শিরোনাম :
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জেলা আনসারও ভিডিপি’র বর্ণাঢ্য পতাকা র‌্যালী অনুষ্ঠিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াতে ইসলামপুরে তরুনীর আত্মহত্যা ঈদগাঁও রাবার ড্রাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিবার্চন সম্পন্ন সড়ক দূর্ঘটনায় মহেশখালী থানার পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু গণপরিবহনে হাফ ভাড়া চান চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা

থেমে নেই ইয়াবার আগ্রাসন

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০
  • 360 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এইচএম এরশাদ
করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর মাদক কারবারি প্রত্যেহ ইয়াবার চালান ঢুকাচ্ছে দেশে। সীমান্তে হঠাৎ করে ইয়াবার আগ্রাসন বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা ও ঘুমধুম-তুমব্রæ সীমান্তে চলছে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য।
জানা গেছে, গত তিনদিনে টেকনাফ, উখিয়া ও ঘুমধুমে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় লক্ষাধিক পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তন্মধ্যে দুই লক্ষ পিস ঘুমধুম ও পার্শ্বস্থ এলাকা থাইংখালী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আটক করেছে মহিলা, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার ১৪কারবারিকে। উল্লেখ্য সীমান্তে হঠাৎ করে ইয়াবা বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খোদ ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকেও। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধৃত চুনোপুটি ছাড়াও এসব চালানের পেছনে গডফাদার কারা- খুঁজে বের করা হবে। স্থানীয়রা বলেন, মাদক কারবারি কারা? মিয়ানমার থেকে কারা ইয়াবার চালান আনছে? কোন রকমের ব্যবসা না থাকা সত্বেও কারা বিপুল টাকা ব্যয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে?। নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছে কারা? তাদের আয়ের উৎস কি? সবই উখিয়া টেকনাফ ও ঘুমধুম পুলিশের কমবেশী জানা রয়েছে। তবুও ধরা পড়ছেনা নব্য গডফাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, কিছু মাদক কারবারির সঙ্গে কতিপয় অসৎ পুলিশের গোপন আঁতাত রয়েছে। বড়মাপের ওই কারবারিরা পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বীরদর্পে চলাফেরা করে এলাকায়। টেকনাফে র‌্যাব সদস্যরা হ্নীলার দক্ষিণ জাদিমোরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে আটক করেছে। র‌্যাব ১৫এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, বুধবার (১জুলাই) মধ্যরাতে র‌্যাব সদস্যরা হ্নীলা জাদিমোরা ফোর স্টার ব্রিকফিল্ডের পূর্বদিকে এবং ওমরখালের উত্তর পাশে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায়। চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাবার সময় ধাওয়া করে ৫০হাজার পিস ইয়াবাসহ জাদিমোরার আলী আহমদের পুত্র ফরিদ আলম, দমদমিয়া নেচার পার্ক ২৭নং ক্যাম্পের সি-ব¬কের রোহিঙ্গা মো: আলমের পুত্র জুবায়ের এবং দক্ষিণ লেগুরবিলের আকবর হোসেনের পুত্র মো: জাফর আলমকে আটক করেছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সীমান্ত এলাকার বেশীরভাগ চিহ্নিত মাদক কারবারি আটক, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও আত্মসমর্পণ করার পর ইয়াবার আগ্রাসন কিছুটা রোধ হয়েছিল। তবে করোনা ভাইরাসে প্রশাসনের লোকজন ব্যস্ত রয়েছে দেখে মাদক কারবারিরা বসে নেই। আবারও ওপার থেকে আনছে ইয়াবার চালান। মিয়ানমার-রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক গঠিত একাধিক সিন্ডিকেটের কারণে ইয়াবার চালান প্রবেশ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মিয়ানমারে থাকতে যেসব রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারে জড়িত ছিল, ওইসব গডফাদার বর্তমানে বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছে। তারাই ওপারে রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে আসছে ইয়াবার চালান। ইয়াবা বিক্রি করে নগদ টাকা কামাই করছে তারা। এদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করেছে ঘুমধুম, কুলালপাড়া, বালুখালী ও রহমতেরবিলের কিছু মাদক কারবারি। বিশেষ করে মিয়ানমার অভ্যন্তরে জিরো লাইনে অবস্থিত কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পই ইয়াবা প্রবেশের মূল উৎস। কেননা মংডুর উত্তরে ইয়াবা তৈরীর একটি কারখানাও নেই। মিয়ানমারে সর্বমোট ৩৭টি ইয়াবা তৈরীর কারখানা রয়েছে মংডু, রাচিদং, বুচিদং ও সিটওয়ে শহরে। যেহেতু তারা এখনও মিয়ানমারে, সেহেতু রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে ইয়াবার চালান সীমান্তে আনতে সহজ হচ্ছে। রাখাইনে স্বাধীনভাবে চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে রোহিঙ্গারা দাবী করলেও ইয়াবার চালান আনতে বিজিপি তাদের বাধা দেয়না বলে জানা গেছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গারা গ্রীন সিগন্যাল পাবার সঙ্গে সঙ্গে দু’দেশের সীমানা চিহ্নিত খাল পার হয়ে নিয়ে আসছে ইয়াবার চালান। রহমতেরবিল, বালুখালী, ঘুমধুমের জলপাইতলী, তুমব্রæ, উত্তরপাড়া, বাইশারি ও চাকমাপাড়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়েই দেশে ঢুকছে ইয়াবার চালান। সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গর্জনিয়া ও কলঘর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ পিস ইয়াবার চালান জব্দ ও এক রোহিঙ্গা গডফাদারসহ চারজন চোরাচালানিকে আটক করেছে। ঘুমধুমে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অর্ধলক্ষ পিস ইয়াবাসহ মো: রশিদ, তার সহোদর লুৎফুর রহমান ও ভগ্নিপতি ছৈয়দ আলমকে আটক করেছে। এর আগের দিন বিজিবি একই এলাকায় বিস্কুটের কাটুনে কুড়িয়ে পেয়েছে ৫০হাজার পিস ইয়াবা। একই দিন থাইংখালী বাজারে অভিযান চালিয়ে বিজিবি ৬০হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে এক রোহিঙ্গাকে। রহমতের বিলের সোহেল সিন্ডিকেটে থাকা কামাল, জামাল, জয়নাল, ঘুমধুমে মো: রশিদ সিন্ডিকেটে দুই সহোদর নুর হোসেন ও ভুল ড্রাইভার, টেকনাফে খারাংখালীর শীর্ষ ইয়াবা কারবারি শেখ শাহ আলম, রফিক, রাশেদ ও নুর মোহাম্মদ অধরা থাকায় সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসা থেমে নেই। তারা বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দিয়ে ইয়াবার চালান আনছে মিয়ানমার থেকে।
সূত্র জানায়, আগে সারা দেশে মাদক সেবনকারীদের জন্য ইয়াবার চালান সরবরাহ করা হতো উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত থেকে। তবে এখন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রæ সীমান্ত হয়ে রামু গর্জনিয়া ও উখিয়ার ডিগলিয়াপালং নিরাপদ মনে করছে ইয়াবা সিন্ডিকেট। র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ ইতোমধ্যে ইয়াবার অসংখ্য চালান জব্দ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক ইয়াবা কারবারি। আটক ও আত্মসমর্পণ করে জেলে রয়েছে অন্তত ৩ শতাধিক ইয়াবা ডন। তারপরও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না তাদের রমরমা ইয়াবা বাণিজ্য। কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি (ইয়াবা কারবারি) ক্ষমতার দাপটে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছ। হাতের কাছে পেয়েও নানা কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। পুলিশ বলছে, মালসহ না পাওয়া গেলে তাদের আটক করা যাচ্ছেনা। কিছুদিন আগে উখিয়ার রহমতেরবিলের ইয়াবা সিন্ডিকেট প্রধান কলিমুল্লাহ ওরফে লাদেন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাবার পর ওই সিন্ডিকেটের হাল ধরেছে মহিলা মেম্বারের পুত্র সোহেল। #

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT