? প্রশ্ন এলাকার জনসাধারণের। শুধু তাই নয়, ফরম্যাটে উত্তর পল্লানিয়া পাড়া এলাকার নাম না লিখে লিখেছে মাঠিয়াতলী। প্রশ্ন হলো – তাহলে পল্লানিয়া পাড়ার ফরম্যাট টা কোথায় গেল? এলাকার মানুষ কি ধরে নেবে, পল্লানিয়া পাড়ার ফরম্যাট টা কথিত ওই মিনা নামের মেয়েটা মনগড়া পূরণ করে সব সাবান আত্মসাৎ করেছে? সঠিক তদন্তে বেরিয়ে পড়বে থলের বিড়াল! জনৈক মিনা’র সাথে কে বা কারা জড়িত গর্হিত এহেন কাজে। নাকি নিজেই জড়িত। সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি এলাকাবাসির। আর ওই এলাকার শিক্ষিত -সচেতন ব্যক্তিদের কোনরুপ পরামর্শ ব্যতিরেখে মাননীয় কাউন্সিলর মহোদয়ের আনাড়ি হাত কাঁচা লোকদের দিয়ে লিস্ট কারানো বা বিতরণের দায়িত্ব দেয়া কতটুকু যুক্তিসংগত তা প্রশ্ন রাখলাম প্রিয় পাঠকের বিবেকের আদালতে। গোপনে ধারণকৃত সাবান বিতরণের সেই তালিকাটি। ঘুরেফিরে একই নাম। অর্থাৎ যেই লাউ সেই কদু বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনগন

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT