শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা ঈদগাঁওতে শীতমৌসুমে গরম কাপড় কিনতে ক্রেতাদের ভীড় চকরিয়ায় ১০ ইউপিতে আ‘লীগ ৫ স্বতন্ত্র ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা, মহেশখালীর মেয়রসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা পিএমখালীতে ইয়াবা সহ আটক হোসেনের সিন্ডিকেট এখনো অধরা নাফ নদ থেকে ১ কেজি আইসসহ পাচারকারী আটক

ঢাকায় ইয়াবা সহ আটক ‍নুনিয়ারছড়ার জসিম : তার রয়েছে বড় সিন্ডিকেট

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১
  • 1591 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়ার মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. জসিমের (৪০) ইয়াবা ব্যবসার পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে ডজন সদস্যের শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট। এদের মধ্যে রয়েছে সরকারদলীয় স্থানীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, ধর্মগুরু সহ মোট ১২ জন দুর্দান্ত মাদকবাজ।
সাম্প্রতিক ঘটনাচক্রে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নতুন বিন্যাস সক্রিয় হবার পর থেকেই অত্র এলাকার দীর্ঘদিনের পুরোনো মুখোশধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এক এক করে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ ধরা পড়তে থাকে। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মদক্ষতা ও নিশ্চিদ্র জালে আটকা পড়ে স্মরণকালের বৃহৎ ইয়াবার চালানগুলো এই এলাকা থেকেই ধরা পড়ে। যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য, এতো তৎপরতার পরও ইয়াবা গডফাদার মো. জসিমের সিন্ডিকেটকে একটুও বেগ পেতে হয়নি ইয়াবা পাচারে। কিন্তু কথায় আছে চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন।

সর্বশেষ, গত শনিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৮টায় রাজধানী ঢাকার মুগদা থানা এলাকার মনির মোটরস-এর সামনে থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ৭ হাজার ইয়াবা নিয়ে ৬ সঙ্গী ও প্রাইভেটকারসহ আটক হয় নুনিয়াছড়ার জসিম। ঘটনার পর থেকে নড়েচড়ে বসে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া কেন্দ্রিক জসিমের সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যরা। সিন্ডিকেট প্রধান জসিম আটক হবার সংবাদ ধামাচাপা দিতে নানা অসাধু উপায়ও অবলম্বন করে তারা। অপরাপর সদস্য ও হাইকমান্ডকে নিরাপদে রাখতে নুনিয়াছড়া এলাকার প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গুপ্তচরদের মতো পাহারাদার ও খোচর বসিয়েছে সক্রিয় সদস্যরা।

জানা যায়- জসিমসহ তার মোট চার ভাই ও মামা ফিশারীঘাটে মৎস ব্যবসার আড়ালে এই ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার অপর তিন ভাই হলেন- আমানুল্লাহ আমান (৩৫), নজরুল ইসলাম মুন্না (৪৫) ও কলিম উল্লাহ প্রকাশ পুতু (৩৩)। মূলত সাগর পথে ইয়াবা পাচার ও লেনদেন অধিকতর সহজলভ্য হওয়ায় এই ব্যবসায় সিন্ডিকেটটি কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে।
তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সমাজের কাছে নিজেদের মৎস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় করানোর চেষ্টা করে। এটা মূলত ঢাল হিসেবেই ব্যবহার করে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত। যা ঢাকায় ৭ হাজার ইয়াবাসহ জসিম আটক হবার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়- জসিম আটকের পর তার ভাই আমানুল্লাহ গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করলেও মামা নয়নুল (৩৫) ছিলেন অতিমাত্রায় বেপরোয়া। নয়নুল একই এলাকার মো. হোসেনের পুত্র। সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাদের সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

জসিম আটকের পর থেকে নয়নুলই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে এই সিন্ডিকেটে। রাস্তার মোড়ে অলিগলিতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রশাসনের উপর নজর রাখে এই লোক। ধরা পাকড় এড়াতে প্রয়োগ করেন বিভিন্ন কৌশল।
বর্তমানে তার সহযোগী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে- মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার জুলু মিয়ার পুত্র মুজিব, জাগের হোসেনের পুত্র আমিন (৩২), মমতাজের পুত্র খোকা, সাইফুল ইসলাম বাবু (৫৪), তার স্ত্রী খালেদা (৪৫), উত্তর নুনিয়াছড়ার আবুল হোসেনের গ্যারেজের পেছনের বাড়ির নাছির হোসেন (৩৭), বার্মাইয়্যা গোলাম হোসেন প্রকাশ কামাল উদ্দিনের পুত্র বার্মাইয়া জমির হোসেন (৩৬), বাবু (৩৫) এবং ফিশারী ঘাটের শ্রমিক রংপুরের বাসিন্দা মুবিন (৩৫)।
রংপুরের মুমিনের ব্যাপারে জানা যায়- সে সামান্য মজুরিতে কক্সবাজার ফিশারীঘাটে মৎসশ্রমিক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সে রংপুরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ভাবে অসংখ্য স্থাবর অস্থাবর অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছে। সে রংপুরে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছে বলে প্রতিবেদকের কাছে তথ্য এসেছে।

অন্যদিকে রংপুরের এই মুমিনই আটক ইয়াবা গডফাদার জসিমের ছোট ভাই আমানুল্লাহ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করে থাকে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। মুমিনের মাধ্যমেই আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গ তথা রংপুরে মাদকের সরবরাহ চালু রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদককে আরও জানিয়েছেন- নুনিয়াছড়া এলাকাটি মাদক পাচারের জন্য একটি হটস্পট হয়ে উঠেছে। এই এলাকায় একসাথে দুই গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। বিমানবন্দর ও সাগর পথের মাল (মাদক) খালাসের জন্য স্থাপিত মৎস ঘাট এই এলাকাতে হওয়ায় খুব সহজে ইয়াবা আনায়ন ও পাচার করা সহজ হয়ে উঠেছে। এমনকি সরাসরি মায়ানমার থেকে সাগর পথে ইয়াবা এনে আকাশ পথে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের রংপুরে পর্যন্ত অনায়সে ইয়াবা পাচার হয়ে যাচ্ছে এই এলাকা থেকে সিন্ডিকেটটির মাধ্যমে।
রাজধানী ঢাকার মুগদা থেকে আটক ইয়াবা গডফাদার মো.জসিমের রয়েছে ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান ও স্ত্রী। তার স্ত্রী রাফিয়াও একজন সন্ধিগ্ধ মাদকপাচারকারী বলে প্রচার রয়েছে। তারা গত দীর্ঘ ১০ বৎসর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়।
এবিষয়ে কথা হয় মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এস.আই মানিকের সাথে। তিনি প্রতিবেদককে জানান- জসিম ও তার সিন্ডিকেটের উপর দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখা হচ্ছিলো। তারা কিছুদিন পরপর ঢাকায় যাতায়াত করেন। এভাবে গত ৯ অক্টোবর তাদের ইয়াবাসহ হাতে নাতে আটক করা হয়।
এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন- জসিমের অন্যান্য সঙ্গীদের ব্যাপারে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT