শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

দ্বিতীয় জামিন ছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি মিলেনা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জুন ২০, ২০২১
  • 397 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
আদালতে জামিন হলেও কারাগার থেকে বের হতে দ্বিতীয় বার জামিন নিতে হয় আসামীদের। আর দ্বিতীয় জামিন হচ্ছে টাকা। সম্প্রতী কক্সবাজার কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া কয়েকজনের দেওয়া তথ্যমতে টাকা ছাড়া জামিন দিচ্ছেনা কক্সবাজার কারা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ মারফতে টাকা প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে মিলছে জামিন অন্যথায় দুই বা তিন দিন পরে অনেক কাটখট পুড়িয়ে বের হতে পারছে কয়েদিরা। কেউ টাকা দিতে না পারলে মূল্যবান জিনিস পত্র দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কারাঅভ্যন্তরে আরো অনেক প্রকার অনিয়ম দূর্নীতির তথ্যও জানান তারা। তবে জামিন পেতে টাকা নেওয়া বা অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবী কারা কর্তৃপক্ষের।
তিন দিন আগে কক্সবাজার কারাগার থেকে ৭ মাস পর আদালত থেকে জামিনে বের হন মহেশখালীর একজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি দাবী করেন আদালত থেকে জামিন পেলেও কারাগারে দ্বিতীয় জামিন নিতে হয়। অর্থাৎ এখান থেকে বের হতে হলে কারাকর্তৃপক্ষকে সর্বনি¤œ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খেত্রবিশেষে আরো অনেক বেশি টাকা দিতে হয় তাহলেই যথা সময়ে কারাগার থেকে বের হওয়া যায়। অন্যথায় দুই বা তিন দিন পরে বের হতে পারে। কয়েদিদের নানান ঝামেলায় ফেলে কাগজ পত্র যাচাই বাছাই বা অন্যকোন মামলার কথা বলে বের হতে দেয় না। এছাড়া কারাগারের ভেতরের অনিয়ম দূর্নীতির কথা বলতে গেলে আপনাদের কলমের কালিশেষ হয়ে যাবে লেখা শেষ হবে না। চকরিয়ার সদ্য জামিন হওয়া একজন বলেন,আমি একটি মিথ্যা মামলায় চার মাস জেলে ছিলাম,জেল কি জিনিস সেটা সেখানে বাস্তবে না গেলে কেউ বুঝতে পারবে না। এটা আলাদা পৃথীবি এখানে বাইরের দুনিয়ার নিয়ম চলে না। সেখানে জেলের বা তাদের সৃস্টি করাকিছু নিজস্ব নিয়ম চলে। একটা মানুষ কয়েক বছর জেল খাটলেও জামিন হয়েছে শুনার পর তার জন্য প্রতিটি মিনিট প্রতি মাসের সমান হয়ে যায়। অনেক আসামীকে দেখেছি জামিন হয়েছে শুনে খাবার না খেয়ে,কাপড় চোপড় না নিয়ে খুশিতে চলে আসে। সেখানে তাদের নিয়ে বানিজ্য হয় এটা সত্য। এছাড়া প্রতি মিনিট কথা বলতে গুনতে হয় প্রায় ১০০ টাক,এছাড়া টাকা থাকলে তার জন্য ভাল খাবার,উন্নত বিছানা বা রুম সব কিছু আছে টাকা নাই তার জন্য জেলখানা গজবের হয়ে উঠবে। আর প্রতিবাদতো দূরের কথা বড় করে কেউ কথা বলেলও সমস্যায় পড়তে হয়। তাই কেউ কথার সাহস পায়না। উখিয়ার শাহাবুদ্দিন নামের একজন বলেন,আমার এক আত্বীয় গত সপ্তাহে বের হয়েছে,আদালত থেকে জামিনের কাগজ পৌছেছে দুইটার দিকে,আমাকে বলা হয়েছে সন্ধ্যা নাগাদ বের হতে পারে। পরে রাত ৮ টা বাজেও যখন বের হচ্ছেনা,একজন প্রহরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,কেউ আপনাকে কিছু বলেনি,আমি জানতে চাইলাম কি বিষয়ে তিনি স্পস্ট জানালেন এখানে দ্বিতীয়বার জামিন নিতে হয়,না হলে চলে যান আপনাকে আসতে হবে না,কয়েকদিন পরে আসামী নিজেই পৌছে যাবে। পরে তিনি জানালেন টাকা না দিলে বের হবে না। আমি তাৎক্ষনিক ৫ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিলে আধা ঘন্টার মধ্যে বের হয়ে আসে। এটা আমি প্রয়োজনে যেখানে স্বাক্ষী দিতে হয় সেখানে দেব। তিনি জানান,উখিয়া টেকনাফের বা মাদক মামলার কোন আসামী হলে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ছাড়া কারাগার থেকে বের হতে পারেনা। সরজমিনে গিয়ে কারাগারের সামনের কয়েকটি দোকানে বসে পরিচয় গোপন রেখে বেশ কয়েক জনের সাথে আলাপ করে দ্বিতীয় জামিনের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে,এ সময় সাদা পোষাকে বেশ কয়েকজন কারারক্ষি জামিন হওয়া আসামীর আত্বীয় স্বজন থেকে টাকা আদায় করতে দেখা গেছে। এ সময় এক দোকানদার বলেন,অনেক গরীব মানুষ আছে টাকা দিতে পারেনা তারা অনেক সময় মূল্যবান জিনিস পত্র দিয়ে জামিন করিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় টেকনাফ থেকে আসা আবছার নামের একজন জানান,আমার ভাই জামিন হয়েছে সে মাদক মামলায় জেলে ছিল গতকাল জামিন হয়েছিল তখন টাকা চাইলে দিতে পারিনি তাই আজকে টাকা নিয়ে আসছি এখন দিয়েছি সম্ভবত কিছুক্ষনের মধ্যে বের হবে। (যার ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত আছে )
এ ব্যপারে কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড,জিয়াউদ্দিন আহামদ বলেন,আদালতের মাধ্যমে জামিন হওয়ার পর সেই কাগজ কারাগারে পৌছালে তা যাচাই বাছাই করতে সর্বোচ্চ ২/৩ ঘন্টা সময় লাগার কথা। এর বেশি জামিন হওয়ার পরে কোন আসামী রাখার কোন এখতিয়ার নেই। এর বাইরে কাউকে হয়রানী করা হলে এ বিষয় যদি কেউ আদালতের নজরে আনে তাহলে আমরাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবো।
এ ব্যপারে কক্সবাজার কারাগারের জেল সুপার নেছার আলম বলেন,কক্সবাজার কারাগারকে মডেল কারাগার হিসাবে গড়ে তুলতে আমি কাজ করছি। এখানে কোন অনিয়ম দূর্নীতির সুযোগ নেই। কোন অভিযোগ পেলে তার তথ্য প্রমাণ সহ আসেন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT