শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১
  • 178 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১

সাপ্তাহিক ও একুশে ফেব্রুয়ারির টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। হোটেল-মোটেলগুলোতে ঠাঁই মিলছে না। ট্যুরিস্ট পুলিশের ধারণা, গতকাল শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সৈকতে সমবেত হন প্রায় তিন লাখ পর্যটক। আজ শনিবার এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আগামীকাল রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের সব কক্ষই পর্যটকে ভরপুর থাকবে।
এদিকে শুক্রবার সকালে থেকে রাত অবধি দেখা গেছে, হোটেলে রুম ভাড়া না পেয়ে ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে অনেক পর্যটক অবস্থান করছেন বালিয়াড়িতে। আবার অনেক পর্যটক অবস্থান করছেন সাগরতীরে। আবার কেউ কেউ সড়কে পায়চারি করে সময় পার করছেন। এছাড়াও হোটেল মোটেল রেস্তোরা ও যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন পর্যটকরা।
শুক্রবার সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায়, পর্যটকরা সৈকতে নেমে গোসল করছেন। আরও অনেকেই বালুচরে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। কেউ দ্রুতগতির জেডস্কি নিয়ে নীলজলের বিশাল সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। আবার কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন ছেলেমেয়েদের ঢেউয়ের তালে সমুদ্র স্নানের দৃশ্য দেখে।
সপ্তাহের অন্য ছুটির দিনের চেয়ে একটু আলাদা যেন। কারণ টানা তিন দিন সরকারি ছুটিতে কক্সবাজার পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে। আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা পাল্টে দিয়েছে সৈকতে দৃশ্যপট। তিল ধারণের ঠাঁই নেই সৈকতে। দলে দলে নামছেন তারা। প্রকৃতির বিশালতার কাছে যেন নিজেকে আত্মসমর্পণ।

 

শামীম ও নাসরিন দম্পতি বলেন, “শুক্র, শনি সাপ্তাহিক ও রোববার একুশে ফেব্রুয়ারির টানা ছুটি পেয়ে কক্সবাজারের ছুটে আসা। মূলত কক্সবাজারই আমাদের কাছে ঘুরে বেড়ানো প্রিয় স্থান। খুব ভাল লাগে এখানে।”
রিয়াদ নামের পর্যটক বলেন, “ছুটি পেয়েছি; তাই সুন্দর এই কক্সবাজারে চলে এসেছি। এখানকার অপরূপ প্রকৃতি বেশ ভাল লাগে, কাছে টানে। ফলে ছুটির সময়টা এখানে পাহাড়, সাগর ও প্রকৃতি উপভোগ করব।”
এদিকে পর্যটকের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈকতের ফটোগ্রাফার, ঘোড়াওয়ালা, জেড স্ক্রী ও বাইক চালকরা।
ফটোগ্রাফার কামাল বলেন, বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। পর্যটকের ছবি ভাল আয়ও হচ্ছে। আশা করি, আরও দুই/একদিন ভাল ব্যবসা করব।
জেড স্ক্রী চালক রহিম বলেন, সকাল থেকে হাজার হাজার পর্যটক। এই মৌসুমে মনে হয় সবচেয়ে বেশি পর্যটক এই সময়টাতে এসেছে। পর্যটকরা জেড স্ক্রীতে করে সাগর উপভোগ করছে। ফলে আমাদের ব্যবসাতেও ভাল আয় হচ্ছে।
টানা ছুটিতে পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ :
এদিকে তিনদিনের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামায় হোটেল- মোটেলগুলোতে ঠাঁই মিলছে না। অনেকেই হোটেলে কক্ষ ভাড়া না পেয়ে সমুদ্রসৈকত ও সড়কে পায়চারি করছেন। পর্যটকদের অভিযোগ, হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরা, যানবাহনসহ সবখানে বাড়তি ভাড়া ও অসদচারণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি চরম হয়রানিতে পড়ছেন তারা। এসবের জন্য করোনা ও দালালচক্রকে দুষছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পর্যটকদের হয়রানি নিরসন করা হবে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের যেন মেলা বসেছে। সাপ্তাহিক ও একুশে ফেব্রুিয়ারির টানা ৩ দিনের ছুটিতে তাদের পদচারণায় মুখর সাগরতীরসহ পর্যটন স্পটগুলো। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হোটেলে রুম ভাড়া না পেয়ে ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে অবস্থান করছেন বালিয়াড়িতে। আবার অনেক পর্যটক অবস্থান করছেন সাগরতীরে। ভ্রমণে এসে অনেক পর্যটক হোটেল রুমের জন্য ঘুরছেন। কেউ চাচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়া। পর্যটকদের অভিযোগ, তারা হয়রানি শিকার হচ্ছেন।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে অবস্থান করা পর্যটক ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, হোটেলের রুম আগে বুকিং করেনি। হঠাৎ করে ৫ জনের একটি টিম কক্সবাজারের ছুটে এলাম। কিন্তু সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত হোটেল মোটেল জোনে ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু কোন রুম ভাড়া পায়নি। ফলে এখন সাগরের বালিয়াড়িতে অবস্থান করছি।
প্রধান সড়কস্থ সুগন্ধা পয়েন্টের মোড়ে অবস্থানকারি পর্যটক রায়হান কবির বলেন, “গত বৃহস্পতিবার হোটেল সানসেট রিসোর্টে ১২শ টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে ছিলাম। কিন্তু শুক্রবার (১৯ ফেব্র‍ুয়ারি) রুম থেকে বের করে দিয়েছে। রুমের ভাড়া দ্বিগুণ দিতে চেয়েছিলাম তাও দেয়নি। পরে দেখলাম ১২’শ টাকার ওই রুম ৪ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছে।
পর্যটক শুক্কুর, কাইয়ুম ও ছৈয়দ বলেন, “সী ল্যান্ড গেস্ট হাউসে ১টি রুম ভাড়া চেয়েছিলাম। তারা একদিনের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছে। পরে অতিরিক্ত টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে চলে আসি।”
এদিকে টানা ছুটিতে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া ও হয়রানির জন্য দালালচক্রকে দুষছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সী ল্যান্ড গেস্ট হাউসের ম্যানেজার জাহেদ বলেন, করোনার কারণে আমরা তো পুরো বছরই বসা ছিলাম। আর টানা ছুটির এই ২দিনে কি পুরো বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল ম্যানেজার বলেন, কলাতলী থেকে শুরু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মোড় পর্যন্ত কয়েকটি দালালচক্র রয়েছে। যারা এই টানা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু উপায়ে হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও কটেজগুলোর সাথে এই দালালচক্র জড়িত রয়েছে। তারাই পর্যটকদের হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমুদ্র সৈকত ও সড়কগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অবস্থান দেখা গেলেও হোটেল মোটেল জোনে কোন ধরণের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের লোকজন দেখা যায়নি।
আর ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সাকের আহমদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি পয়েন্ট, পর্যটন স্পট ও বালিয়াড়িতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে আগত পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রয়েছে। সুতরাং যেখানে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হবেন; অভিযোগ পাওয়া মাত্র সেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে সমন্বয় করে ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের হয়রানি নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু হোটেল ও বালিয়াড়ি নয় কিংবা সাগরতীর নয়; অনেক পর্যটক ইনানী, সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, রামুর রামকোট, পাতুয়ারটেক সৈকত দেখতেও ভিড় জমাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT