শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

পাওয়ার আলী‘র ভাইদের পাওয়ার থেকে বাঁচতে পারেনা কেউ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২১
  • 1409 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার সদর উপজেলার পার্শবর্তী খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল কুদ্দুস,দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বসাবাস করেন তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে। অবসরে যাওয়ার পরে বাড়তি কিছু আয় করার জন্য নিজের জমিতে কিছু দোকান করতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে পিএমখালী ইউনিয়নের ইলিয়াছ প্রকাশ কালু মিস্ত্রির ছেলে আব্বাস সহ আরো কয়েক জন এসে দাবী করে এই জমি তারা কিনেছে। তাই অবসর প্রাপ্ত সেই শিক্ষককে কাজ করতে বাধা দেয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি বরং দীর্ঘ সময় পরেও এখনো নিজের জমিতে কাজ করতে পারছেন না অসহায় শিক্ষক। পরে জানা গেছে আব্বাস আর কেউ নয় বর্তমান সময়ের আলোচিত সৈয়দ মোহাম্মদ আলী প্রকাশ পাওয়ার আলীর আপন ভাই। শিক্ষক নুরুল কুদ্দুস জানান,খুরুশকুল বঙ্গবন্ধু বাজারে আমার বাড়ি সংলগ্ন ১৪ শতক জমি আমার মায়ের ওয়ারিশ সম্পত্তি এবং আর কিছু খরিদা সম্পত্তি। তবে বি.এস রেকর্ড কম হওয়াতে সেই জমি নিয়ে বি.এস সংশোধনী মামলা চলছে তাই খতিয়ান করতে পারিনি। তাই সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে গায়ের জোঁরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি এবং পিএমখালীর আব্বাসরা মিলে দখল করেছে। সে বিষয়ে ২০১৯ সালের ১১ মে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। আমি থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কান্না করে বল্লেও তারা আমার কোন কথা শুনেনি বরং আমার সামনে কার সাথে কথা বলে উল্টো আমাকে অপমান করে বের করে দিয়েছে। এর পরে ১৩ জুন স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দিয়েছি তাও কোন কাজ হয়নি। এখনো আমার জমিতে আমি কাজ করতে চাইলে পারছিনা। তিনি জানান বর্তমানে আব্বাসের ভাই মাহমুদুল করিম সহ সবাই এসে কাজ করতে দিচ্ছেনা। পিএমখালী এলাকার উত্তর ডিকপাড়ার মাস্টার জাফর আলমের ছেলে প্রবাস ফেরত আলতাজ আহামদ অভিযোগ করেন,আমি সারা জীবন প্রবাসে কাটিয়েছি সেখান অনেক কষ্ট করে টাকা আয় করে চেরাংঘাটার পূর্ব পাশের এলাকায় খরুলিয়া মিয়াজী পাড়ার বাসিন্দা ওবায়দুল হাকিম থেকে ২০১১ সালে ৪০ শতক জমি কিনেছি যার খতিয়ান নাম্বার ৩৯৩৭ সেই থেকে উক্ত জমি আমার দখলে পরবর্তীতে ওবায়দুল হাকিমের ভাই থেকে ৬ শতক জমি কিনেছিলাম। পরবর্তীতে জমি দাতারা আমার বিরুদ্ধে একটি আদালতে মামলা করতে সেই মামলাও ২০১৬ সালে ৪ মে কক্সবাজার যুগ্নজেলা জজ আদালত থেকে সুলানামা মুলে আমার নামে ডিক্রি হয়েছে। কিন্ত হঠাৎ করে ২০২০ সালে মার্চ মাসে গোলারপাড়ার দিদারুল আলম,খরুলিয়ার শহিদুল্লাহ,সোলাইমান,সিরাজুল হক আমার জমিতে সাইনবোর্ড দিয়ে জমিটি তারা বায়না করেছে বলে ১০ শতক জমি দখল করে রেখেছে। পরে জানতে পারলাম সেখানে প্রধান হচ্ছে কোন এক বড় ক্ষমতাধর ব্যাক্তি আলীর ভাই দিদার। আমি প্রবাসী মানুষ তাই কোন কিছু চিনিনা পরে বিষয়টি আমরা পরিবারের সবাই গিয়ে আলী কে জানালে তিনি বিচার করবেন বলে জানিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেয় এর পরও কোন কাজ না হওয়ায় গেল ২৭ রজমানের সময় গোলারপাড়া মসজিদে গিয়ে আলীকে দ্বীতিয়বার অভিযোগ করেছিলাম তিনি যদিও ভাইকে আমাদের সামনে বকাঝকা করেছে তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি এখনো আমার জমি তাদের দখলে। বর্তমানে সেখানে কাজ করছে আলীর ভাই দিদার গংরা। তিনি জানান,আমার জমি দখল করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে পুলিশ এনে হয়রানী করেছে তারা। পরে আমিও অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ আমার কোন কথাই শুনেনি বরং আমি থানায় গেলে হাসাহাসি করে,আমি চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চলে এসেছি। এর মধ্যে আলীর আরেক ভাই মাহমুদুল করিম ছোট ভাই দিদারের বিচার করে দেবে বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে সেই টাকাও ফেরত দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের কাগজ পত্র দেখে এডভোকেট বারেক ১৬-২-২০২০একটি লিখিত শালিশী রোয়েদাদ দিয়েছে তারা সেটাও মানেনা সম্পূর্ন গায়ের জোরে আমার মূল্যবান জমি দখল করে সেখানে বাড়িঘর তৈরি করছে। এদিকে জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় পত্রিকায় দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আলীর ভাই দিদার ভুক্তভোগী আলতাজ আহামদকে হত্যার হুমকি এবং পুরুপরিবারকে ভিক্ষা করাবে বলে দেওয়া হুমকির মোবাইল রেকর্ড আছে। বর্তমানে ঈদগাঁও এলাকার ব্যবসায়ি আমান উল্লাহ জানান,প্রায় বছর খানেক আগে হঠাৎ করে আলীর ভাই মাহামুদুল করিম আমাকে ফোন করে বলে,আমার নামে থানায় মামলা হচ্ছে ওসি সাহেব খুব গরম তাই মামলা থেকে বাদ দিতে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। আমি তাৎক্ষনিক ২৭ হাজার টাকা দিয়েছিলাম যার বিকাশ নাম্বার এখনো আমার কাছে আছে। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেব। পিএমখালী ঘাটকুলিয়াপাড়ার কালু সওদাগরের ছেলে জসিম উদ্দিন বলেন,২০২০ সালের ১২ মার্চ আমি এক মহিলার কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে গেলে সেখানে স্থানীয় লোকজন আমাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধরে মারধর করেছে সেখানে মাহমুদুল করিম সমস্ত কিছুর নেতৃত্ব দিয়েছে পরে তিনি থানা থেকে পুলিশ এনে আমাকে অস্ত্র দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটিয়েছে। এদিকে পিএমখালী এলাকার অন্তত শতাধিক মানুষ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে পাওয়ার আলী ভাইদের অত্যাচার অবিচারের কথা,এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট, যে কোন সময় মামলার হুমকি দিয়ে,বিরুধপূর্ন জমি দখল করে,বিচারের নামে সহ নানান ভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আলী ৯ ভাই প্রত্যেকে এখন কোটি পতি। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,গোলারপাড়া এলাকার ইলিয়াছ মাঝি প্রকাশ কালুর ৯ ছেলে বশির,আকতার,আবছার,আব্বাস,সৈয়দ মোহাম্মদ আলী,মাহমুদুল করিম,ছৈয়দ করিম,দিদারুল আলম,মামুন। এর প্রত্যেকে ছিল খুবই সাধারণ যুবক। কেউ বেশিদূর লেখাপড়া করেনি। আলী সহ ৯ ভাইয়ে উত্থান মূলত ৮/৯ বছর ধরে। তার আগে মাহমুদুল করিম গোলারপাড়া এলাকায় একটি পানের দোকান করতো কিন্তু সেই মাহমুদুল করিম এখন কোটিপতি,বাড়ি গাড়ীর মালিক, আব্বাস এক সময় ওয়াল্ডভিশনে জরিপ বিভাগে কর্মচারী ছিল সেখানেও নানান অঘটনার জন্ম দিয়েছেন কর্মজীবনে। সেই আব্বাস এখন টাকার গরমে পা মাটিতে পড়েনা। পুরু পিএমখালী নয় কক্সবাজারের কোন মানুষকে পাত্তায় দেয়না তারা। কথায় কথায় তাদের ভাই পাওয়ার আলীর নানান ক্ষমতার গল্পছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ের মধ্যে রাখে। এ ব্যপারে পিএমখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি জানান,যে ছেলেরা কয়েক বছর আগেও একটি সাইকেল নিয়ে চলাফেরা করতো, সামান্য কাজ করে যাদের দিন চলতো তাদের ক্ষমতা এবং টাকার দাপট দেখলে বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। শুনাযাচ্ছে সম্প্রতী গোলাপাড়ার নুরুল আজিমের ছেলের সাথে মাহমুদুল করিমের মেয়ে বিয়ের কাবিন হয়েছে ৫০ লাখ টাকায়। মূলত আলী সহ তার ভাইরা মানুষকে মানুষ মনে করেনা। এখানে চেয়ারম্যান মেম্বার থেকে শুরু করে কে নির্বাচন করবে এমনকি দলীয় পদপদবী সব কিছু অনেকটা তারা নিয়ন্ত্রন করে আর পিএমখালী হচ্ছে ৯০% প্রবাসী ঘরানার মানুষ তাই এখানে তাদের জন্য টাকার খনি যখন যাকে ইচ্ছা হুমকি ধমকী দিয়ে টাকা আদায় করাই হচ্ছে তাদের কাজ। জনপ্রতিনিধিদের দাবী আলী পরিবারের উত্থানের পেছনে মূল কারন হচ্ছে পুলিশ। আমরা দেখেছি জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনতোনা পুলিশ,কিন্তু আলীর ভাইরা ফোন করলে সাথে সাথে আসে আর তারা যা বলে তাই করে তাই তারা খুব বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তাদের দাবী শুনেছি বর্তমানে সৈয়দ মোহাম্মদ আলীর ব্যাপারে তদন্তে নেমেছে দুদক কিন্তু তার ভাইরা এলাকায় প্রচার করছে এগুলো কোন কিছুই করতে পারবেনা সব সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সামাল দেওয়া হবে। এ ব্যপারে আব্বাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান,খুরুশকুলের নুরুল কুদ্দুস স্যারের জমিতে আমি বাধা দেওয়ার কে,এখনি কাজ শুরু করতে বলেন। আর তিনি ওয়াল্ড ভিশনে কখনো চাকরী করনেনি বলে দাবী করেন। একই সাথে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্র বলেও দাবী করেন তিনি। দিদারুল আলম বলেন,আমি আলতাজ আহামদের জমি দখল করিনি সেখানে সাইনবোর্ড ও দেয়নি আমার জমিতে আমি দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে দিনি বলেন,আমি এলাকায় সামান্য মুদির দোকান করি এর বাইরে আমার কোন ব্যবসা নেই তাই অঢেল সম্পদের কথা সত্যি নয়। এগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন তিনি। আর মাহমুদুল করিমকে ফোন করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যাস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT