শিরোনাম :

পরিযায়ী পাখিদের খাদ্য আবাসস্থল ও প্রজনন স্থান দখল করে নিচ্ছে এক শ্রেনীর ভূমিদস্যুরা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, জানুয়ারী ৪, ২০২১
  • 162 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মো. সাইফুল ইসলাম খোকন,
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্থু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারী পার্কের লেকে এখন পরিযায়ী পাখিদের কোলাহলে মুগ্ধ হচ্ছে পর্যটকরা। প্রতি বছর শীত এলে আকাশ পথে বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসে নানা রঙ বেরঙের ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। যা আমরা অতিথি পাখি হিসেবে জানি বা চিনি। অনেকে আবার এসব পাখিকে বলে থাকে যাযাবর পাখি। এক দেশ থেকে অন্য দেশে বা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে নিয়মিতভাবে পরিভ্রমণ করে থাকে তাকে এসব পাখিকে আবার অনেকে ‘উড়ন্ত পথ’ বলে থাকে। এসব পাখির দেখা মেলে জলাশয়, বিল, হাওড়-বাওড়, পুকুর-নদী, নদীর চর ও সাগর-নদীর মোহনায়। শীতের হাত থেকে বাঁচতে যেসব পাখি নিজ দেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। পাখির কোন নির্দিষ্ট দেশ বা সীমারেখা নেই। বাস্তুতত্ত¡ অনুযায়ী বেঁচে থাকতে খাবার, প্রজনন এবং পরিবেশের ভারসাম্য অনুযায়ী এদের দেশ-দেশান্তরে ছুটে যাচ্ছে। আজ এসব পাখিদের বসবাস যোগ্য সব ধরণের স্থান গুলো কম বেশী দখল করে নিচ্ছে এক শ্রেণীর ভুমিদস্যুরা। ফলে তাদের আগমনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে করে অনেক পরিযায়ী পাখি গুলো মহাবিপন্ন হয়ে পড়ছে। এছাড়া বাসস্থান সংকট, বিষটোপ ব্যবহার করে খাদ্যসংকট ও জীবন বিপন্ন করা, শিকার, পাচার ইত্যাদি কারণে আশঙ্কাজনকহারে আমাদের দেশে শীতে পরিযায়ী পাখি আসার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এসব পরিয়ায়ী পাখি গুলোর আগমন বাংলাদেশে বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ আসে। এসব পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ইউরোপ, দূরপ্রাচ্য (যেমন সাইবেরিয়া) থেকেও এসব পাখি আসে। এরা কিছু সময় পর আবার ফিরে যায় আপন দেশে।

ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্থু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারী পার্কের সহকারী তত্বাবধায়ক মো. মাজাহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পরিযায়ী পাখিগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই সুন্দর এদের গায়ের বাহারি রঙ। ওদের দেখলেই মন ভরে যায়। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, আমাদের অনেক উপকারও করে। ফসলে ভাগ বসিয়ে পাখিরা মানুষের যেটুকু ক্ষতি করে, উপকার করে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। পরিযায়ী পাখিদের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এসব পাখি দেশান্তরি হওয়ার আগে প্রচুর পরিমাণে আহার করে শরীরে চর্বি জমায়। কিন্তু এ সঞ্চয় দিয়ে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না, পথে বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতি করে খাবার খায়। কিন্তু প্রতিবছরই দেখা যায় আগের বছরের অনেক জায়গা বসবাস বা খাবার সংগ্রহের উপযোগী থাকে না। ইতিমধ্যে একটানা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। এভাবে দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে বহু পাখি মারা যায়। মানুষের অজ্ঞতা ও অসচেতনতার ফলেও এ দেশে পরিযায়ী পাখিরা আজ বিপন্ন। এশিয়ান ফ্লাইওয়ে হয়ে বাংলাদেশে আসার পথে দীর্ঘ যাত্রায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ছোট ছোট বিলে ক্ষণিকের জন্য বিশ্রাম নেয়। এসময়ের মধ্যেই চোরা শিকারিরা বিপুল পরিমাণে পরিযায়ী পাখি শিকার করে।
পাখি প্রেমিক ও ইঞ্জিনিয়ার সায়েম সাঈদ বলেন, অতিথি পাখির আগমনে আমরা আনন্দিত হই। কিন্তু সম্মানের সাথে তাদেরকে বিদায় জানাতে শিখিনি। পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলকে নিরাপদ রাখা ও পাখিদের বিচরণস্থল সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়া দরকার সরকারের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। এতে শুধু বিপন্ন পরিযায়ী পাখিদের জীবনই রক্ষা পাবেনা, একই সঙ্গে প্রকৃতির ইকো সিস্টেমের ভারসাম্য বজায় থাকবে। প্রকৃতি বাঁচলে, বাঁচবে মানুষ। তাই পাখি হত্যা বা নিধন বন্ধ করায় বন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রশাসন অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এগিয়ে আসা দরকার। পরিযায়ী পাখিসহ দেশীয় পাখি রক্ষার্থে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT