শিরোনাম :
উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর হাতে অপহৃত ৩ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব নাফ নদীতে অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার ১০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ২ আইনজীবি হলেন স্বামী স্ত্রী জসিম উদ্দিন ও মর্জিনা আক্তার

নাম আদর হলেও চকরিয়ার মানুষের কাছে আতংক তিনি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, এপ্রিল ২৮, ২০২১
  • 220 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১

হাসানুল ইসলাম আদর। বয়স ২৭ এর কাছাকাছি। বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাখিল এলাকায়। তিনি নিজেকে কখনো এমপির এপিএস, কখনো ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সম্পর্ক, কখনো যুবলীগ নেতা, আবার সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গভীর সম্পর্কের পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম ও প্রতারণা করে আসছেন। একসময়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় দল পাল্টিয়ে এখন যুবলীগ নেতা বনে গেছেন। এভাবে নানা অপকর্ম করে অল্পদিনে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
হাসানুল ইসলাম আদর চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বৈরাখিল এলাকার বাসিন্দা মকছুদ আহমদের পুত্র। তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম নয়ন সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও তার পিতা ওই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি।জানা যায়, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের দক্ষিণ পার্শে পূর্ব মাইজপাড়ায় বগাছড়ি ছড়ার উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বেইলী ব্রিজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবদুল মজিদ ও সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ। পরবর্তীতে নির্মাণ কাজে অনিয়মের সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইনে প্রচার হলে ক্ষেপে যান আদর। পরে ওই সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন আদর।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, হাসানুল ইসলাম আদর নিজেকে বর্তমান সাংসদের পিএস পরিচয় দিয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের পদটি ভাগিয়ে নেন। একদিকে এমপির পিএস অন্যদিকে যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক পদ পেয়ে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আদরকে। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, নদী ও ছড়া খাল থেকে বালি উত্তোলন, ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নেয়াসহ এমন কোন কাজ নেই তিনি জড়িত থাকেন না।তার যুবলীগের পদ নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। দুই মাসের জন্য অনুমোদন দিলেও বর্তমানে ওই কমিটির মেয়াদ চার বছর অতিবাহিত হয়েছে। উপজেলা যুবলীগ থেকে বিভিন্ন সময় সম্মেলনের তাগাদা দিলেও নিজেকে বর্তমান সাংসদের পিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে এসব এড়িয়ে যান এই যুবলীগ নেতা।
চকরিয়া থানার সম্মুখে রয়েছে তার আলীশান অফিস। ছড়েন পাজেরো গাড়িতে। ওই অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন নানা অপকর্ম। নিজেকে পিএস পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা তার নিত্যদিনের বিষয়। মানুষকে মামলা দেওয়া এবং অব্যাহতি দেওয়ার নামে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষকে এমনকি নিজ দলের লোকজনকে মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে নিরীহ সাধারণ মানুষকে সে হয়রানি করে চলেছেন। বর্তমানে আদর নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুকপুকুরিয়ায় স্ত্রীর নামে ১৩ কড়া জমি, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ভরামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিসের পাশে ২২ কড়া মূল্যবান জমি ক্রয় করেছেন আদর।
মাতামুহুরী ব্রীজের পাশে দুটি পয়েণ্ট, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা, সাহারবিল ইউনিয়নের পরিষদের পাশে ১টি সহ অন্তত মাতামুহুরী নদীর ১০-১৫টি পয়েন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছেন তিনি।
ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের সামনে তার মালিকাধীন একটি উন্নতমানের সাফারি ক্যান্টিন রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বনভুমি দস্যুতারও অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে উপজেলার খুটাখালী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশতাধিক পাহাড় উজাড় করা হয়েছে। রেললাইনের নির্মাণ কাজে বনভুমির মাটি বিক্রি করে সম্পদ গড়েছেন তিনি।
এদিকে খুটাখালী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তার অত্যাচারে অনেক পরিবার এখন ঘরছাড়া।
হাসানুল ইসলাম আদর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চকরিয়ার কর্মরত চার সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে। সাংবাদিকরা তার অনিয়ম ও লুটপাটের সংবাদ পরিবেশন করায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওই যুবলীগ নেতা।
এব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কচির জানান, সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে উশৃঙ্খল আচরণের দায়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের সদ্য পাওয়া যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে হাসানুল ইসলাম আদরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে থানায় জিডি করিনি। আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, তার পরিবারটি বিএনপি সমর্থিত।
একসময় হাসানুল ইসলাম আদরের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই দূর্বল। বর্তমানে নানা অপকর্ম করে তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকায় তার কোন ভিত্তি নেই। সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবাইর বলেন, সাংবাদিকদের কেউ তার বিরুদ্ধে কোন জিডি বা অভিযোগ দেয়নি। তবে সাংবাদিকদেরকে হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT