পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২০
  • 170 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় স্থান দখল করে নিচ্ছে স্থানীয়দের। চলমান এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় অসংখ্যা রোহিঙ্গা শিক্ষা আছে একই সাথে সম্প্রতী শেষ হওয়া পিএসসি,জেএসসি পরীক্ষায় ও অসংখ্য রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী ছিল বলে দাবী করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এছাড়া বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে বলে দাবী করেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবী আগে আসা রোহিঙ্গারা অবাধে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় তারা অনেকে সরকারি চাকরীতেও ঢুকে পড়েছে। ফলে এক সময় এই রোহিঙ্গাদের হাতেই স্থানীয়দের নির্গিহিত হতে হবে বলে ধারনা করছেন তারা। এদিকে আজ কক্সবাজার সফলে আসছেন সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাই রোহিঙ্গাদের উচ্চ শিক্ষা বন্ধে মন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সর্বস্থরের মানুষ।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহামদ বলেন,আমার জানা মতে উখিয়া উপজেলার বালুখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে চলমান দাখিল পরীক্ষায় ৮ থেকে ১০ জন রোহিঙ্গা অংশ নিচ্ছে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসায় পড়েছে। এবং খোঁজ নিলে জানা যাবে আরো বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা এবং স্কুল থেকে রোহিঙ্গারা দাখিল এবং এস.এস.সি পরীক্ষা দিচ্ছে। তিনি দাবী করেন আমার কাছে তথ্য আছে ৩৫ জন রোহিঙ্গা বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয় সহ অনেক প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে। মূলত এরা সবাই আগে আসা (১৯৮০ সাল থেকে ২০০১) রোহিঙ্গাদের ছেলে মেয়ে।
নাম প্রকাশে উখিয়া কলেজের ২ জন শিক্ষক বলেণ,উখিয়া কলেজে কমপক্ষে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। কারন সে সব শিক্ষার্থীর বাবা মা কে আমরা চিনি,তারা আগে আসা রোহিঙ্গা হয়তো স্থানীয় কারো সাথে বিয়ে হয়েছে না হয় কোন বিশেষ ক্ষমতাবান ব্যাক্তির আশ্রয় পশ্রয়ে এখানে প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে তাদের কেউ রোহিঙ্গা বলতেও সাহস করবে না, কারন তারা স্থানীয়দের চেয়ে প্রভাবশালী। আবার কিছু স্থানীয় মানুষ আছে তাদের পক্ষে সাফাই গাইবে। আমাদের মতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি জরিপ চালিয়ে যাদের মা অথবা পিতা রোহিঙ্গা তাদের সনাক্ত করে দ্রুত তাদের শিক্ষা সনদ স্থগিত করা অথবা তাদের শিক্ষা সনদে রোহিঙ্গা শব্ধটি লেখা থাকা দরকার। যাতে তারা কোন সরকারি চাকরীতে প্রবেশ করতে না পারে।
কক্সবাজার শহরের পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃনুরুল ইসলাম বলেন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় স্থান দেওয়া মানে আমাদের স্থানীয় ছেলেমেয়েকে বঞ্চিত করা তাই আমাদের স্কুলে গত বছর ৯ম শ্রেণীতে সেলিনা আক্তার নামের একজন রোহিঙ্গা ছাত্রী পাওয়া গিয়েছিল, আমরা তদন্ত করে প্রমান স্বাপেক্ষে তাকে সাথে সাথে বহিস্কার করেছি। আমার মতে সব শিক্ষা প্রতিষ্টানকে স্বপ্রনোদিত হয়ে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের বাছাই করে বহিস্কার করা উচিত।
তরুন আইনজীবি এড,রিদুয়ান আলী বলেন,গত বছর কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রাহি খুশি নামের একজন আতœস্বীকৃত রোহিঙ্গা তরুনীকে নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল পরে স্থানীয়দের দাবীর মুখে সেই ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক এনজিওদের চাপের মুখে সরকার আবারো সেই রোহিঙ্গা তরুনীকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিয়েছে এতে আমরা হতাশ। কারন এভাবে রোহিঙ্গারা উচ্চ শিক্ষা পেলে তারা এক সময় জাতীয় আর্ন্তজাতিক ভাবে আমাদের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে।
টেকপাড়া এলাকার আরমান জানান,কিছুদিন আগে একটি অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি টেকপাড়াতে এক রোহিঙ্গা নারীর ছেলে মেয়েরা বর্তমানে উচ্চ শিক্ষায় ব্যাস্ত পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সেই রোহিঙ্গা নারীর এক মেয়ে ও এক ছেলে চট্টগ্রামের নামীদামী কলেজে পড়ছে এবং তার ছোট মেয়ে বর্তমানে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। পরে বিষয়টি আমরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে তথ্য প্রমান সহ জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং কলাতলী এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ি রোহিঙ্গা নারীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে তদবির করতে দেখা গেছে।
এদিকে আজ কক্সবাজার সফরে আসছেন সরকারের শিক্ষা উপ মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাই কক্সবাজারের মানুষের গণদাবী দ্রুত রোহিঙ্গাদের উচ্চ শিক্ষা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহ জেলা সমস্ত স্কুল কলেজ মাদ্রায় রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী বাছাই করে তাদের শিক্ষা সনদ বাতিল করার দাবী জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT