নবমীতে সমারোহ দশমীতে প্রতিষ্ঠা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯
  • 79 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

শিপন পাল
আজ যে পুজোর প্রচলন তা শরৎকালের দুর্গাপূজা নামেই খ্যাত। তাই একে শারদীয় দুর্গাপুজা বলেই আখ্যায়িত করা হয়। এই দুর্গাপূজা বাঙালী সনাতনী সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ পূজা। এই পূজার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জগৎ জননী দুর্গা দেবীর আগমনী বার্তা প্রতিবৎসর এই ধরিত্রীতে আনন্দের বন্যা বয়ে দেয়। মায়ের এই আগমনকে সামনে রেখে আয়োজিত হয় দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপূজার দুটি বৈশিষ্ট্য; একটি দেবী দুর্গা মাতার আগমনীকে সামনে রেখে পূজো আর অন্যটি বিজয়া দশমী। মাকে আরাধনা করা হয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে তিথিতে।
সপ্তমীÑমায়ের প্রথম পূজা হয় সপ্তমীতে। তাঁকে এই পূজার মাধ্যমে সত্যকে আহবান করা। আলোকিত হয়ে উঠে বিশ^ময়। ক্রমান্বয়ে অপসারিত হয় অন্ধকার। সপ্তমী পূজার মাধ্যমে জ্ঞান-রবির উন্মেষ ঘটে এবং তামসিক ভাব দূরিভূত হয়।
অষ্টমীÑঅষ্টমী পূজার মধ্যদিয়ে তামসিক ভাব কেটে যায়। সাধন জগতে এক স্তর উর্ধ্বে উঠে সাধক। অন্ধকার কেটে গিয়ে পূর্ণরূপে উদ্ভব হয় রাজসিক ভাবের। যার মাধ্যমে অজ্ঞনতা দূর হয় সাধকের।
নবমীÑনবমীতে অন্ধকার সম্পূর্ণরূপে কেটে গিয়ে পৃথিবীর কল্যাণে উদ্ভব হয় সূর্য্যরে ন্যায় নতুন রশ্মি। সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হয় নবমী পূজার মধ্যদিয়ে। সমস্ত বাধা-বিঘœ কেটে যায় এইদিনে। কোন বিষয়ে দ্বিধা থাকে না বলেই নবমী পূজায় হয় এতো সমারোহ! এত ঘটা! নবমী পূজার মাধ্যমে তামসিক ও রাজসিক ভাব সমূলে উৎপাটিত হয়। তাই নবমী পূজাতে এতো আড়ম্বর, এতো আয়োজন।
দশমীÑদশমীতে মাতা দুর্গাদেবীকে দেয়া হয় বিসর্জন। একে বলা হয়েছে বিজয়া। অর্থাৎ সপ্তমীতে তামসিক ভাব, অষ্টমীতে রাজসিক ভাবকে পরিত্যাগ করে দশমীতে সাত্বিক ভাবকে প্রতিষ্ঠা করা। যার মাধ্যমে হৃদয়ে সত্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দশমীতে অর্থাৎ বিজয়ার দিনে বিসর্জন অর্থে তামসিক ও রাজসিক ভাবগুলোকে সমুলে উৎপাঠনের কথা বলা হয়েছে। কাম, ক্রোধ, হিংসা, দ্বেষ, কুটিলতা, মিথ্যা, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি অসত্যের উচ্ছেদ সাধন করে বা বিসর্জন দিয়ে সত্ত্বগুণকে প্রতিষ্ঠা করায় হচ্ছে বিজয়া।
বিজয়া অর্থে বিসর্জন নয়Ñপ্রতিষ্ঠা করাকে বুঝানো হয়েছে। সাত্বিকতা লাভে হৃদয়ের তামসিক ও রাজসিক ভাব পরিহার করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে বিজয়। এইদিন সবার জন্য একটি বড় শুভদিন। এইদিনে আমাদের মধ্যে থাকবে না কোন ধরণের ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য, উচু-নিচু ভাব।
অসুররাজমর্দিনী, পশুরাজবাহিনী আবার কখনো বৃষবাহিনী, কোথাও আবার ব্যাঘ্র বাহিনী দেবী দুর্গা। দক্ষিণে লক্ষ্মী ও গণেশ, বামে সরস্বতী ও কার্তিক, মায়ের চরণ তলে সিংহকে পাশে রেখে আর বাম দিকে মহিষাসুরকে অর্থাৎ অসুরশক্তিকে পদতলে রেখে মা দুর্গা আমাদের মাঝে আবির্ভূতা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ভক্তের কাছে জগন্মাতা দুর্গা তাই দুর্গতিনাশিনী, দুঃখহারিনী আর সংসারী মানুষের কাছে এই রূপটি জগৎপালিকা মাতৃমূর্তি।
দুর্গতি বিনাশের জন্যই দেবী দশভূজার আবির্ভাব। তাই তিনি দুর্গা। শোক, তাপ দগ্ধ মানুষের কাছে তিনি অভয়দাত্রী, তাই দেবী দশভূজা হিসেবে পূজিতা। তাই দেবী মাতা পূজিত হয়ে আসছেন বার বার।
মায়ের এই আগমনে আমাদের সকলের মাঝে বয়ে যাক্ আনন্দের জোয়ার। দূরীভূত হোক অভাব, অভিযোগ, দারিদ্র, হতাশা। হারিয়ে যাক্্ সমস্ত মানুষের মনের বেদনা। মায়ের পূজোর মধ্যদিয়ে বিকশিত হোক ধনী-দরিদ্রের মিলন মেলা, বিলুপ্ত হোক উচু-নীচু ভাব, প্রতিষ্ঠা হোক রাজা-প্রজার মধুর সম্পর্ক। বিশে^ বয়ে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবাইকে জানাচ্ছি শারদীয় শুভেচ্ছা।
লেখকঃ সাংবাদিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT