শিরোনাম :

পথে পথে পড়ে ছিল চামড়া,এই শিল্প ধ্বংসের দ্বায় কার ?

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুলাই ২১, ২০২১
  • 62 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম গরুর হাট থেকে ঈদের দুদিন আগে কোরবানির জন্য হাসিলসহ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনেন। আজ (২১ জুলাই) সকালে ঈদের নামাজ পড়ে গরুটি কোরবানি দেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত চামড়া কিনতে কেউ আসেননি। দুপুর দেড়টার দিকে বিক্রি না করে মাদরাসায় দিয়ে দেন তিনি।এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘চামড়া কেনার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি, অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করবে না।’ আগের বছরগুলোতে চামড়া কেনার অনেক লোক পাওয়া যেত। ভালো দামে চামড়া বিক্রি করে তিনি অর্ধেক টাকা মাদরাসায় আর অর্ধেক দরিদ্রদের দান করতেন। কিন্তু এখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনে লাভে বিক্রি করছেন।এদিকে, মৌসুমি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরও চামড়ার ভালো দাম পাননি তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজার কিছুটা ভালো হলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়।
আর সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, যেখানে কম দামেও চামড়া কেনার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তবুও কেন এত হা হুতাশ ব্যবসায়ীদের? তবে কমদামে কেনা চামড়ার লাভ যাচ্ছে কার পকেটে?
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছর পাড়া মহল্লায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে কমবেশি দামে চামড়া কিনলেও এবার সুকৌশলে সিন্ডিকেট করে তারা চামড়া কিনতে বাড়ি বাড়ি ঘোরেননি। গোপনে গোপনে লোক পাঠিয়ে চামড়া কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। আর বলেছেন, চামড়া ফেলে রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে, যা দাম পান ছেড়ে দেন। অনেকেই দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে ক্রেতা না পেয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করেছেন কিংবা মাদরাসায় দান করে দেন। করোনার কারণে এবার মাদরাসা থেকেও সেভাবে শিক্ষার্থীদের কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য পাড়া-মহল্লায় দেখা যায়নি।

জাহিদ আলম নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘চামড়ার ব্যবসা আগের মতো নেই। আগে পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া কিনে চামড়া প্রতি দুই-চারশ টাকা লাভে পাইকার বা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করা যেত। কিন্তু এখন পাইকাররা কেনা দামের চেয়েও কম দামে চামড়া কিনতে চায়। তারা জানে, চামড়া বিক্রি না করলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পুরোটাই লোকসান হবে। এ কারণে তারা কেউ সীমিত লাভে আবার কেউ লোকসানেও চামড়া বিক্রি করেন।’
তার দাবি, মূলত লাভ করেন চামড়ার পাইকারি আড়তদাররা। তিনি আরও বললেন, ‘যারা এ বছর পশু কোরবানি দিয়েছেন তারা চামড়া কেনার লোক খুঁজে পচ্ছেন না। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবাই হা হুতাশ করছেন যে তাদের তেমন মুনাফা হচ্ছে না। তাই সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগে লাভের টকা তাহলে যাচ্ছে কার পকেটে?’

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT