নিজেরাই স্টিকার লাগিয়ে উচ্চ দাম ঠিক করে দোকানদাররাঃ দেখার কেউ নেই

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, মে ১৮, ২০১৯
  • 281 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

 

মাহাবুবুর রহমান.

তরিতরকারি থেকে শুরু করে মাছ মাংস এমন কি কলা থেকে শুরু করে ধান চাল পর্যন্ত বাজার মনিটরিং কমিটির আওতায় এনে কিছুটা হলের নিয়ন্ত্রন করা হয়। কিন্তুর পবিত্র রমজান মাস আসলেই ঈদকে সামনে রেখে কাপড় ব্যবসায়িদের দৌরাত্ব কমানো দায়িত্ব কার ? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের,ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে কিনে এনে নিজেরাই স্টিকারে উচ্চ মূল্যের দাম বসিয়ে বিক্রি করছে অনেক খেত্রে একই কাপড় একেক দোকানে একেক দাম লাগিয়ে বিক্রি করছে। সচেতন মহলের মতে ৭০০ টাকা দামের কাপড় ৩ হাজার টাকা বিক্রি করছে। বিশেষ করে শিশুদের কাপড়ের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে বিক্রি করছে একই সাথে জুতা সেন্ডেলের দামও চরম নৈরাজ্য বলে মনে করছেন সাধারন ক্রেতারা। তাই অন্যান্য সব ব্যবসায়ির মত ঈদ বাজারের এসব ব্যবসায়িদের নজরদাবীর আওতায় আনার দাবী জানান সচেতন মহল।
শহরের টেকপাড়া এলাকার গৃহীনি নাজমা নাসরিন বলেণ,রমজান মাস আসলে রোজার পাশাপাশি ঈদের জন্য ও থাকে ব্যাপক প্রস্তুতি। তাই গতকাল থেকে শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় কয়েকটি শোরুমে ছোট শিশুদের কাপড় কিনতে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে দেখি প্রত্যেকটি কাপড় অতিরিক্ত দাম। একটু ভাল পছন্দসই কাপড় ২ হাজার টাকার কমে নাই। আর সব কাপড়ে শোরুমের নিজস্ব রেইট দিয়ে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্মিজ মার্কেট এলাকার বেবী মম,ফ্যামেলি মাঠ,কিডস ওয়ার্ড,শৈল্পিক,বাঙ্গালী বাবু সহ অনেক দোকানে গিয়ে দেখি প্রত্যেকটি কাপড়ে উনারা নিজস্ব ভাবে দাম লিখে রেখেছে। তবে গ্রাহক হিসাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি কাপড়ে অন্তত ১ হাজার টাকা বেশি লেখা হয়েছে।
এ সময় শহরের ফুলবাড় সড়ক এলাকার ফিরোজ বলেণ,আমি স্বপরিবারে ঈদ বাজারের প্রাথমিক অবস্থা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটি কাপড়ের অনেক দাম আবার কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে একই কাপড় এক দোকানে দাম বলছে ১৮০০ আরেক মার্কেটের অন্য দোকানে ২৫০০ টাকা। বিষয়টি তাৎক্ষনিক সেই সব দোকানদারদের কাছে বল্লে উনারা বলে কাপড়ে পার্থক্য আছে আসলে কিছুই না,মূলত যার যার ইচ্ছামত দাম লিখে স্টিকার ঝুলিয়ে রেখেছে সবাই।
আলাপ কালে আইনজীবি নুর মোহাম্মদ বলেণ,ঈদে ধনী গরীব সবাই নতুন কাপড় কিনে এটা রেওয়াজ। আর সেটাকে টার্গেট করে কাপড়ের দোকানদাররা নতুন কালেকশন এতে বাজারে বিক্রি করে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইদানিং অনেকে সেই বাজারকে অস্থিতিশীল করে ফেলেছে। কয়েক বছর আগে ছোট বাচ্ছাদের কাপড় ৫০০ টাকার ভেতরে পাওয়া যেত কিন্তু এখন ৩ থেকে ৩ হাজার টাকা নীচে একটু ভাল মানের কাপড় পাওয়া যায় না। আর শোরুম গুলো যেভাবে নিজেরা দাম ঠিককরার এখতিয়ার আছে কিনা সেটা প্রশাসনকে ভাল ভাবে নজর রাখতে হবে।আবার দেখা গেছে একই সার্ট এক দোকানে ৮০০ টাকা আবার একই সার্ট প্যাকেট জাত করে আরেক দোকানে বিক্রি করছে ২২০০ টাকা। এ সব বিষয়ে আসলে দেখার কেউ আছে কিনা।
আলাপ কালে জেলা ভোক্তঅধিকার কমিটির সহ সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,তরিতরকারি থেকে শুরু করে মাছ মাংস,খেজুর চাল ডাল সব কিছুই যদি প্রশাসনের আওতাধীন থাকে তাহলে কাপড়ের মার্কেট গুলো কেন নজরদারীর আওতায়আনা যাবে না। অসংখ্য মানুষের অভিযোগ কাপড়ের দোকানে গলাকাটা ব্যবসা হচ্ছে। তাই আমর চাই ঈদ বাজারকে সামনে রেখে কাপড় সহ সব কিছুর তদারকি করা হউক।
এদিকে আলাপ কালে চকরিয়া আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড,লৎফুল কবির বলেন,পর্যটন মৌসুমে হোটেল গুলো কিছুটা দাম বাড়িয়ে রাখছে জাতিয় গণমাধ্যম সহ স্থানীয় সব গণমাধ্যমে সংবাদের শিরুনাম হয়। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট গুলোতে ৫০০ টাকা কাপড় আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এটা দেখা কেউ নেই এবং এটা নিয়ে কোন শিরুনাম হয় না। আমার মতে ভাল মত লেখালেখি করলে এসব বিষয়ে মানুষ সচেতন হত।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT