শিরোনাম :

পাহাড়তলীতে কয়েকজন রোহিঙ্গানেতার রয়েছে আর্ন্তজাতিক যোগাযোগ : বিদেশী অর্থ এনে লুটপাট করছে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, জুন ২৬, ২০২১
  • 458 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের বসাবাসকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে রক্ষা করছে। তারা নামে বেনামে ফান্ড এনে রোহিঙ্গাদের পৃষ্টপোষকতা করছে আবার অনেকে সে সব লুটপাট করে বনে গেছে বিপুল টাকার মালিক। আগে আসা এসব রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয়দের কর্মচারী হিসাবে রাখছে এসব কাজে। তবে বেশির ভাগই মানবসেবার আড়ালে রোহিঙ্গারাদের প্রতিষ্টিত করা,বিদেশে পাচার করা সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এসব অর্থ ব্যায় করে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার ইসলামপুর শাহনুর নগর এলাকায় সম্প্রতী এলাকার প্রভাবশালী রোহিঙ্গানেতা নুর মোহাম্মদ প্রকাশ মৌলবী নুর মোহাম্মদ কর্তৃক এক বাড়িতে পানির ট্যাংক স্থাপন করেছে এমন খবরে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে এই নুর মোহাম্মদ একজন প্রকৃত রোহিঙ্গা তবে এলাকার তার এখন অনেক দাপট সহজে কোন রোহিঙ্গাতো দূরের কথা স্থানীয়রাও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। তবে সম্প্রতী স্থাপন করা সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে সম্পূর্ন আরবী ভাষায় লেখা একটি সাইনবোর্ডের উপর একটি পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছে। সেই বাড়িতে কর্মরত একজন রোহিঙ্গা শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,নুর মোহাম্মদের কথায় এখানে কাজ করছি আর এই ট্যাংকি তিনি স্থাপন করেছেন,পরে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,নুর মোহাম্মদ বহু বছর আগে থেকে আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। সে এর আগেও বহু পাইপ দিয়েছে,রাস্তার কাজে অর্থ দিয়েছে,রোহিঙ্গাদের গরু দিয়েছে,এছাড়া বিভিন্ন ভাবে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করে আসছে। যেমন যে বাড়িতে এখন পাইপ বসিয়েছে সেই বাড়িটি তার দখল করা জমি এবং তার নেতৃত্বেই কাজ চলছে। তবে এর আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে সেই বাড়ি নির্মাণ এবং পাহাড়কাটার দ্বায়ে সিরাজ নামের এক ব্যাক্তিকে এক মাসের সাজা দিয়েছিল। তবে এখন কিভাবে বাড়ি নির্মাণ করছে জানিনা। তবে সে রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড করা,পাসপোর্ট করা,বিদেশে পাচার করে,বিদেশ থেকে বিভিন্ন নামে বেনামে টাকা আনা,রোহিঙ্গাদের প্রতিষ্টিত করা সব কাজ করে। তার সাথে অনেকে সরকারি সংস্থা এবং সাংবাদিকদের সাথেও সক্ষতা আছে বলে জানান তারা।
এদিকে একই এলাকার তারেক নামের এক যুবকও সম্প্রতী ঘনঘন বিদেশ যাতায়ত করে বিভিন্ন অর্থ আনে বলে জানান স্থানীয়রা। সেই বিভিন্ন রোহিঙ্গাদের সহায়তা এবং আর্থিক ভাবে পৃষ্টপোষকতা করে বলে জানা গেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা এনায়েত প্রকাশ প্রিন্ট এনায়েত এবং তার ভাই আবু ছিদ্দিক তাদের পিতা আবুল কাশেম একজন স্বীকৃত রোহিঙ্গা নেতা ছিল। এছাড়া বর্তমানে রোহিঙ্গাদের যত ধরনের কম্পিউটার এবং প্রিন্ট জাতীয় কাজ আছে সব করে এনায়েত তার মাধ্যমে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় মেইল প্রদান করে আর তার ভাই আবু ছিদ্দিক বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে রোহিঙ্গাদের জন্য ফান্ড কালেকশন করে। এলাকাবাসীর দাবী এনায়েত এবং আবু ছিদ্দিক কয়েক বছরআগেও অন্যের দোকানে কাজ করতো এখন বদর মোকাম এলাকায় নিজে দোকান করে অল্প দিনের মধ্যে পাহাড়তলী হালিমা পাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছে। এছাড়া সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় রেজিস্ট্রাট জমি কিনেছে। আবু ছিদ্দিক ২০১৮ সালে ওমরা হজ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পাহাড়তলী এলাকার রোহিঙ্গা মৌলবী নজিবুল হক একজন আর্ন্তজাতিক রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট ম্যান্টেইনকারী রোহিঙ্গা। তার তত্ত¦াবধানে চলে এলাকার রোহিঙ্গাদের সহ ধরনের সহায়তার কাজ। নগদ টাকা বিতরণ,গরুর মাংস বিতরণ,টিন বিতরণ,বিভিন্ন জেলাতে গিয়ে আইডি কার্ড করা,পোসপোর্ট করা সহ সব কিছু চলে তার নের্তৃত্বে। একই ভাবে ইসলামপুর এলাকার মৌলবী নুর হোসেন সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ডকরা,পাসপোর্ট করে বিদেশে পাঠানো,বিদেশ থেকে টাকা এনে নিজেরা অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে রোহিঙ্গাদের এসব নেতারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে সেখানকার বিভিন্ন তথ্য পাচার সহ ইয়াবা এবং স্বর্ণপাচারেও সহযোগিতা করে বলে জানা গেছে। তবে খুবই পরিতাপের বিষয় হচ্ছে তারা এলাকায় এত বেশি প্রভাবশালী তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খলতে নারাজ। বরং স্থানীয়রাও তাদের তাছে অসহায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় জানান,রোহিঙ্গাদের হাতে এখন সব ক্ষমতা তারা বল্লে পুলিশ আসে,টাকা দিলে সব কিছু ম্যানেজ হয়ে যায় এখানে তারা জমি দখল থেকে শুরু করে স্থানীয়দের তাড়িয়ে দিয়ে ঘরবাড়িও করছে। তাছাড়া প্রত্যেক রোহিঙ্গাদের কাছে প্রতিনিয়ত ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা আসছে সাথে ইয়াবা আনছে সেটা সবাই জানে কিন্তু কে বলবে কার কথা। এ ব্যপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কমিশনার আবদুল খালেক বলেন,গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গাদের প্রভাব সীমাহিন বেড়ে গেছে। অনেক রোহিঙ্গা কোটিকোটি টাকার মালিক বনে গেছে। আমরা মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিলেও তারা এখন আমাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন। তাই আর বিলম্ব না করে স্থানীয় জনগন এবং প্রশাসনকে একসাথে রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করারসময় এসেছে। এ ব্যপারে কক্সবাজার কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন,রোহিঙ্গাদের কারনে কক্সবাজার সহ বাংলাদেশের আগামী দিন হুমকির কারন হবে এটা আমরা বুঝতে পারছি। আর স্থানীয় পর্যায়ে যাদের কথা বলা হচ্ছে প্রত্যেকের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT