তুমব্রু খালে স্লইস গেইট নির্মাণ করছে মিয়ানমার

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯
  • 257 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

সুজাউদ্দিন রুবেল
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে তুমব্র্রুু খালে পিলার নিমার্ণের পর এবার স্লুইস গেইট নির্মাণ করছে মিয়ানমার। দু’দেশের দুটি সীমান্ত বিওপি থাকা স্বত্ত্বেও চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে মূলত শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের সরাতে এমন পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রোহিঙ্গাদের। খালে পিলার ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের ফলে শূন্যরেখার পাশাপাশি ঘুমধুম পুরো ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠকে স্থাপনা নির্মাণের পরও দু’দেশের পানির গতিপথ স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হলেও, স্লুইচ গেইট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বিজিপির কাছে লিখিত চেয়েছে বিজিবি।
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু খাল। এই খাল দিয়ে দু’দেশের পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু হঠাৎ করে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু দিকে তুমব্রু খালের উপর মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পিলার নির্মাণের কাজ করে মিয়ানমার। এরপর থেকেই ওই স্থানে ধারাবাহিকভাবে পিলারের কাজ চালিয়ে যায় মিয়ানমার। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে দু’দেশের পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে দাবি তুলে ঘুমধুমের স্থানীয়রা।
এরপর এব্যাপারে বারবার মিয়ানমারকে প্রতিবাদলিপি দেয়া হলেও কোন সাড়া দেয়নি। এরপর পিলারের উপর তৈরি করে কাঁটাতারের বেড়া।
তবে তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের দাবি, মূলত তাদেরকে শূন্যরেখা থেকে সরাতে খালের উপর এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ বলেন, তুমব্রু খালে মিয়ানমারের এই স্থাপনার কারণে বর্ষা মৌসুমে পানির ঢল এসে সব তলিয়ে যাবে। আমরা শূন্যরেখায় যেসব রোহিঙ্গা আছি; মূলত তাদের ক্ষতি করার জন্য মিয়ানমারের এই পাঁয়তারা।
আরেক রোহিঙ্গা আরিফ বলেন, বান্দরবান হয়ে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অসংখ্য খাল রয়েছে। কিন্তু ওইখানে তো মিয়ানমার চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ বন্ধের জন্য খালের উপর পিলার ও কাঁটাতার দেয়নি। শুধুমাত্র তুমব্রু খালের উপর মিয়ানমার এই স্থাপনা দিচ্ছে কেন? এতে বুঝা যায় আমাদের সরাতে মূলত এই উদ্যোগ। কিন্তু আমরা এখান থেকে কোথাও সরব না; সরতে হলে এখান থেকে অধিকার নিয়ে নিজদেশ মিয়ানমারে ফিরে যাব।
৩নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, খালে পিলার ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের ফলে শূন্যরেখার পাশাপাশি চলতি বর্ষা মৌসুমে পুরো ঘুমধুম ইউনিয়নের স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। আগে হয় তো ১০ ঘন্টা মানুষ পানিতে কষ্ট পেত। এখন সেটা ১০ দিনের অধিক হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল পিলারের নিচে বসানো হয় বেড়া আকৃতির লোহার পাত। এতে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জোর প্রতিবাদ জানায়। ফলে ৫ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার। কিন্তু৯ এপ্রিল থেকে আবারও কাজ শুরু করে মিয়ানমার। এরপর বিজিবি বারবার প্রতিবাদ লিপি ও যোগাযোগ করার পর এই বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পতাকা বৈঠকে সম্মত হয়।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশীপ ব্রীজ সংলগ্ন সীমান্ত পিলার-৩১/১-এস এর সন্নিকটে বাংলাদেশ পার্শ্বে বিজিবি এবং বিজিপি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এবং মিয়ানমার ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন ১নং বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের অধিনায়ক লে. কর্ণেল ক্যাউ উইন হ্যালিং। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপি চলে এই বৈঠক। এরপর বৈঠক শেষে পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করা হয়।
বৈঠক শেষে এই প্রতিবেদককে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তুমব্রু খাল দিয়ে যাতে কোন ধরণের চোরাচালান পাচার কিংবা সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করতে না পারে তার জন্য এই বেড়া দিচ্ছে। তারা ওই স্থাপনা নির্মাণের ছবি দেখিয়ে আমাদের বর্ণণাও দিয়েছে। এটা মূলত স্লুইচ গেইটের মতো করেছে, যখন পানির ¯্রােত বেড়ে যাবে তখন গেইটটি খুলে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কিন্তু কোন ধরনের সমস্যা হবে না।
তবে এই স্লুইচ গেইটটি কারা ব্যবহার করবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হয়ে গেলে কারা এটির দায়িত্ব থাকবে কিংবা কারা পরিচালনা করবে তাদের সংস্থা ও ব্যক্তিদের নাম্বারসহ পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে পরবর্তীতে বিজিপি জানাবে বলে আমাদের জানায়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT