নতুন বছরে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেখতে চায় কক্সবাজারবাসী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২, ২০২০
  • 66 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে কেটে গেছে ২০১৯। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২০ সাল। তবে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তেমন কোন অগ্রযাত্রা দেখা যাচ্ছেনা। আর সরকারের পক্ষ থেকে নিময় মাফিক সমস্ত চেস্টা করেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সফল হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। ইতি মধ্যে দিন দিন ঘনিভুত হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। ফলে কক্সবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসই হউক নতুন বছরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ এমনটাই দাবী করেছে কক্সবাজারের স্থানীয় সচেতন মহল।
এসেছে নতুন বছর তাই নতুন বছরে কি প্রত্যাশা এমন প্রশ্নের উত্তরে কক্সবাজারের বেশির ভাগ মানুষের প্রত্যাশা আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত ভাল দেখছিনা তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা। জানতে চাইলে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন,যে যাই বলুক আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আমাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত চরম সংকটের মধ্যে আছে। কারন রোহিঙ্গা দিন দিন ভয়ংকর রুপ ধারন করছে। ইতি মধ্যে সক্রিয় ভাবে ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। গত ২ বছরে ইয়াবা বিরুধী অভিযানে নারী সহ ৪৯ জন রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও প্রতি নিয়ত ইয়াবা নিয়ে আটক হচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাই রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত সকল রোহিঙ্গাকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই হবে আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন,সরকার আর্ন্তজাতিক ভাবে নানান ভাবে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে তবে তাদের কূটকৌশলে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছেনা। ২০১৯ সালে ২ বার প্রত্যাবাসন করার জন্য দিনক্ষন নির্ধারণ করলেও সফল না হওয়া আমাদের জন্য খুবই দুঃখ জনক। সরকার যদিও বলছে চেস্টা অব্যাহত আছে কিন্তু সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছিনা এটাই দুঃখ। তাই আমরা চাই যে কোন মূল্যে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হউক।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেণ,আমার মতে রোহিঙ্গাদের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রন দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর রোহিঙ্গারাও দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১২ লাখের বেশি কারন গত ২ বছরে লাখের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে। এভাবে প্রতিদিন তাদের সংখ্যা বাড়ছে এই অবস্থা চলতে থাকলে স্থানীয়রা একদিন পরাধিন হয়ে যাবে। তখন সংখ্যা গরিষ্টতা বিবেচনায় নিয়ে তারা যে কোন দাবী দাওয়া দিয়ে বসতে পারে। তাই জাতীয় সংকট তৈরি না হওয়ার আগে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হউক এটাই একমাত্র প্রত্যাশা। এদিকে কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম,আইনজীবি সমিতির সভাপতি আ.জ.ম মঈন উদ্দিন,জেলা সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী সহ সুশীল সমাজের দাবী রক্তপাত না হওয়ার আগে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে নতুন বছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT