পিএমখালী পূর্ব ছনখোলার এক রোহিঙ্গা পরিবারের উত্থান কাহিনি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১
  • 82 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
পিএমখালী ইউনিয়নের পূর্ব ছনখোলা এলাকা দীর্ঘ ২ যুগের বেশির সময় ধরে বসাবাস করেন বশিদ আহামদ। কিন্তু তিনি এখনো সেই এলাকার ভোটার হতে পারনেনি। তার জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে দেখা যায় তিনি প্রথমে কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন পরে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। শহরের খাজামঞ্জিল এলাকার তার ভাই থাকে সেখানেই তার পরিচয় পত্র স্থানান্তর করেছেন তিনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বশির আহামদ একজন প্রকৃত রোহিঙ্গা বেশ কয়েক বছর আগে এসে তার ভাই সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও বর্তমানে থাকেন পিএমখালীর পূর্ব ছনখোলাতে। এখানেই শেষ নয় তার ছেলে কামাল হোসেন,নবী হোসেন, হামিদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন সহ মেয়েদের মধ্য অনেকে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে করেছেন জাতীয় পরিচয় পত্র। তবে কথায় আছে কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। এই বশির আহামদের ছেলেরা অনেকে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াবা ব্যবসায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে বশির আহামদের ছেলে কামাল হোসেন কয়েস মাস আগে ইয়াবা নিয়ে ধরাও পড়েছিল তবে শহরের এক বড় রাজনৈতিক নেতার ছেলের অবদানে ছাড়াও পায়। একই সাথে তাদের আপন ভাগ্নি শামসুন্নাহারও ইয়াবা নিয়ে আটক হয়। তবে বর্তমানে তার ছেলে হামিদ হোসেন হচ্ছে বড় ইয়াবা ডিলার,পিএমখালী চেরাংঘাটা বাজারে কম্পিউটার দোকানের আড়ালে ইয়াবা লেনদেন করে সে। এই সাথে বড় বড় টাকার লেনদেনও হয় হামিদ হোসেনের মারফতে। চেরাংঘাটার কয়েক জন ব্যবসায়ির সাথে কথা বলে জানা যায়,ছেলে ছোট হলেও হামিদ কাজ করে অনেক বড় বড় তার কাছে শহরের অনেক নামকরা মানুষ জন এসে বসে থাকে। তবে পূর্ব ছনখোলার মানুষের দাবী কয়েক বছর আগেও বশির আহামদেরপরিবারের তেমন কিছ ছিলনা। তার ছেলেরা ফার্নিচারের দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করতো। তবে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তারা এখন কোটি পতি,বাংলাবাজারে রয়েছে তাদের নিজস্ব ফার্নিচারের দোকান,চেরাংঘাটায় রয়েছে দোকান,বাড়িও করেছে বেশ আলিশান ভাবে। বিষয়টি জানার জন্য চেরাংঘাটা হামিদ হোসেনে সাথে কথা বলতে সাংবাদিক পরিচয়ে গেলে তিনি উল্টো সাংবাদিককে ইয়াবা মামলা সহ মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হবে বলে হুংকার দেন। বাংলাবাজার এলাকার সিরাজ নামের একজন জানান,আমি হলফ করে বলতে পারি তারা ইয়াবা ব্যবসায়ি প্রমান চাইলে প্রশাসনকে অসংখ্য ভিডিও সহ প্রমান দিতে পারবো। এছাড়া তাদের দোকানে প্রায় সময় অনেক রোহিঙ্গাদের আনাগুনা দেখা গেছে। মাঝে মধ্যে গভীররাতে বস্তা নিয়ে কিছু মালামাল নিয়ে আসতে বা পাচার করতে দেখা গেছে যার ভিডিও ফুটেজ আছে। তবে হঠাৎ করে তারা আঙ্গুল ফলে কলাগাছ হয়েছে এটা সত্য। তাই তাদের আয় রোজগারের সঠিক তথ্য নেওয়া সরকারেরউচিত। আর রোহিঙ্গা হলে অবশ্যই তাদের সরকারি ভাবে বয়কট করে তারা যদি কোন জমি কিনে থাকে তা বাতিল করে এবং তাদের ছেলেমেয়েদের জাতীয় পরিচয় পত্র বাতিল করার উদ্দ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যপারে বশির আহামদ জানান,আমার ভোটার আইডি কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে এটা সত্য,তবে আমি রোহিঙ্গা নই। আর স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সাথে আমার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে তারাই এখন আমার পরিবারের নামে মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।
এ ব্যপারে জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন জানান,বর্তমানে রোহিঙ্গা বিরুধী বেশ কিছু কাজ চলছে এখন কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইডি বাতিল সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন,কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় পুরাতন রোহিঙ্গারা স্থায়ী হয়ে গেছে এখন ক্যাম্প থেকে তাদের আত্বীয় সজনের মাধ্যমে অনেকে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়াচ্ছে আমরা তাদের বিষয়ে নজরদারী রাখছি। এতে স্থানীয় জনগনকেও তিনি অপরাধ দমনে এগিয়ে আসার আহবান জানা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT