শিরোনাম :

নামছে পানি বাড়ছে দূর্ভোগ : ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো সহ দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতীর দাবী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
  • 64 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারের টানা কয়েকদিন ধরে ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। বন্যায় ফসলির জমির পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট। মানুষের চাহিদার তুলনায় খাদ্য সহায়তা এবং ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আবার অনেকে ত্রান বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন।
কক্সবাজার জেলায় কয়েকদিন ধরে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ এবং উখিয়ার ৫১ টি ইউনিয়নের আড়াই লাখ মানুষ। পানিতে ডুবে আছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক এবং কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থান। এসব এলাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছে বন্যার্ত মানুষেরা। চলছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট। ফলে বন্যা দুর্গত এই মানুষ গুলো পড়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে।
আলাপকালে কক্সবাজার সদর উপজেলা পিএমখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদা বলেন,বাংলাবাজার নয়াপাড়া,ডিকপাড়া,স্ইুস গেইট এলাকার অন্তত ২ শতাধিক ঘরে পানি উঠেছিল। এখন পানি নেমেছে তবে এখনো খাবার নেই অনেক পরিবারে। এলাকার বেশির ভাগ মানুষ দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। ত্রাণ সহায়তা বলছে কিছু শুকনো খাবার পেয়েছিলাম। কিন্তু পার্শবর্তি ইউনিয়নে বেশ কয়েক প্রকারের ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে মানুষ। এতে আমাদের এলাকার জনগন আমাদের দোষারুপ করছে,তাই মনে হচ্ছে ত্রাণ তৎপরতায় সেচ্ছাচারিতা হচ্ছে। এদিকে ঈদগাঁও জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসরুল হাসান রাসেদ বলেন,আমার ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি,পানি কিছুটা নামলেও এখনো অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে,ফলে মানুষ কাজে কর্মেও যেতে পারছেনা। সত্যি কথা বলতে অনেক মানুষ ফোন করলে বলছে খাবার ভাগাভাগি করে খাচ্ছে তারা। আর ত্রাণ সহায়তা বলতে তেমন কিছুই পায়নি। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যা কিছুই না। আমার মতে ত্রাণ সহায়তার চেয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রæত উন্নতী করাটা এখন বেশি জরুরী।
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন,বন্যায় আমাদের ৭/৮ টি ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে খাবার পানি সহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমি ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে ইতি মধ্যে ৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা খুবই অপ্রতুল। তিনি বলেন,মানুষের এখন সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যাতায়ত ব্যবস্থা। আমার মতে আগে সে গুলোর দিকে নজর দেওয়া দরকরা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এসব মানুষের জন্য ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। সরকারের পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে স্বাস্থ্য সেবা, রাস্তাঘাট, কৃষি, মৎস্য, লবণ, ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছেন, জেলার ৭১ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভার মধ্যে ৫১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৫২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি টাকা বলে ধারনা করা হচ্ছে। প্লাবিত এলাকার জন্য ইতিমধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৫ লাখ টাকা প্রদান করেছে। পানি শুকিয়ে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে জানা সম্ভব হবে।উল্লেখ্য, গত তিন ধরে ভারি বর্ষণে পাহাড় ধস ও বন্যার পানিতে ভেসে ২০জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT